সর্বশেষ

সাহিত্য

বাংলা সাহিত্যে ঐতিহ্য ও আধুনিকতা

গাউসুর রহমান 
গাউসুর রহমান 

সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬ ৭:১৭ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
আজ জানালার বাইরে অপরাহ্ণের রোদটুকু বেশ মিঠে হয়ে এসেছে। বাতাসের মরা হাহাকার আর গাছের পাতায় রোদের শেষ কম্পনটুকু দেখলে মনে হয়, সময় যেন এক বিশাল চিত্রপটের সামনে দাঁড়িয়ে গভীর কোনো ভাবনায় মগ্ন।

ক্যালেন্ডারের পাতা হুহু করে এগিয়ে চলে, জীবন বদলে যায় যান্ত্রিকতায়, কিন্তু মানুষের ভেতরের সেই চিরন্তন সাহিত্যবোধ কি খুব বেশি পাল্টায়? মহাকালের ক্যানভাসে তাকালে দেখা যায় দুটি প্রবল শক্তি সমান্তরালে বয়ে চলেছে—একটি ঐতিহ্যের গভীর শেকড়, যা মাটির অতল থেকে প্রাণরস টানে; আর অন্যটি আধুনিকতার পাখা, যা অজানার সন্ধানে নীল আকাশে ডানা মেলতে চায়। এই শেকড় আর ডানার যে নিরন্তর কথোপকথন, তা-ই মূলত বাংলা সাহিত্যের হাজার বছরের ইতিহাসের মূল সুর।

সাহিত্যের এই দীর্ঘ পথযাত্রায় ঐতিহ্য কোনো স্থির জলাধার নয়। একে বরং এক প্রবহমান নদীর সঙ্গে তুলনা করা চলে। হিমালয়ের নির্জনতা থেকে বেরিয়ে গঙ্গা যেমন পলি জমিয়ে জমিয়ে বদ্বীপ গড়ে তোলে, বাংলা সাহিত্যও তেমনি আর্য-অনার্য, বৌদ্ধ সহজিয়া, সুফি দর্শন আর বৈষ্ণব ভাবালুতার পলি জমিয়ে নিজের শরীর নির্মাণ করেছে। ঐতিহ্যের এই উত্তরাধিকার কেবল অতীতের হাতড়ে বেড়ানো নয়, বরং অতীতের সেই সুরকে বর্তমানের বীণায় নতুন করে বাজিয়ে তোলা। অন্যদিকে, আধুনিকতা কেবল সময়ের এক ফালি অংশ নয়; এটি একটি দৃষ্টির ভঙ্গি। পুরনো জীর্ণতাকে ঝেড়ে ফেলে নিজেকে নতুন করে চেনার যে ব্যাকুলতা, তা-ই আধুনিকতা। বাংলা সাহিত্যে এই দুই শক্তির যে দ্বান্দ্বিক মিথস্ক্রিয়া, তা কোনো ধ্বংসাত্মক সংঘাত নয়, বরং এক সৃজনশীল সংশ্লেষ।

বাংলার সাহিত্যের ঐতিহ্যের আঁতুড়ঘর খুঁজতে গেলে আমাদের মন অনিবার্যভাবেই ফিরে যায় সেই নেপালের রাজদরবারের ধুলোমাখা পাণ্ডুলিপিতে, যেখানে হরপ্রসাদ শাস্ত্রী খুঁজে পেয়েছিলেন 'চর্যাপদ'। হাজার বছর আগের সেই বাংলার ধুলো-কাদা মাখা পথে যখন বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্যরা লিখেছিলেন, “টালত মোর ঘর নাহি পড়বেশী / হাড়ীত ভাত নাহি নিতি আবেশী”, তখন কি তাঁরা জানতেন যে এই অভাববোধ আর নিঃসঙ্গতা হাজার বছর পরের আধুনিক মানুষেরও প্রধান অসুখ হয়ে দাঁড়াবে? চর্যাপদের সেই রূপক আর সন্ধ্যার ভাষার আড়ালে যে জীবনদর্শন লুকিয়ে ছিল, তা ছিল বাংলার চিরন্তন ঐতিহ্যের প্রথম অঙ্ক। সেখানে তথাকথিত উঁচু দরের দেবতাদের ভিড় ছিল না, ছিল ডোম আর শবরীদের যাপিত জীবনের রক্ত-মাংসের ঘ্রাণ। আজকের দিনে দাঁড়িয়ে যখন প্রান্তিক মানুষের কথা বা ‘সাবল্টার্ন’ তত্ত্ব নিয়ে বড় বড় প্রবন্ধ লেখা হয়, তখন মনে হয়—এই আধুনিকতা তো সেই চর্যাপদেই লুকিয়ে ছিল এক বীজের মতো।

