নতুন প্রস্তাব দিলেও ইরানে ফের হামলার শঙ্কা, উত্তেজনা কমার বদলে বাড়ছে উদ্বেগ
শনিবার, ২ মে, ২০২৬ ২:৪৯ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যে আলোচনার পথ খুলতে নতুন প্রস্তাব পাঠিয়েছে ইরান। পাকিস্তানের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের কাছে এই প্রস্তাব পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হলেও, একই সঙ্গে সম্ভাব্য নতুন হামলার আশঙ্কাও জোরালো হচ্ছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএর খবরে জানা গেছে, তেহরান আনুষ্ঠানিকভাবে প্রস্তাব দিলেও এর বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি। তবে এই খবর প্রকাশের পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কিছুটা কমেছে, যা আগে হরমুজ প্রণালি অবরোধের কারণে বেড়ে গিয়েছিল।
এদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র আবারও হামলা চালাতে পারে। বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেকসান্দার লুকাশেঙ্কো–এর সঙ্গে ফোনালাপে তিনি জানান, ওয়াশিংটনের প্রতি তেহরানের আস্থা পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে।
রয়টার্সের বরাতে ইরানের দুটি উচ্চপর্যায়ের সূত্র জানিয়েছে, সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় দেশটি ইতোমধ্যে আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সক্রিয় করেছে। একই সঙ্গে পাল্টা জবাবের প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে। তাদের ধারণা, যুক্তরাষ্ট্র স্বল্পমেয়াদি কিন্তু তীব্র হামলা চালাতে পারে, যার সুযোগ নিয়ে ইসরায়েল-ও আঘাত হানতে পারে।
গত ৮ এপ্রিল কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি এখনো বহাল থাকলেও তা যে কোনো সময় ভেঙে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-কে নতুন সামরিক পরিকল্পনা নিয়ে ব্রিফ করেছেন দেশটির সামরিক কর্মকর্তারা। মার্কিন সেন্টকম প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার ও জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
মার্কিন রাজনীতিতেও বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ডেমোক্র্যাট সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেন্থাল জানিয়েছেন, ইরানে নতুন সামরিক অভিযান চালানোর বিষয়টি এখনো আলোচনায় রয়েছে এবং এটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
অন্যদিকে, যুদ্ধবিরতির সুযোগ কাজে লাগিয়ে ইরান তাদের সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনে ব্যস্ত বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম। ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র শক্তি পুনরুদ্ধার এবং ধ্বংসস্তূপ থেকে অস্ত্র উদ্ধারে তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে।
মার্কিন দাবি অনুযায়ী ইরানের নৌক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস হয়নি বলেও স্বীকার করেছে পেন্টাগন। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে দ্রুতগতির কিছু আক্রমণাত্মক নৌযান এখনো সক্রিয় রয়েছে।
এদিকে এই সংঘাত যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও নতুন আইনি বিতর্ক তৈরি করেছে। কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া দীর্ঘদিন যুদ্ধ চালানো নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, যা ১৯৭৩ সালের ‘ওয়ার পাওয়ারস রেজোল্যুশন’ আইনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।
বর্তমান পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আন্তোনিও গুতেরেস। তিনি বলেছেন, সংঘাত দ্রুত অবনতির দিকে যাচ্ছে এবং শান্তি ফেরাতে সব পক্ষকে আলোচনায় বসতে হবে।
সব মিলিয়ে, ইরানের নতুন প্রস্তাব সাময়িক আশার আলো দেখালেও যুদ্ধের আশঙ্কা এখনো কাটেনি; বরং পরিস্থিতি আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠছে।
১২৫ বার পড়া হয়েছে