যুক্তরাষ্ট্র–ইরান সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর, যুদ্ধবিরতির ঘোষণা
বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬ ৪:৩৯ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান ইলেকট্রনিকভাবে একটি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেছেন বলে দাবি করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান সংঘাতের অবসান এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সমঝোতার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ পরিস্থিতির ওপর এর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান একটি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেছেন, যা ইতোমধ্যে কার্যকর হয়েছে বলে উভয় পক্ষ দাবি করেছে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে বলা হয়, সমঝোতার প্রধান শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে—ইরান ভবিষ্যতে কোনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি বা ক্রয় করবে না, সব ফ্রন্টে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা হবে এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত রাখা হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, চুক্তির এসব শর্ত বাস্তবায়িত হলে তা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে জ্বালানি সরবরাহ, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং আঞ্চলিক কূটনীতিতে এর প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে সমঝোতা কার্যকর হওয়ার দাবির পরও লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। বিষয়টি আলোচনায় এসেছে, কারণ লেবানন-সংক্রান্ত ইস্যুও সমঝোতা স্মারকের আলোচ্য বিষয়গুলোর মধ্যে ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে, হিজবুল্লাহ প্রধান নাঈম কাসেম এই সমঝোতাকে ‘বড় বিজয়’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাঁর মতে, ভবিষ্যতে লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে যেকোনো আলোচনা মূলত পারস্পরিক নিরাপত্তা ও সীমান্ত-সংক্রান্ত বিষয়কে কেন্দ্র করেই হওয়া উচিত।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা এখন চুক্তির বাস্তবায়ন, যুদ্ধবিরতির স্থায়িত্ব এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর রাখছেন। মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় এই সমঝোতা কতটা কার্যকর হবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে উঠেছে।
১১৯ বার পড়া হয়েছে