মধ্যযুগের দিকে তাকালে দেখা যায়, ঐতিহ্য কীভাবে ধর্মের মোড়কে আসলে মানুষেরই জয়গান গেয়েছে। মঙ্গলকাব্যগুলোতে লৌকিক দেব-দেবীর আড়ালে বাঙালির গার্হস্থ্য জীবনের ছবিটাই তো ফুটে উঠত। দেবী চণ্ডী বা মনসা যখন ছলনা করেন, কিংবা ক্রোধে ফেটে পড়েন, তখন তাঁরা তো আর স্বর্গের দেবতা থাকেন না, হয়ে ওঠেন এই বাংলারই কোনো কুটিল প্রতিবেশী বা দাপুটে গৃহকর্ত্রী। মুকুন্দরাম চক্রবর্তীর কাব্যে যখন কালকেতু আর ফুল্লরা বারোমাস্যার দুঃখের কথা বলে, তখন সেখানে কোনো স্বর্গীয় সুধার স্বাদ নেই, আছে নুন-ভাতের আর্তি। ভারতচন্দ্র যখন ঈশ্বরী পাটনির মুখে বলিয়ে নেন, “আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে”, তখন ঐতিহ্যের সেই দীর্ঘ পথযাত্রা মানবিক অধিকারের এক আধুনিক মোহনায় এসে মেশে। ভক্তি আর মুক্তির আড়ালে বাঙালির এই যে ঘরোয়া জীবন প্রীতি, তা-ই আমাদের সাহিত্যের আদিম শেকড়।

বাঙালি যখন প্রথম আধুনিকতার স্বাদ পেল, তখন সেটি ছিল অনেকটা পশ্চিম থেকে আসা এক প্রবল ঝড়ের মতো। ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের পণ্ডিতদের গদ্যচর্চা কিংবা রাজা রামমোহন রায়ের সমাজ সংস্কার—সবই ছিল এক নতুন যুগের পদধ্বনি। তবে সাহিত্যের প্রকৃত আধুনিকায়ন ঘটল এমন একজনের হাতে, যিনি ঐতিহ্যের শেকল ছিঁড়তে চেয়েও আসলে ঐতিহ্যেরই এক নতুন ভাষ্য তৈরি করলেন। তিনি মাইকেল মধুসূদন দত্ত। মধুসূদনের বিদ্রোহ ছিল বহুমুখী। তিনি যখন পয়ারের সেই অতি-চেনা ছন্দ ভেঙে ‘অমিত্রাক্ষর’ প্রবর্তন করলেন, তখন সেটি কেবল ব্যাকরণগত পরিবর্তন ছিল না; সেটি ছিল বাঙালির চিন্তার স্বাধীনতার এক ঘোষণা। 

তাঁর ‘মেঘনাদবধ কাব্য’ ঐতিহ্যের এক অভাবনীয় বিনির্মাণ। বাল্মীকির রামায়ণে যে রাম ছিলেন পরমেশ্বর, মধুসূদন তাঁকে করলেন এক ম্লান চরিত্রের মানুষ; আর রাবণকে দিলেন মহাকাব্যিক ট্র্যাজেডির বীরত্ব। এই যে প্রথাগত ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করা, এটাই আধুনিকতার ধর্ম। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো, মধুসূদন যখন বিদ্রোহ করছেন, তখনও তিনি কিন্তু মহাকাব্যের সেই ধ্রুপদী ঐতিহ্যকেই আঁকড়ে ধরছেন। হোমার, মিল্টন বা দান্তের আধুনিক ছোঁয়া দিলেও তাঁর কবিতার শিরায় শিরায় বইছিল সেই প্রাচীন আর্য-অনার্য দ্বন্দ্বের রক্ত। ঐতিহ্যের ছাইভস্ম থেকেই তিনি আধুনিকতার ফিনিক্স পাখিটিকে ওড়ালেন।

