বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক-প্রশাসন দ্বন্দ্ব চরমে, অবাঞ্ছিত উপাচার্য
রবিবার, ১০ মে, ২০২৬ ৩:৩০ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
পদোন্নতি সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের জটিলতা সিন্ডিকেট সভায় সমাধান না হওয়ায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতির অবনতির পর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলমকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছেন এবং পূর্ণাঙ্গ একাডেমিক ও প্রশাসনিক শাটডাউনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
রবিবার বিকেলে শিক্ষক সমাজের পক্ষ থেকে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই ঘোষণা দেওয়া হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ৯ মে অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় চলমান সংকট নিরসনের আশ্বাস থাকলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। বরং উপাচার্য হঠাৎ করে এজেন্ডাবিহীন জরুরি সভা আহ্বান করে একতরফা সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেন, যা অধিকাংশ সদস্যের মতামতের পরিপন্থী।
এর আগে পদোন্নতি জটিলতার প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক ড. রাহাত হোসাইন ফয়সাল পদত্যাগ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, প্রশাসনের সিদ্ধান্তহীনতা ও উপাচার্যের একক সিদ্ধান্তের কারণে শিক্ষকদের ন্যায্য অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। একই সময়ে সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তানভীর কায়সার সিন্ডিকেট সদস্য পদ থেকে অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করেন।
শিক্ষকদের অভিযোগ, বারবার আলোচনা ও আশ্বাস সত্ত্বেও প্রশাসন কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে।
এ অবস্থায় শিক্ষক সমাজের সাধারণ সভায় সিদ্ধান্ত হয়, সোমবার থেকে উপাচার্য অধ্যাপক তৌফিক আলমকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হবে। পাশাপাশি সব ধরনের ক্লাস, পরীক্ষা, প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকবে। আন্দোলনকারীরা প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকেও সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন।
অন্যদিকে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম জানিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান সংবিধি ও নীতিমালা প্রণয়ন ছাড়া শিক্ষকদের পদোন্নতি কার্যকর করা সম্ভব নয়।
১১৯ বার পড়া হয়েছে