কুষ্টিয়ায় কোরবানি সামনে রেখে দুই লাখের বেশি পশু প্রস্তুত
সোমবার, ৪ মে, ২০২৬ ২:১৭ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে কুষ্টিয়ার গরুর চাহিদা দেশের বিভিন্ন স্থানে ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
ইতোমধ্যে রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বড় বড় শহরে গরু সরবরাহের প্রস্তুতি চলছে। তবে দেশের বাইরে থেকে পশু আমদানি বন্ধের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় খামারিরা।
স্থানীয় প্রাণিসম্পদ অফিস সূত্রে জানা গেছে, কুষ্টিয়ার ছয়টি উপজেলায় ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ১৯ হাজার গরুর খামার রয়েছে। দেশীয় গরুর চাহিদা বাড়ায় জেলার ঘরে ঘরে ও খামারগুলোতে প্রায় দুই লাখ গবাদিপশু মোটাতাজা করা হয়েছে। এর মধ্যে গরু ও মহিষ রয়েছে প্রায় এক লাখ এবং ছাগল ও ভেড়া রয়েছে আরও এক লাখ। শিগগিরই এসব পশু দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হবে।
সদর উপজেলার হরিপুর এলাকার খামারি মোক্তার হোসেন জানান, কুষ্টিয়ার দেশীয় গরুর চাহিদা ঢাকা ও চট্টগ্রামের বাজারেও রয়েছে। কোরবানির হাটে তোলার জন্য গরুগুলোর শেষ মুহূর্তের পরিচর্যায় এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন খামারিরা। তবে গো-খাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তারা। তিনি বলেন, “যদি বাড়তি দামে গরু বিক্রি করতে না পারি, তাহলে লোকসান গুনতে হবে। এমনকি পুঁজি হারানোর আশঙ্কাও রয়েছে।”
অন্য খামারি দেলোয়ার হোসেন বলেন, প্রাকৃতিক পরিবেশে লালন-পালনের কারণে কুষ্টিয়ার গরু দেশজুড়ে জনপ্রিয়। তিনি ঈদে বিদেশি গরু আমদানি না করার দাবি জানিয়ে বলেন, “এ অঞ্চলের মানুষ লাভের আশায় গরু লালন-পালন করে। কিন্তু অনেক সময় ন্যায্য দাম পাওয়া যায় না। এর ওপর যদি বিদেশ থেকে গরু আমদানি করা হয়, তাহলে খামারিরা মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়বে।” তিনি আরও বলেন, চোরাই পথে যাতে দেশে গরু প্রবেশ করতে না পারে, সে বিষয়েও সরকারের নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন।
এ বিষয়ে কুষ্টিয়া জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আল মামুন হাসান মন্ডল বলেন, খামারিদের ক্ষতিকর বা ভেজাল খাদ্য ব্যবহার না করে দেশীয় পদ্ধতিতে গরু মোটাতাজা করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আসন্ন কোরবানির বাজারে খামারিরা তাদের পশুর ন্যায্য মূল্য পাবেন।
১২০ বার পড়া হয়েছে