ভোলাহাটে চাঞ্চল্য: ৭ বছর আগে ‘খুন’ হওয়া তরুণী জীবিত উদ্ধার
সোমবার, ৪ মে, ২০২৬ ২:১২ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাটে একটি অপহরণ ও হত্যা মামলার ভিকটিমকে দীর্ঘ সাত বছর পর জীবিত উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিখোঁজের দীর্ঘ সময় পর ওই তরুণীকে ফিরে পাওয়ায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালের ৩১ মে দুপুরে ভোলাহাট উপজেলার আলমপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. আবুল হোসেন ও মোছা. আদুরী বেগমের মেয়ে মোছা. আয়েশা খাতুন (১৭) নিজ বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন। পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘ সময় সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি।
মেয়ের কোনো হদিস না পেয়ে মা আদুরী বেগম আদালত একটি নালিশি মামলা দায়ের করেন (সি আর মামলা নং-৯৫/২০২৩)। দণ্ডবিধির ৩৬৪/৩০২/১০৯ ধারায় দায়েরকৃত এই মামলায় আয়েশাকে অপহরণের পর হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছিল।
মামলাটি দায়ের হওয়ার পর এর আগে একবার চূড়ান্ত প্রতিবেদন (ফাইনাল রিপোর্ট) দাখিল করা হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে ২০২৪ সালে মামলাটি পুনরায় তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয় (সি আর মামলা নং-১৯৯/২০২৪, ভোলা)। এরপর থেকে ভোলাহাট থানা পুলিশ গুরুত্বের সাথে মামলাটির তদন্ত চালিয়ে আসছিল।
দীর্ঘ তদন্ত ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অবশেষে গত ৩ মে ২০২৬ তারিখ ভোলাহাট ঢাকা বাস স্ট্যান্ড সংলগ্ন বিআরটিসি কাউন্টারের সামনে থেকে আয়েশা খাতুনকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
নিখোঁজ হওয়ার দীর্ঘ সাত বছর পর আয়েশার ফিরে আসার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে। তিনি এতদিন কোথায় এবং কী অবস্থায় ছিলেন, সে বিষয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
ভোলাহাট থানা পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধারকৃত আয়েশা খাতুনের কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। তার জবানবন্দি ও প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এক নজরে মামলার তথ্য:
ভিকটিম: মোছা. আয়েশা খাতুন (নিখোঁজকালীন বয়স ১৭ বছর)।
নিখোঁজের তারিখ: ৩১ মে ২০১৯।
উদ্ধারের তারিখ: ৩ মে ২০২৬।
মামলার ধারা: ৩৬৪ (অপহরণ), ৩০২ (হত্যা) ও ১০৯ (সহায়তা)।
১২১ বার পড়া হয়েছে