শার্শায় জমি বিরোধ তদন্তে দখলের প্রমাণ মেলেনি, বাড়ি নির্মাণে বাধা নেই: প্রশাসন
বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬ ১০:৪৮ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
যশোরের শার্শা উপজেলার বেনাপোলের ভবারবেড় এলাকায় জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের মধ্যে ব্যবসায়ী মাসুম হোসেনের বাড়ি নির্মাণকাজ নিয়ে নতুন মোড় এসেছে। উপজেলা প্রশাসনের তদন্তে সরকারি জমি দখলের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা না পাওয়ায় নির্মাণকাজে আপাতত কোনো বাধা নেই বলে জানিয়েছেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়াজ মাখদুম।
যশোরের শার্শা উপজেলার বেনাপোলের ভবারবেড় গ্রামের একটি জমিকে কেন্দ্র করে দুই প্রতিবেশীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় সাত বছর আগে ভবারবেড় ৮৮ নম্বর মৌজার আরএস দাগ নম্বর ৬১২-এর ৬ দশমিক ৪৫ শতাংশ জমি ক্রয় করেন ব্যবসায়ী মাসুম হোসেন। সম্প্রতি তিনি ওই জমিতে পাকা বাড়ি নির্মাণ শুরু করলে প্রতিবেশী সাইফুল ইসলাম আদালতে অভিযোগ দায়ের করেন। এর ফলে কিছু সময়ের জন্য নির্মাণকাজ স্থগিত হয়ে যায়।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) শার্শা উপজেলা ভূমি অফিসের তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, অভিযোগের ভিত্তিতে সরেজমিন তদন্ত করে মাসুম হোসেনের ক্রয়কৃত জমির সঙ্গে সরকারি জমির কোনো সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, সরকারি খাস জমির কিছু অংশ দীর্ঘদিন ধরে অন্য ব্যক্তিদের দখলে রয়েছে এবং আলোচ্য জমিতে অভিযুক্ত পক্ষের অবৈধ দখলের প্রমাণও মেলেনি।
এ ঘটনার পর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়াজ মাখদুম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান এবং জানান, আপাতত মাসুম হোসেনের বাড়ি নির্মাণে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো বাধা নেই।
তবে তিনি অভিযোগকারী সাইফুল ইসলামের চলাচলের জন্য ব্যবহৃত পশ্চিম পাশের গলিপথটি আপাতত উন্মুক্ত রাখার অনুরোধ করেন। একই সঙ্গে জানান, ১৯৬২ সালের মৌজা মানচিত্র অনুযায়ী ওই এলাকায় একটি রাস্তার অস্তিত্ব রয়েছে। প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে সেটি চিহ্নিত করে স্থানীয় মানুষের চলাচলের ব্যবস্থা করা হবে।
স্থানীয়দের দাবি, জমি বিরোধকে কেন্দ্র করে মাসুম হোসেনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪, ১৪৫ ও ১৩৩ ধারাসহ বিভিন্ন আইনে একাধিক মামলা করা হয়েছে। এসব মামলার কারণে তিনি আর্থিক ও সামাজিকভাবে ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
মাসুম হোসেনের অভিযোগ, তিনি বৈধভাবে জমি কিনলেও বারবার মামলার মাধ্যমে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। তাঁর দাবি, তাঁর কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদাও দাবি করা হয়েছে। এ ঘটনায় তিনি সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে থানায় চাঁদাবাজির অভিযোগে একটি মামলাও করেছেন। একই সঙ্গে তিনি প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করেছেন।
অন্যদিকে সাইফুল ইসলাম দাবি করেন, মাসুম হোসেন সরকারি জমি দখল করে বাড়ি নির্মাণ করছেন। এ অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্যই তিনি প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জমি-সংক্রান্ত বিরোধের বিষয়টি আইন অনুযায়ী তদন্ত ও প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
১১৫ বার পড়া হয়েছে