গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় ৬নং ওয়ার্ডে শূন্য ইউপি সদস্য পদে জনদুর্ভোগ
সোমবার, ৪ মে, ২০২৬ ২:৪৪ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার পাটগাতি ইউনিয়ন পরিষদের ৬নং ওয়ার্ডে ইউপি সদস্যের শূন্য পদকে কেন্দ্র করে জনদুর্ভোগের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে ওয়ার্ডবাসী মৌলিক নাগরিক সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
ওয়ার্ডবাসীর অভিযোগ, ৬নং ওয়ার্ডের দায়িত্ব যেন ওই ওয়ার্ডেরই কোনো যোগ্য ব্যক্তির হাতে দেওয়া হয়, যাতে তারা দ্রুত ও সঠিকভাবে নাগরিক সেবা পেতে পারেন।
জানা গেছে, পাটগাতি ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য কবির হোসেন ২০২৫ সালের ৩ জুলাই মৃত্যুবরণ করার পর পদটি শূন্য হয়ে যায়। প্রাথমিকভাবে দায়িত্ব দেওয়া হয় সংরক্ষিত মহিলা সদস্য খাদিজা বেগমকে। তবে কিছুদিন পর সেই দায়িত্ব হস্তান্তর করা হয় পাশের ৫নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রঙ্গু খানের কাছে।
৬নং ওয়ার্ডটি মূলত বৃহত্তর শ্রীরামকান্দি গ্রাম নিয়ে গঠিত, যেখানে প্রায় ৪ হাজার ২০০ ভোটার রয়েছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অন্য ওয়ার্ডের একজন সদস্যকে দায়িত্ব দেওয়ায় তিনি এলাকার মানুষের সঙ্গে পরিচিত নন। ফলে বিভিন্ন সনদপত্র প্রদানসহ প্রশাসনিক কাজে সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে।
৬নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা শামসুল হক শেখ বলেন, দায়িত্ব দেওয়ার পর থেকে তারা কোনো ধরনের সেবা পাচ্ছেন না। এমনকি ওয়ারিশ সনদ বা নাগরিক সনদে স্বাক্ষর নেওয়ার ক্ষেত্রেও সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।
একই গ্রামের শেখ আব্দুর রহিম অভিযোগ করেন, ঈদ উপলক্ষে বিতরণযোগ্য চালও অনেকেই পাননি। তালিকাভুক্ত নাম থাকা সত্ত্বেও সহায়তা না পাওয়ার অভিযোগ করেন তিনি।
সাবেক ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক ইউসুফ বলেন, খাদিজা বেগম দায়িত্বে থাকলে গরিব মানুষ উপকৃত হতেন। কিন্তু রঙ্গু খান দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে সেবা কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে বলে তিনি দাবি করেন।
৬নং ওয়ার্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত ইউপি সদস্য রঙ্গু খান বলেন, তার দায়িত্ব হচ্ছে ওয়ারিশ সনদ ও নিবন্ধন সনদ যাচাই-বাছাই করে স্বাক্ষর করা, এবং তিনি তা করছেন।
পাটগাতি ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সুভাষ বিশ্বাস জানান, সংশ্লিষ্ট সদস্যকে ঠিকমতো পাওয়া যাচ্ছে না—এমন অভিযোগ তিনি পেয়েছেন। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জহিরুল আলম বলেন, অভিযোগ তার কাছেও এসেছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত ইউপি সদস্য যদি সঠিকভাবে কাজ না করেন, তাহলে তাকে অপসারণ করে অন্য কাউকে দায়িত্ব দেওয়া হবে।
১১৯ বার পড়া হয়েছে