বাংলা সাহিত্যে ঐতিহ্য আর আধুনিকতার সবচেয়ে সুষম আর রহস্যময় মিলন ঘটেছে যাঁর হাতে, তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। রবীন্দ্রনাথ এমন এক বটবৃক্ষ, যাঁর ডালপালা আকাশের মেঘ ছুঁতে চায়, কিন্তু শেকড় থাকে সেই সুপ্রাচীন প্রজ্ঞার গভীরে। তাঁর সাহিত্যজীবন ছিল ঐতিহ্যের নবায়ন আর আধুনিকতার এক অন্তহীন প্রসারণ। অনেকেই মনে করেন রবীন্দ্রনাথ কেবল রোমান্টিক বা আধ্যাত্মিক কবি। কিন্তু গভীরভাবে দেখলে বোঝা যায়, তিনি ছিলেন সময়ের চেয়ে অনেক বেশি অগ্রসর এক আধুনিক মানুষ। 

রবীন্দ্রনাথের কাছে আধুনিকতা মানে কেবল নতুনের মোহ নয়। তিনি ‘আধুনিক সাহিত্য’ প্রবন্ধে স্পষ্ট করেছিলেন যে, আধুনিকতা হলো একটি নির্লিপ্ত দৃষ্টি—যা জগতকে কোনো সংস্কারের চশমা দিয়ে দেখে না। তাঁর ‘গোরা’ উপন্যাসে যে সংকীর্ণ জাতীয়তাবাদের ঐতিহ্যকে তিনি প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন, তা কি আজকের এই একবিংশ শতাব্দীর অসহিষ্ণু পৃথিবীতেও সমান সত্য নয়? রবীন্দ্রনাথ ঐতিহ্যের উপাদান নিয়েছেন বাউল আর বৈষ্ণব পদাবলী থেকে, কিন্তু তাকে মিলিয়ে দিয়েছেন বিশ্বজনীনতার এক বিশাল ক্যানভাসে। তাঁর সেই বিখ্যাত কথা— “নতনেরে বরণ করে নেওয়াই আধুনিকতা”—আসলে ঐতিহ্যের গতিশীলতারই অন্য নাম। তিনি শিখিয়েছিলেন, ঐতিহ্য মানে জমানো কোনো পাথর নয়, বরং তা হলো প্রবহমান নদীর মতো, যা নিজেকে বদলাতে বদলাতে সামনে এগিয়ে যায়।

রবীন্দ্রনাথের সেই বিশাল ছায়া থেকে বেরিয়ে আসার জন্য যখন একদল তরুণ তুর্কি কলম ধরলেন, তখনই শুরু হলো আধুনিকতার এক তীব্র ও ধূসর অধ্যায়।

কাজী নজরুল ইসলাম যখন বাংলা সাহিত্যের আঙিনায় পা রাখলেন, তখন চারদিকে ঔপনিবেশিক শাসনের শ্বাসরুদ্ধকর অন্ধকার। তিনি কেবল কবি ছিলেন না, তিনি ছিলেন এক জলজ্যান্ত বিস্ফোরণ। নজরুলের আধুনিকতা কোনো তাত্ত্বিক বিলাসিতা ছিল না; তা ছিল ঐতিহ্যের এক অভাবনীয় 'ডিকনস্ট্রাকশন' বা বিনির্মাণ। তিনি হিন্দু পুরাণ আর ইসলামি ঐতিহ্যের  একই মোহনায় মেলালেন। "বিদ্রোহী" কবিতায় যখন তিনি বলেন, "আমি পরশুরামের কঠোর কুঠার, নক্ষত্রলোক চিরিয়া", তখন সেখানে ঐতিহ্যের রুদ্ররূপ আধুনিক মানুষের মুক্তির হাতিয়ার হয়ে ওঠে। তিনি জানতেন, শিকড়কে অস্বীকার করে মহীরুহ হওয়া যায় না। নজরুল শিখিয়েছিলেন, বিদ্রোহ মানেই ধ্বংস নয়, বিদ্রোহ মানে নতুনের আবাহন।

বিশ ও ত্রিশের দশকের সেই সময়টা ছিল অস্থির। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের রক্তপাত, ফ্রয়েডীয় মনঃসমীক্ষণ আর মার্কসীয় চিন্তাধারা তখন বাঙালির মধ্যবিত্ত মনে এক ফাটল ধরিয়েছে। কল্লোল বা কালি-কলম গোষ্ঠীর লেখকরা চাইলেন সেই ‘শোভন’ জগতকে আক্রমণ করতে। তাঁদের কাছে আধুনিকতা মানে হয়ে উঠল শহরের অলিগলি, বস্তি, মানুষের আদিম প্রবৃত্তি আর এক গভীর ক্লান্তি। 

