ভাঙ্গায় ২ গ্রামে সংঘর্ষে যুবক নিহত, আহত অন্তত ২০; আটক ১৭
বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬ ৬:১০ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় পূর্ব বিরোধের জেরে দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষে সুমন শেখ নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। কয়েক ঘণ্টাব্যাপী এ ঘটনায় পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে পুলিশ ১৭ জনকে আটক করেছে।
ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার কাপুড়িয়া সদরদী ও হাসামদিয়া গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রায় চার মাস আগে ঘটে যাওয়া একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ভাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন এক্সপ্রেসওয়ে এলাকায় দুই পক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মুখোমুখি অবস্থান নেয়। পরে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়লে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে পুরো এলাকা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
রাত সাড়ে ৯টার দিকে সুমন শেখ নামে এক যুবক গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন—এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি আরও অস্থির হয়ে ওঠে। পরে তাঁকে ঢাকায় হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যু হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান। তবে তাঁর মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নিহতের স্বজন ও স্থানীয় বিক্ষুব্ধ লোকজন মহাসড়কে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন। এতে প্রায় তিন ঘণ্টা এক্সপ্রেসওয়েতে যান চলাচল বন্ধ থাকে। ভোগান্তিতে পড়েন দূরপাল্লার যাত্রী ও চালকেরা।
খবর পেয়ে ভাঙ্গা থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। এ সময় উত্তেজিত জনতা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করলে কয়েকজন পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ২০ জন আহত হন।
পরবর্তীতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে রাত ১০টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। এরপর মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কঠোর অবস্থান নিয়েছে। রাতেই অভিযান চালিয়ে ১৭ জনকে আটক করা হয়েছে। তিনি জানান, নিহতের মরদেহের ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।
১১৮ বার পড়া হয়েছে