সর্বশেষ

আন্তর্জাতিক

১৬ শিশুকে ৪ বছর পশুর মতো ঘরে বন্দি, পরিবারই দায়ী

ডেস্ক রিপোর্ট
ডেস্ক রিপোর্ট

বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬ ৪:৫৮ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যের একটি প্রত্যন্ত এলাকার জরাজীর্ণ বাড়ি থেকে একই পরিবারের ১৬ শিশুকে উদ্ধার করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। কর্মকর্তাদের দাবি, শিশুদের দীর্ঘ সময় ধরে অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে একটি ছোট ঘরের মধ্যে আটকে রাখা হয়েছিল। এ ঘটনায় বাবা-মা ও দাদা-দাদিসহ চারজনের বিরুদ্ধে শিশু বিপন্ন করার অভিযোগ আনা হয়েছে।
১৬ শিশু ৪ বছর এই ঘরে বন্দি

যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যের ভিন্টন কাউন্টির হ্যামডেন গ্রামের একটি বাড়ি থেকে ১৬ শিশুকে উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। কর্মকর্তাদের ভাষ্য, শিশুদের গত চার বছরেরও বেশি সময় একটি ছোট ঘরের মধ্যে অত্যন্ত শোচনীয় পরিবেশে রাখা হয়েছিল।

উদ্ধার হওয়া শিশুদের বয়স দেড় বছর থেকে ১৮ বছরের মধ্যে। তাদের মধ্যে ছেলে ও মেয়ে উভয়ই রয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কয়েকজন শিশু কথা বলতে পারে না। ১৮ বছর বয়সী মানসিক প্রতিবন্ধী এক কিশোরী নিজের নামের বানানও বলতে পারেনি।

ভিন্টন কাউন্টির শেরিফ রায়ান কেইন জানান, বাড়ির ভেতরে মানুষের মলমূত্র ও উচ্চমাত্রার ব্যাকটেরিয়াযুক্ত অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ছিল। তাঁর ভাষায়, এটি ছিল অত্যন্ত নোংরা ও উদ্বেগজনক একটি দৃশ্য।

ঘরের ভেতরে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ

ভিন্টন কাউন্টির প্রসিকিউটিং অ্যাটর্নি উইলিয়াম আর্চার বলেন, শিশুদের বাবা-মা এবং দাদা-দাদির বিরুদ্ধে ১৬টি করে দ্বিতীয় ডিগ্রির ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগগুলো শিশু বিপন্ন করার সঙ্গে সম্পর্কিত এবং এতে গুরুতর শারীরিক ক্ষতির বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, এটি মানব পাচারের ঘটনা নয়; বরং একটি পারিবারিক নির্যাতন ও অবহেলার ঘটনা হিসেবে তদন্ত করা হচ্ছে।

ওহাইওর অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যান্ডি উইলসন জানান, অন্য একটি মামলার তদন্তে তল্লাশি পরোয়ানা কার্যকর করতে গিয়ে ঘটনাক্রমে শিশুদের সন্ধান পাওয়া যায়। তিনি বলেন, বাড়িটিতে ১৬টি শিশু রয়েছে—এমন তথ্য আগে কর্তৃপক্ষের জানা ছিল না।

বন্দি করে রাখা হয়েছিলো এই ঘরে

কর্তৃপক্ষের দাবি, শিশুরা বেশির ভাগ সময় প্রায় ১২ ফুট বাই ১২ ফুট আকারের একটি ঘরে কাটিয়েছে। তবে কীভাবে তাদের সেখানে আটকে রাখা হতো, সে বিষয়ে তদন্তের স্বার্থে বিস্তারিত জানানো হয়নি। শেরিফ নিশ্চিত করেছেন, ঘরের ভেতরে কোনো খাঁচা পাওয়া যায়নি।

উদ্ধার হওয়া শিশুদের মধ্যে সাতজনকে কলম্বাসের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দুজনকে হেলিকপ্টারে করে লেভেল–ওয়ান ট্রমা সেন্টারে নেওয়া হয়। কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, একজন শিশুর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাসের সহায়তা দিতে হয়েছে।

বুধবার আদালতে অভিযুক্ত চারজন—গ্যারি সাইডার্স জুনিয়র, গ্যারি সাইডার্স সিনিয়র, ক্রিস্টিনা সাইডার্স ও এলিজাবেথ সাইডার্স—হাজির হন। আদালত তাঁদের পক্ষে ‘দোষী নন’ আবেদন গ্রহণ করেন এবং প্রত্যেকের জামিন ৩ লাখ মার্কিন ডলার নির্ধারণ করেন।

শিশুদের পরিবারের এই চারজনকে পুলিশ তলব করেছে


তদন্তকারীদের দাবি, পরিবারটি গত দুই দশক ধরে দক্ষিণ ওহাইওর বিভিন্ন এলাকায় বসবাস করলেও শিশুদের চিকিৎসা, সরকারি নিবন্ধন কিংবা বিদ্যালয়ে ভর্তি এড়িয়ে চলেছিল। ফলে পরিবারের বাইরের মানুষের কাছে শিশুদের অস্তিত্ব কার্যত অজানাই ছিল।

হ্যামডেন গ্রামের জনসংখ্যা এক হাজারেরও কম। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ওই বাড়িতে এতগুলো শিশু বাস করত—এ তথ্য তাঁদের জানা ছিল না। দীর্ঘদিনের এক প্রতিবেশী বলেন, তিনি কখনো ওই বাড়িতে কোনো শিশুকে দেখেননি।

বর্তমানে রাজ্য সরকার উদ্ধার হওয়া শিশুদের সাময়িক হেফাজত নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের মাধ্যমে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

১২৯ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
আন্তর্জাতিক নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন