মুক্তাগাছায় মাদকের আস্তানা ভাঙচুর করেছে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী
বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬ ৬:০০ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলার সত্রাশিয়া বাজারে দীর্ঘদিন ধরে মাদক বিক্রির অভিযোগ থাকা একটি স্থাপনা ভাঙচুর করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এলাকাবাসীর দাবি, এটি ছিল মাদক কারবারের আস্তানা। তবে অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পুলিশ বলছে, অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলার সত্রাশিয়া বাজারে মঙ্গলবার (৩০ জুন) রাতে মাদক বিক্রির অভিযোগে একটি স্থাপনা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে বাজারে একটি স্থানে প্রকাশ্যে মাদক কারবার চলছিল। এ কারণে কয়েকটি গ্রামের মানুষ একত্র হয়ে ওই স্থাপনা ভাঙচুর করেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, চকনারায়নপুর, গাড়াইকুটি, সত্রাশিয়া, সাতাশিয়া, গন্ধর্বপুর ও পাইকাশিমুল গ্রামের বাসিন্দারা এ ঘটনায় অংশ নেন। তাঁদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ওই স্থানে মাদকসেবী ও বখাটেদের আনাগোনা বেড়ে যাওয়ায় ব্যবসা-বাণিজ্য এবং সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছিল। বিশেষ করে নারী ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল বলেও দাবি করেন তাঁরা।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক কারবার পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে। তাঁদের দাবি, বিষয়টি নিয়ে অতীতে প্রতিবাদ করা হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তবে এসব অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম বলেন, বাজারে দীর্ঘদিন ধরে অস্বস্তিকর পরিবেশ বিরাজ করছিল। তাঁর দাবি, মাদকসেবীদের আনাগোনার কারণে ব্যবসা পরিচালনায় সমস্যায় পড়তে হতো।
সিএনজি চালক মোতালেব বলেন, বাজার এলাকায় যাত্রী ও চালকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ ছিল। বিশেষ করে নারী যাত্রীদের চলাচলে ভোগান্তির অভিযোগও করেন তিনি।
অটোরিকশাচালক নাজমুল ইসলাম দাবি করেন, ভাঙচুরের পর অভিযুক্ত ব্যক্তিরা ঘটনাস্থলকে একটি আড়তের অফিস হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করছেন। তবে এ দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় ভ্যানচালক আক্কাস ও মুদি দোকানদার একাব্বর আলীও বাজার এলাকায় মাদকসংক্রান্ত সমস্যার অভিযোগ তুলে দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
সমাজ রূপান্তর সাংস্কৃতিক সংঘের সভাপতি ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, এলাকার মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত আসাদুল হক আসাদের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। তাঁর ভাই আনোয়ারের সঙ্গেও যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ময়মনসিংহ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশের তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে।
১১৬ বার পড়া হয়েছে