সর্বশেষ

সারাদেশ

নকলায় হাসপাতালে স্ত্রীর মরদেহ রেখে স্বামী-স্বজনদের পালানোর অভিযোগ

মহিউদ্দিন সোহেল, শেরপুর
মহিউদ্দিন সোহেল, শেরপুর

রবিবার, ১০ মে, ২০২৬ ২:৪০ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
শেরপুরের নকলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শিম্পা খাতুন (২৪) নামে এক গৃহবধূর মরদেহ রেখে স্বামী ও তার পরিবারের সদস্যরা পালিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

রোববার (১০ মে) বেলা ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এতে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, শিম্পা খাতুন অসুস্থ এমন দাবি করে তার স্বামী মহিজুল ইসলামসহ পাঁচজন তাকে নকলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন। কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর স্বজনরা কৌশলে মরদেহ হাসপাতালে রেখেই স্থান ত্যাগ করেন।

নিহত শিম্পা খাতুনের শ্বশুরবাড়ি ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার ১নং ছনধরা ইউনিয়নের লাউয়াই গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের আব্দুল হাইয়ের ছেলে মহিজুল ইসলামের স্ত্রী।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় চার থেকে পাঁচ বছর আগে প্রেমের সম্পর্কের মাধ্যমে শিম্পা ও মহিজুল ইসলামের বিয়ে হয়। উভয়ের বাড়িই ফুলপুর উপজেলায়।

স্থানীয়দের দাবি, গত রাতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে টাকার বিষয় নিয়ে ঝগড়া হয়। ধারণা করা হচ্ছে, এর জের ধরেই এ ঘটনা ঘটতে পারে।

নিহতের বাবা নায়েব আলী অভিযোগ করে বলেন, “আমার মেয়ের বিয়ে হয়েছে পাঁচ-ছয় বছর। বিয়ের পর থেকেই জামাই বিভিন্নভাবে টাকার জন্য নির্যাতন করতো। সে আগে থেকেই জুয়া খেলতো, বিয়ের পর তা আরও বেড়ে যায়। আমি মেয়েকে ১৮ হাজার টাকা দিয়ে একটি মোবাইল কিনে দিয়েছিলাম, সেটি বিক্রি করে আবার টাকা চাইতো। টাকা না দেওয়ায় মেয়ের ওপর নির্যাতন চালিয়েছে। তার মাথায় আঘাত করেছে, মুখ দিয়ে রক্ত বের হতে দেখেছি।”

তিনি আরও বলেন, “এই বিয়েতে আমি রাজি ছিলাম না, পরে সবার অনুরোধে রাজি হই। জামাইয়ের জন্য আমি একটি ভ্যানগাড়িও কিনে দিয়েছি, বসতভিটাও কিনে বাড়ি করে দিয়েছি।”

ফুলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফিরোজ হোসেন বলেন, ঘটনাটি সম্পর্কে তারা জানতে পেরেছেন। খবর পেয়ে পুলিশ টিম পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, গত রাত থেকে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে টাকার বিষয় নিয়ে ঝগড়া চলছিল। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে নকলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রিপন চন্দ্র বলেন, “একজন রোগীকে হাসপাতালে আনা হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এরপর স্বামীসহ স্বজনরা কৌশলে মরদেহ রেখে পালিয়ে যান। খবর পেয়ে পুলিশ সুরতহাল শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে।”

নকলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ইমারজেন্সি মেডিকেল অফিসার ডা. মালিহা নুঝাত বলেন, “সকালে পাঁচজন ব্যক্তি একজন নারীকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। আমরা প্রাথমিকভাবে দেখি, হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। নিশ্চিত হওয়ার জন্য ইসিজি করা হলে রিপোর্টে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হয়। পরে স্বজনদের কাছে কারণ জানতে চাইলে তারা ভিন্ন ভিন্ন তথ্য দেন। এরই মধ্যে তারা কৌশলে হাসপাতাল থেকে চলে যান।”

১২৪ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন