সর্বশেষ

সারাদেশ

সোনাইলতলা ইউপি তথ্যসেবা কেন্দ্রের আড়ালে দুর্নীতি, রোষানলে মা-ছেলে

মাসুদ রানা, মোংলা
মাসুদ রানা, মোংলা

সোমবার, ৪ মে, ২০২৬ ২:২৮ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
মোংলা উপজেলার ৫ নম্বর সোনাইলতলা ইউনিয়ন পরিষদের নাগরিক সেবা বর্তমানে এক ব্যক্তির স্বেচ্ছাচারিতার কারণে জিম্মি হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

ইউনিয়ন তথ্যসেবা কেন্দ্রের (উদ্যোক্তা) পদে থাকা অম্বরিশ মজুমদার দীর্ঘদিন ধরে তথ্যসেবার নামে সাধারণ মানুষকে হয়রানি ও জিম্মি করে রাখছেন—এমন অভিযোগ স্থানীয়দের।

স্থানীয়দের অভিযোগ, অম্বরিশ মজুমদার জালিয়াতি, ঘুষ গ্রহণ, জমি দখল এবং প্রতিবাদকারীদের ওপর হামলার মতো কর্মকাণ্ডে জড়িত। এমনকি ক্ষমতার অপব্যবহার করে জোরপূর্বক বাড়ি দখলের চেষ্টা করতে গিয়ে মা-ছেলেকে মারধর করে তাদের হাত-পা ভেঙে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি সোনাইলতলা ইউনিয়নের জয়খাঁ গ্রামে ঘটে। ভুক্তভোগীরা থানায় অভিযোগ দিলেও অম্বরিশের প্রভাবশালী অবস্থানের কারণে তারা ন্যায়বিচার পাচ্ছেন না বলেও দাবি করেছেন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তিনি সোনাইলতলা ইউনিয়ন তথ্যসেবা কেন্দ্রে উদ্যোক্তা হিসেবে দায়িত্ব পান। এরপর থেকেই তিনি ডিজিটাল সেবার আড়ালে একটি জালিয়াতির সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। জন্মনিবন্ধন ও ওয়ারিশ সনদের মতো সেবার জন্য সরকারি ফি’র চেয়ে বহুগুণ বেশি অর্থ আদায় করা হয়, আর টাকা না দিলে সেবাপ্রার্থীদের দীর্ঘদিন ঘোরানো ও দুর্ব্যবহার করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, এই অবৈধ আয়ের মাধ্যমে অম্বরিশ মজুমদার মোংলা ও জয়খাঁ এলাকায় নামে-বেনামে বিপুল সম্পদ, বাড়ি ও গাড়ি গড়ে তুলেছেন। একই সঙ্গে তিনি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকেও অনেক ক্ষেত্রে উপেক্ষা করে নিজের ইচ্ছেমতো অফিস পরিচালনা করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

জয়খাঁ গ্রামের একটি ঘটনায় অভিযোগ রয়েছে, অম্বরিশ ও তার সহযোগীরা পাশের বাড়ির জমি দখলের চেষ্টা চালায়। এতে বাধা দেওয়ায় সৌরভ মন্ডল ও তার মায়ের ওপর হামলা চালানো হয় এবং তাদের গুরুতর আহত করা হয়। বর্তমানে তারা শয্যাশায়ী অবস্থায় রয়েছেন। তবে অভিযোগ, হামলার পরও হুমকির কারণে তারা বাড়ি থেকে বের হতে পারছেন না।

ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, এ বিষয়ে মোংলা থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। তবে অভিযোগ দেওয়ার পর থেকে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য তাদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, অম্বরিশের একটি “হেলমেট বাহিনী” রয়েছে, যারা প্রতিবাদ করলেই ভয়ভীতি ও মিথ্যা মামলার হুমকি দেয়।

এদিকে, সোনাইলতলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নার্জিনা আক্তার নাজিনা বলেন, উদ্যোক্তার বিরুদ্ধে নাগরিক সেবা দিতে গিয়ে অতিরিক্ত টাকা দাবি ও অসদাচরণের একাধিক মৌখিক অভিযোগ তিনি পেয়েছেন। তার মতে, ইউনিয়ন পরিষদের সেবা একজন উদ্যোক্তার কাছে জিম্মি হয়ে পড়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বারবার সতর্ক করা হলেও অম্বরিশ তার আচরণ পরিবর্তন করেননি বলেও তিনি উল্লেখ করেন। সৌরভ মন্ডল ও তার মায়ের ওপর হামলার বিষয়টি তদন্তের দাবি জানান তিনি।

অন্যদিকে, অভিযুক্ত অম্বরিশ মজুমদার সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন। তিনি সরকারি নিয়ম মেনেই সেবা দিয়ে আসছেন বলে দাবি করেন। সৌরভ মন্ডলের পরিবারের সঙ্গে জমি সংক্রান্ত পারিবারিক বিরোধ রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ওই দিন কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে ধস্তাধস্তি হয়েছে, তবে কোনো পৈশাচিক নির্যাতন হয়নি। তার সম্পদ দীর্ঘদিনের পরিশ্রমের ফল বলেও দাবি করেন তিনি।

মোংলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান জানান, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে মা ও ছেলের ওপর হামলার ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে যাদের নাম আসবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান। পাশাপাশি ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সতর্ক রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এ ঘটনায় সোনাইলতলা ইউনিয়নের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা ও নাগরিক সেবা কার্যক্রম নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে এবং ইউনিয়নের সেবা কার্যক্রম স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হবে।

১৭০ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন