কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলে এরই মধ্যে অর্ধেকের বেশি ফসল ঘরে
সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬ ৯:৩৪ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলে বোরো ধান কাটার কাজ পুরোদমে চলছে। কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল (রবিবার, ২৬ এপ্রিল) পর্যন্ত জেলার হাওর এলাকায় প্রায় ৪৮ শতাংশ ধান কাটা শেষ হয়েছে।
আজও সকাল থেকে বিভিন্ন উপজেলায় ধান কাটার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আগামী মে মাসের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যেই পুরো ধান কাটা সম্পন্ন হবে বলে আশা করছে কৃষি বিভাগ।
তবে আগাম বন্যার পূর্বাভাস থাকায় কৃষকদেরকে ৮০ শতাংশ পাকলেই ধান কেটে ফেলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। কৃষি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সম্ভাব্য ভারী বর্ষণ ও আগাম বন্যার ঝুঁকি থেকে ফসল রক্ষায় এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এবার কিশোরগঞ্জ জেলায় মোট ১ লাখ ৬৮ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করা হয়েছে। এর মধ্যে হাওরাঞ্চলে প্রায় ১ লাখ ৪ হাজার হেক্টর জমিতে ধান চাষ হয়েছে। পুরো জেলায় উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ১২ লাখ মেট্রিক টন ধান।
সরেজমিনে হাওরাঞ্চলে দেখা যায়, রোদের তীব্রতা উপেক্ষা করে কৃষকেরা দ্রুত ধান কাটার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। বিস্তীর্ণ হাওরজুড়ে এখন সোনালি ধানের ঢেউ। কৃষকদের পাশাপাশি কৃষাণীরাও সমানভাবে ধান কাটা, মাড়াই ও ঝাড়াইয়ের কাজে অংশ নিচ্ছেন।
চলতি মৌসুমে বাম্পার ফলন হলেও নতুন ধানের ন্যায্য মূল্য না পাওয়া এবং উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় কৃষকদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে। বাজারে প্রতি মণ নতুন ধান বিক্রি হচ্ছে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায়, যা উৎপাদন খরচের চেয়েও কম বলে অভিযোগ কৃষকদের।
ইটনা উপজেলার কুনিয়ার হাওরের কৃষক জামাল মিয়া বলেন, গত বছরের তুলনায় এবার ধান ভালো হলেও ডিজেলের সংকট ও উচ্চমূল্যের কারণে তারা সমস্যায় পড়েছেন। ধান কাটার যন্ত্র থেকে শুরু করে মাড়াইয়ের সব কাজেই ডিজেল প্রয়োজন হওয়ায় অতিরিক্ত খরচ বহন করতে হচ্ছে।
নিকলি উপজেলার কৃষক খালেক মিয়া জানান, এক মণ ধান উৎপাদনে খরচ হচ্ছে প্রায় ১,১০০ টাকা, অথচ বিক্রি করতে হচ্ছে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায়। ফলে তারা লোকসানের মুখে পড়ছেন।
আধুনিক যন্ত্রপাতি যেমন কম্বাইন হারভেস্টার দিয়ে দ্রুত ধান কাটা হলেও ডিজেলের দাম বৃদ্ধির কারণে মেশিন ভাড়াও বেড়েছে। এতে প্রতি একরে প্রায় ২ হাজার টাকা বেশি খরচ হচ্ছে বলে জানান কৃষকেরা। পাশাপাশি শ্রমিক মজুরিও বেড়েছে।
নিকলি ছাতিরচর হাওরের কৃষক আলম মিয়া বলেন, ডিজেলের দাম বৃদ্ধির কারণে মেশিন ভাড়া বেড়েছে, তবুও দ্রুত ধান ঘরে তুলতে তারা বাধ্য হচ্ছেন।
মিঠামইন উপজেলার কৃষক আনিসুর রহমান জানান, শ্রমিকের মজুরি, কীটনাশক ও ডিজেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় মোট উৎপাদন খরচ অনেক বেশি হয়ে গেছে, অথচ ধানের দাম কম থাকায় তারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. মো. সাদিকুর রহমান বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আগামী ১৫ মে’র মধ্যে হাওরের সব ধান কাটা শেষ হবে। আগাম বন্যার ঝুঁকি বিবেচনায় ৮০ শতাংশ পাকলেই ধান কাটার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সময়মতো ধান কাটা সম্পন্ন হলে এবার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে এবং বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা থাকবে না।
২২৫ বার পড়া হয়েছে