কলাপাড়ায় বজ্রপাতে ২ জন নিহত, ২৯টি গরুর মৃত্যু
বৃহস্পতিবার , ৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ১:২৩ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলায় টানা দুই দিনের বৃষ্টি ও বজ্রপাতে অন্তত ২ জন মানুষ ও ২৯টি গরুর মৃত্যু হয়েছে।
এ ঘটনায় ২৩ জন কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ। তবে স্থানীয়দের দাবি, বাস্তবে মৃত গবাদিপশুর সংখ্যা আরও বেশি। কৃষকদের হিসেবে, এই দুর্যোগে প্রায় ৬০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্যে রয়েছেন ধুলাসার ইউনিয়নের তারিকাটা গ্রামের দেলোয়ার হোসেন, বালিয়াতলী ইউনিয়নের দক্ষিণ বালিয়াতলী গ্রামের ইব্রাহিম হাওলাদার, বালিয়াতলী গ্রামের হাবিবুল্লাহ, রিফিউজিপাড়ার শাহিদা বেগম, মধুখালী ইউনিয়নের মধুখালী গ্রামের আনেচ খান ও এনায়েত তালুকদার, এবং মহিপুর ইউনিয়নের কমরপুর গ্রামের নূর হোসেনসহ আরও অনেকে।
ক্ষতিগ্রস্তদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার দুপুরে আকস্মিকভাবে শুরু হওয়া কালবৈশাখী ঝড়ের সঙ্গে বজ্রবৃষ্টিতে পুরো এলাকা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। বজ্রপাতে শুধু দুধের গাভিই নয়, ছোট বাছুর এবং কোরবানির জন্য মোটাতাজা করা গরুও মারা গেছে। কয়েক দিনের মধ্যেই এসব গরু বিক্রির পরিকল্পনা ছিল কৃষকদের। কিন্তু এই দুর্যোগে তাদের সেই স্বপ্ন ভেঙে গেছে।
মিঠাগঞ্জ ইউনিয়নের আজিমদ্দিন গ্রামের প্রান্তিক কৃষক রুহুল আমিন খান জানান, বুধবার দুপুরে মাঠে বাঁধা থাকা তার দুধেল গরুটি বজ্রপাতে মুহূর্তেই মারা যায়। এতে তার প্রায় এক লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
এদিকে বজ্রপাতের শব্দে সেতারা বেগম (৫৫) নামে এক কৃষাণীর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার দুপুর ২টার দিকে উপজেলার চাকামইয়া ইউনিয়নের পূর্ব চাকামইয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। তিনি বাড়ির পাশে খোলা মাঠে গরু নিয়ে ঘাস খাওয়াতে যাচ্ছিলেন। সেতারা বেগম ওই গ্রামের মো. বাদশা মিয়ার স্ত্রী।
অন্যদিকে ধুলাসার ইউনিয়নের নয়াকাটা গ্রামে ইউনুস মিস্ত্রীর ছেলে মো. জহির (সময়: দুপুর ১টা) গরুর জন্য ঘাস কাটতে গিয়ে বজ্রপাতের শব্দে মারা যান।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. মারুফ বিল্লাহ বলেন, “মঙ্গলবার ও বুধবারের বজ্রপাতে মোট ২৯টি গরুর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। এতে ২৩ জন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। তবে বাস্তবে মৃত গরুর সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।”
কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাউছার হামিদ জানান, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় সরকারিভাবে ঘরবাড়ি মেরামতের জন্য নগদ অর্থ, খাদ্য ও ঢেউটিন দেওয়া হচ্ছে। বজ্রপাতে ক্ষতিগ্রস্ত গবাদিপশুর মালিকদের তালিকা করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।
১২০ বার পড়া হয়েছে