সদরপুরে তিন দিন ধরে নিখোঁজ শিশু, ফিরিয়ে দিতে ৩ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবির অভিযোগ
বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬ ৬:২২ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর তিন দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছে নয় বছর বয়সী সামিউল মল্লিক। পরিবারের অভিযোগ, নিখোঁজ হওয়ার এক দিন পর একটি ইমো নম্বরে বার্তা পাঠিয়ে শিশুটিকে ফিরিয়ে দিতে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছে। ঘটনাটি এলাকায় উদ্বেগ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের নয়াকান্দি গ্রামের বাসিন্দা মিরাজুল মল্লিকের ছেলে সামিউল মল্লিক (৯) গত সোমবার (১৫ জুন) সকাল সাতটার দিকে একটি বাইসাইকেল নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়। এরপর থেকে তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।
পরিবারের সদস্যরা প্রথমে ধারণা করেছিলেন, সামিউল হয়তো পরিচিত কারও বাড়ি বা আশপাশের কোথাও গেছে। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হলেও সে ফিরে না আসায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন স্বজনেরা।
পারিবারিক সূত্র জানায়, শিশুটির সন্ধানে আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতজনদের নিয়ে বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করা হয়েছে। স্থানীয় মসজিদে মাইকিং করা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার ছবি প্রচার করা হয়েছে এবং বিভিন্ন এলাকায় অনুসন্ধান চালানো হলেও এখন পর্যন্ত তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
এদিকে মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকাল ১০টার দিকে সামিউলের চাচাতো চাচা রবিন মল্লিকের ব্যবহৃত ইমো নম্বরে একটি বার্তা আসে। ওই বার্তায় সামিউলকে ফিরিয়ে দিতে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। তবে বার্তাটি কারা পাঠিয়েছে এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
সামিউলের স্বজনেরা জানান, পরিবারের একমাত্র সন্তান হওয়ায় তার নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় সবাই গভীর উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্যে রয়েছেন। শিশুটির সন্ধান পেতে তাঁরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতা কামনা করেছেন। কেউ সামিউলের সন্ধান পেলে দ্রুত পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করার অনুরোধও জানিয়েছেন তাঁরা।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অনেকেই এটিকে পরিকল্পিত অপহরণের ঘটনা বলে সন্দেহ করলেও তদন্ত শেষ হওয়ার আগে এ বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।
সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল আল মামুন শাহ বলেন, শিশুটির নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তাকে উদ্ধারে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে এবং সম্ভাব্য সব দিক বিবেচনায় তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। দ্রুত শিশুটিকে উদ্ধার এবং ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশ সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
১১৬ বার পড়া হয়েছে