লিমনের দেহাবশেষের কাছেই মিলল আরেকটি খণ্ড, তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য
সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬ ৮:০১ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমনের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনার পর একই অঞ্চলে আরও একটি খণ্ডিত মরদেহের অংশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
লিমনের দেহাবশেষ যেখানে পাওয়া গিয়েছিল, সেখান থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার (২২ মাইল) দূরে এই নতুন দেহাংশ উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয় সময় রোববার (২৬ এপ্রিল) বিকেলে হিলসবরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, পিনেলাস কাউন্টির একটি জলাশয় থেকে যৌথ অভিযানে দেহাবশেষটি উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযানটি পরিচালনা করে হিলসবরো ও পিনেলাস কাউন্টির শেরিফ দপ্তর। ইন্টারস্টেট ২৭৫ ও ফোর্থ স্ট্রিট নর্থ সংলগ্ন এলাকা থেকে দেহাংশটি পাওয়া যায়।
পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার করা দেহাবশেষ বর্তমানে পিনেলাস কাউন্টি মেডিক্যাল এক্সামিনারের দপ্তরে সংরক্ষণ করা হয়েছে। ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। এটি নারী না পুরুষের দেহাংশ—তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ময়নাতদন্ত শেষে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।
জনসংযোগ দপ্তর জানিয়েছে, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং নিখোঁজ ব্যক্তিদের তালিকার সঙ্গে দেহাবশেষের মিল খোঁজা হচ্ছে।
এদিকে, দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীকে হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া হিশাম আবুগারবিয়ার জামিন না দেওয়ার আবেদন করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। আদালতে জমা দেওয়া নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, লাশ গোপন করার উপায় জানতে তিনি একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্ল্যাটফর্মে প্রশ্ন করেছিলেন।
নথি অনুযায়ী, হিশাম প্রশ্ন করেছিলেন—‘একজন মানুষকে কালো ময়লার ব্যাগে ভরে ডাস্টবিনে ফেললে কী হয়?’ জবাবে প্ল্যাটফর্মটি জানায়, ‘এটি বিপজ্জনক শোনাচ্ছে।’ এরপর তিনি জানতে চান, ‘তারা কীভাবে জানতে পারবে?’
তদন্তে আরও জানা গেছে, নিখোঁজ হওয়ার তিন দিন আগে (১৩ এপ্রিল) তিনি এসব প্রশ্ন করেন। হিশামের এক রুমমেট জানান, ১৭ এপ্রিল তাকে কিছু কার্ডবোর্ডের বাক্স অ্যাপার্টমেন্টের ডাস্টবিনে ফেলতে দেখা যায়। পরে ওই ডাস্টবিন থেকে লিমনের স্টুডেন্ট আইডি ও ক্রেডিট কার্ড উদ্ধার করা হয়।
গত শুক্রবার লিমনের মরদেহ উদ্ধারের পর হিশামকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি লিমনের রুমমেট এবং ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার শিক্ষার্থী। ১৬ এপ্রিল লিমন ও তাঁর বান্ধবী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি নিখোঁজ হন। এই ঘটনায় দুজনকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে হিশামের বিরুদ্ধে।
আদালতের নথিতে আরও বলা হয়, ডাস্টবিনে পাওয়া একটি ধূসর টি-শার্টে থাকা ডিএনএ লিমনের সঙ্গে মিলতে পারে। এছাড়া একটি কিচেন ম্যাটে বৃষ্টির জেনেটিক উপাদান পাওয়া গেছে।
তদন্তকারীরা জানান, একটি মোটা ময়লার ব্যাগে লিমনের দেহের অংশ পাওয়া যায়, যেখান থেকে পচনের গন্ধ বের হচ্ছিল। প্রাথমিক ময়নাতদন্তে ধারণা করা হয়েছে, একাধিক ধারালো আঘাতে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে, বৃষ্টির জীবিত থাকার কোনো প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, তাঁর দেহও সরিয়ে ফেলা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, রোববার বৃষ্টিকে খোঁজার সময় মানবদেহের আরও কিছু অংশ পাওয়া গেলেও তা এখনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
তদন্তে আরও উঠে এসেছে, ঘটনার রাতে হিশাম ময়লার ব্যাগ ও জীবাণুনাশক তরল কিনেছিলেন। তাঁর অ্যাপার্টমেন্টে রক্তের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এছাড়া বৃষ্টির মোবাইল ফোনের গোলাপি কভারসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র তিনি ফেলে দেন।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হিশাম প্রথমে কিছু না জানার কথা বললেও পরে বক্তব্য পরিবর্তন করেন। তিনি দাবি করেন, ১৬ এপ্রিল তিনি লিমন ও বৃষ্টিকে ক্লিয়ারওয়াটার এলাকায় নামিয়ে দেন। তবে কেন সেখানে নামিয়ে দেন, সে বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা দেননি।
পুলিশ ক্লিয়ারওয়াটারের পথে একটি সেতুর কাছ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে। বৃষ্টির সন্ধানে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড সেতুর আশপাশে তল্লাশি চালিয়েছে মেরিন ও ডাইভ দল।
এফবিআইয়ের সাবেক বিশেষ এজেন্ট ড. ব্রায়ানা ফক্স বলেন, প্রমাণগুলো ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকায় এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের চেয়ে আকস্মিক রাগের বহিঃপ্রকাশ বলে মনে হচ্ছে। তাঁর মতে, এমন ঘটনায় অর্থ, ঈর্ষা বা ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব সাধারণত কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
হিলসবরো কাউন্টির শেরিফ চ্যাড ক্রোনিস্টার বলেন, “এটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও হৃদয়বিদারক ঘটনা। আমাদের গোয়েন্দারা নিরলসভাবে কাজ করছেন এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে।”
উল্লেখ্য, ২৭ বছর বয়সী দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি ১৬ এপ্রিল ফ্লোরিডার টাম্পা থেকে নিখোঁজ হন।
১২৬ বার পড়া হয়েছে