'অনেক কষ্টে আছি, রাস্তাটা হাইরা দেন বাবা'
সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬ ৮:৩০ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর মন্ডলপাড়া থেকে শাহজাদপুরের বেনুটিয়া-আহমেদপুর পর্যন্ত প্রায় ২৯ কিলোমিটার দীর্ঘ মাটির ও কাদাময় সড়কটি এখন মানুষের অবর্ণনীয় দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
খানাখন্দে ভরা এই সড়কে যানবাহন চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। বৃষ্টির সময় পুরো রাস্তা কাদায় পরিণত হওয়ায় হাঁটাচলাও কঠিন হয়ে পড়ে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রাস্তাটি যেন এখন “কান্নার সড়ক”। বৃদ্ধা মোছাম্মৎ গোলেবানু (৮০) ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “মাটি-কাদার রাস্তা, কোনো গাড়ি চলে না। ভ্যান-ট্যানও ঠিকমতো চলে না। চলাফেরা খুব কষ্টকর। রাস্তাটা হাইরা দেন বাবা। হাসপাতালে যাওয়া যায় না, অনেক কষ্টে আছি।”
তিনি আরও জানান, জরুরি প্রয়োজনে, বিশেষ করে প্রসূতি রোগীকে হাসপাতালে নেওয়াও সম্ভব হয় না। এ অবস্থায় এলাকাবাসী চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
জানা যায়, প্রায় ৬ বছর আগে যমুনা ও হুরাসাগর নদীর তীরবর্তী শাহজাদপুরের পাঁচিল থেকে আহমেদপুর পর্যন্ত ৪০ ফুট প্রস্থে ২১ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের রাস্তা ১৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়। কিন্তু নির্মাণের পর পাকা না হওয়ায় দুই বছরের মধ্যেই বিভিন্ন স্থানে ভেঙে যায়।
এরপর মোনাকষা থেকে এনায়েতপুর মন্ডলপাড়া সড়ক প্রশস্ত ও উঁচু করার অংশ হিসেবে পুরোনো রাস্তা ভেঙে ২৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ৮ কিলোমিটার মাটির নতুন রাস্তা নির্মাণ করা হয়, যার কাজ প্রায় ছয় মাস আগে শেষ হয়। তবে সৈয়দপুর, পাঁচিল, রূপসী, খোকশাবাড়ীসহ বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দ সৃষ্টি হওয়ায় পুরো ২৯ কিলোমিটার সড়ক এখন চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা বাবুল হোসেন, রফিকুল ইসলাম ও ব্যবসায়ী হাজী আবুল হোসেন বলেন, “দেড় বছর ধরে আমরা চরম ভোগান্তিতে আছি। বৃষ্টি হলে পুরো রাস্তা কাদায় পরিণত হয়। যানবাহন তো দূরের কথা, হাঁটাও কঠিন হয়ে যায়। বাজার, স্কুল-কলেজ, হাসপাতালে যাতায়াত বন্ধ হওয়ার উপক্রম।”
অন্যদিকে শিবপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইয়াকুব হোসেন, সমাজসেবক হাজী আজহার উদ্দিন, হাজী মীর জাহাঙ্গীর হোসেন ও শাহরিয়ার ইমন জানান, পাবনা ও সিরাজগঞ্জ জেলার দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি উপজেলার লাখো মানুষ এই সড়কের ওপর নির্ভরশীল। ছাত্রছাত্রীদের স্কুলে যাওয়া, কাপড় ব্যবসা ও হাট-বাজারে যাতায়াত মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
তাদের অভিযোগ, ভ্যান বা রিকশায় যেখানে আগে ১৫ টাকা খরচ হতো, এখন সেখানে ৬০ টাকা পর্যন্ত লাগছে। জরুরি রোগী পরিবহনও কঠিন হয়ে পড়েছে। তারা দ্রুত সড়কটি সংস্কারের দাবি জানান এবং বলেন, “এভাবে চলতে থাকলে আন্দোলন ছাড়া উপায় থাকবে না।”
এদিকে সড়ক ও জনপথ বিভাগের অধীনে থাকা এই গুরুত্বপূর্ণ সড়ক নিয়ে সমন্বিত মহাপরিকল্পনার কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। জানা গেছে, সিরাজগঞ্জের সয়দাবাদ–এনায়েতপুর ও কৈজুরী–বেড়া মাটির বাঁধসহ তিনটি সড়ক মিলিয়ে ৮৮ কিলোমিটার মহাসড়ক নির্মাণের জন্য ১ হাজার ৭৫৫ কোটি টাকার প্রকল্প এবং বেড়ায় বড়াল নদীর ওপর ৯০০ মিটার দীর্ঘ দৃষ্টিনন্দন সেতু নির্মাণের আরেকটি প্রকল্প প্রস্তুত করা হচ্ছে।
সিরাজগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইমরান ফারহান সুমেল জানান, “প্রকল্পের নকশা সংশোধন করে নতুন করে প্রণয়ন করা হয়েছে। শিগগিরই এটি অধিদপ্তরে অনুমোদনের জন্য যাবে। আশা করছি ২-৩ মাসের মধ্যে অনুমোদন পেয়ে টেন্ডারের মাধ্যমে কাজ শুরু করা যাবে।”
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে এই দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটানো হবে এবং সড়কটি স্থায়ীভাবে উন্নত মানের মহাসড়কে রূপান্তরিত হবে।
১২০ বার পড়া হয়েছে