ফতুল্লায় ১১ বছরের শিশু হত্যা: ‘জেল জীবন দেখার কৌতূহল’ থেকেই নৃশংসতা
সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬ ৯:৫৪ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় ১১ বছর বয়সী শিশু হোসাইনকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে তারই সমবয়সী কিশোরদের একটি দল।
চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে উঠে এসেছে অবিশ্বাস্য কারণ—জেল জীবন কেমন, সেই কৌতূহল থেকেই তারা পরিকল্পিতভাবে এই অপরাধ সংঘটিত করে।
সোমবার নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান মুন্সি এক সংবাদ সম্মেলনে হত্যার রহস্য উন্মোচন করেন। তিনি জানান, নিহত হোসাইন তার বাবার সঙ্গে শহরে ফুল বিক্রি করত। গত ১৮ এপ্রিল সকাল থেকে সে নিখোঁজ ছিল। পরে ২৩ এপ্রিল শুক্রবার বিকেলে দাপা ইদ্রাকপুর ব্যাংক কলনি এলাকার মিঠুমিয়ার পরিত্যক্ত বাড়ি থেকে পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে।
পরে তদন্তে জানা যায়, ফতুল্লা রেলস্টেশন সংলগ্ন একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে নিয়মিত আড্ডা দেওয়া ও মাদক সেবনকারী কয়েকজন কিশোর তাকে পরিকল্পিতভাবে ডেকে নিয়ে হত্যা করে।
পুলিশ সুপার আরও জানান, ঘটনার দিন সাইফুল, তানভীর ও ইউনুস নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে “খুন করলে জেলে যেতে হয়”—এই অভিজ্ঞতা নেওয়ার কৌতূহল থেকেই হত্যার পরিকল্পনা করে। এরপর রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়া হোসাইনকে গাঁজা সেবনের প্রলোভন দেখিয়ে নির্ধারিত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আগে থেকেই উপস্থিত ছিল তাদের আরও তিন বন্ধু রাহাত, হোসাইন ও ওমর। পরে সবাই মিলে তাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে পরিত্যক্ত বাড়িতে লাশ ফেলে পালিয়ে যায়।
ঘটনার পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে প্রথমে ইয়াসিনকে গ্রেপ্তার করে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমে আরও পাঁচ কিশোরকে আটক করা হয়। পুলিশ জানায়, মোট ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যার মধ্যে ৪ জন এজাহারভুক্ত আসামি। তদন্তে আরও ২ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। পরে মামলার এজাহারনামীয় ১ নম্বর আসামি ইয়াসিন ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় আরও একজন পলাতক রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
১১৮ বার পড়া হয়েছে