মোংলা নদী পারাপারে ভোগান্তি নিরসনে জরুরি বৈঠক, এক সপ্তাহে দৃশ্যমান পদক্ষেপের নির্দেশ
রবিবার, ১০ মে, ২০২৬ ৩:১৬ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
মোংলা নদী পারাপারে দীর্ঘদিনের যাত্রী ভোগান্তি, অব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তাঝুঁকি নিরসনে জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর উদ্যোগে রোববার (১০ মে) মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রশাসনিক ভবনে এ নীতি-নির্ধারণী সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে নতুন পল্টুন স্থাপন, ঘাট উন্নয়ন এবং ২৪ ঘণ্টা ফেরি চলাচল নিশ্চিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পাশাপাশি স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে জেলা প্রশাসককে প্রধান করে ৭ সদস্যের একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি দ্রুত সময়ের মধ্যে সমস্যার কারণ চিহ্নিত করে সমাধানের সুপারিশ দেবে এবং বাস্তবায়ন তদারকি করবে।
বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মোঃ রাতেন-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম। সভায় খুলনা বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার, বিআইডব্লিউটিএ, পানি উন্নয়ন বোর্ড, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর, মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সভায় সিদ্ধান্ত হয়, নদীর দুই তীরে যাত্রী ওঠানামার সুবিধার্থে দ্রুত নতুন পল্টুন নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি পাকা জেটি ও কাঠের ঘাট নির্মাণসহ অবকাঠামো উন্নয়নের বিষয়েও আলোচনা হয়। যাত্রী ও জরুরি যানবাহনের জন্য ২৪ ঘণ্টা ফেরি সার্ভিস চালুর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
বিভাগীয় কমিশনার মোঃ আব্দুল্লাহ হারুন বলেন, মোংলা নদী পারাপারের সমস্যা জাতীয় অর্থনীতির সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। তাই বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে এবং দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হয়েছে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, মোংলা বন্দর দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক কেন্দ্র। সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আর সহ্য করা হবে না। দীর্ঘমেয়াদে নদীর ওপর একটি আধুনিক সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে বলেও তিনি জানান। তবে তার আগ পর্যন্ত ফেরি ও ঘাট ব্যবস্থার আধুনিকায়নই হবে অগ্রাধিকার।
স্থানীয় বাসিন্দারা দীর্ঘদিনের এই সমস্যার দ্রুত সমাধানের দাবি জানিয়ে বলেছেন, পূর্বের অনেক উদ্যোগ বাস্তবায়ন না হওয়ায় এবার কার্যকর পদক্ষেপ দেখতে চান তারা। সাত সদস্যের কমিটির কার্যক্রমের দিকেই এখন সবার নজর।
সংশ্লিষ্টদের আশা, নতুন সিদ্ধান্তগুলো দ্রুত বাস্তবায়িত হলে মোংলা নদী পারাপারের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ অনেকাংশে লাঘব হবে এবং স্থানীয় জনগণের যাতায়াত ব্যবস্থা সহজ ও নিরাপদ হবে।
১৪১ বার পড়া হয়েছে