এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু, মোট পরীক্ষার্থী ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩
বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬ ৪:২৪ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
সারা দেশে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় শুরু হয়েছে। এবার নিয়মিত ও অনিয়মিত মিলিয়ে মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছেন। তবে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো, নিয়মিত নিবন্ধিত শিক্ষার্থীদের প্রায় ৩৬ শতাংশ এবার পরীক্ষায় অংশ নেয়নি, যা সংশ্লিষ্টদের কাছে উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।
সারা দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে বৃহস্পতিবার থেকে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয়েছে। এ বছর মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে দেশের ২ হাজার ৬৯৭টি কেন্দ্রে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে প্রায় ১৫ লাখ শিক্ষার্থী একাদশ শ্রেণিতে নিবন্ধন করেছিলেন। তবে তাঁদের মধ্যে মাত্র প্রায় সাড়ে ৯ লাখ শিক্ষার্থী এবার এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার জন্য ফরম পূরণ করেছেন। ফলে প্রায় সাড়ে ৫ লাখ নিয়মিত শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন না, যা মোট নিবন্ধিত নিয়মিত শিক্ষার্থীর প্রায় ৩৬ শতাংশ।
গত বছর নিয়মিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরীক্ষায় অংশ না নেওয়ার হার ছিল ২৯ শতাংশের কিছু বেশি। সে সময় নিবন্ধিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে সোয়া ৪ লাখের বেশি পরীক্ষায় বসেননি। তুলনামূলকভাবে এক বছরের ব্যবধানে এ হার প্রায় ৭ শতাংশ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়েছে।
শিক্ষাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, নিয়মিত শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় অনুপস্থিতির এই হার স্বাভাবিকের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। এর পেছনে শিক্ষা থেকে ঝরে পড়া, আর্থিক ও পারিবারিক সমস্যা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিবর্তন কিংবা অন্যান্য সামাজিক কারণ থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পরীক্ষা শুরুর আগে বুধবার সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানান, এবার নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আগামী বছর থেকে মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের বাংলা, ইংরেজিসহ সাধারণ বিষয়গুলোও অভিন্ন প্রশ্নপত্রে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, পরীক্ষা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেউ গুজব বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ালে তাৎক্ষণিকভাবে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরীক্ষার নিরাপত্তা জোরদারে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের কাছে বডি-ওর্ন ক্যামেরা থাকবে বলেও জানানো হয়।
এবার লিখিত পরীক্ষা ২১ দিনের মধ্যে শেষ হবে। যেসব দিন পরীক্ষা থাকবে না, সেসব দিনে পরীক্ষা কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে স্বাভাবিক শ্রেণি কার্যক্রম চলবে বলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।
১১৪ বার পড়া হয়েছে