জীবনানন্দ দাশ যখন লিখলেন, “হাজার বছর ধরে আমি পথ হাঁটিতেছি পৃথিবীর পথে”, তখন সেখানে কেবল রোমান্টিকতা ছিল না, ছিল আধুনিক মানুষের এক অন্তহীন নিঃসঙ্গতা। জীবনানন্দ বাংলার রূপ-রস-গন্ধের সেই চিরায়ত ঐতিহ্যকে ধারণ করেও তাকে এমন এক পরাবাস্তব বা সুররিয়েলিস্টিক মোড়কে পরিবেশন করলেন, যা আগে কেউ কল্পনা করেনি। তাঁর বনলতা সেন ঐতিহ্যের এক দীর্ঘ ছায়া, কিন্তু তাঁর চেতনার গভীরে খেলা করে ‘উটের গ্রীবার মতো’ অন্ধকার। এই অন্ধকারই তো আধুনিক মানুষের প্রধান সঙ্গী। অন্যদিকে বুদ্ধদেব বসু, বিষ্ণু দে বা সুধীন্দ্রনাথ দত্তরা চাইলেন আধুনিকতাকে আরও বেশি বুদ্ধিনির্ভর ও আন্তর্জাতিক করতে। ঐতিহ্যের চেয়েও তাঁদের কাছে বড় হয়ে উঠল বিশ্ব-নাগরিকত্ব। আধুনিকতা তখন কেবল নিজের দেশের মাটি নয়, বরং এলিয়ট বা বোদলেয়ারের সেই ইউরোপীয় মনস্তত্ত্বের সঙ্গে হাত মেলাল।

 আবার নজরুলের বিদ্রোহেরই অন্য এক আধ্যাত্মিক পিঠ যেন ফররুখ আহমদ। 'সাত সাগরের মাঝি'র সেই সিন্দবাদ আসলে আধুনিক মানুষেরই এক হাহাকারময় প্রতিচ্ছবি। চারদিকে যখন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ধ্বংসস্তূপ আর তেতাল্লিশের দুর্ভিক্ষের হাহাকার, তখন ফররুখ আমাদের ফিরিয়ে নিয়ে গেলেন ঐতিহ্যের সেই হারানো বন্দরে। তাঁর আধুনিকতা নিহিত ছিল তাঁর পরাবাস্তব চিত্রকল্পে। সিন্দবাদ কেবল রূপকথার নাবিক নয়, সে হলো সেই আধুনিক 'অ্যান্টি-হিরো', যে অন্ধকার সমুদ্রে নৈতিক পুনর্জন্মের তরী বাইছে। হোমারের 'ওডিসি' বা দান্তের 'ডিভাইন কমেডি'র মতোই ফররুখের কবিতায় ঐতিহ্য ও আধুনিকতার এক দার্শনিক মৈথুন ঘটেছিল, যা আজও আমাদের ভাবিয়ে তোলে।

কিন্তু  এদের মাঝেই যখন  গ্রামের মেঠোপথ, কর্দমাক্ত মাটি আর রাখালের বাঁশির সুর—এসব নিয়ে জসীমউদ্দীন যখন লিখতে শুরু করলেন, অনেকে ভেবেছিলেন তিনি হয়তো নিছক অতীতচারী। কিন্তু গভীরভাবে লক্ষ্য করলে দেখা যায়, তাঁর 'নক্সী কাঁথার মাঠ' কেবল গ্রামীণ প্রেমের আখ্যান নয়, বরং তা হলো আধুনিক ট্র্যাজেডির এক নিপুণ বুনন। শেকসপিয়রীয় নিয়তিবাদ কীভাবে বাংলার লোকজ মরমীবাদের সাথে মিশে যেতে পারে, জসীমউদ্দীন তার এক সার্থক উদাহরণ। সাজু ও রূপাইয়ের বিচ্ছেদ কোনো স্থবির পল্লিচিত্র নয়; তা চিরন্তন মানুষের কামনাবাসনা ও বিরহের এক বৈশ্বিক দলিল।

যখন একদিকে আধুনিকতার নামে নাগরিক বিচ্ছিন্নতা বাড়ছে, তখনই আবার অন্য এক ধারায় ঐতিহ্য ফিরে এল তার মাটির ঘ্রাণ নিয়ে। বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘পথের পাঁচালী’ বা ‘আরণ্যক’ আমাদের মনে করিয়ে দিল যে, প্রকৃত আধুনিকতা আসলে প্রকৃতির সহজতম সম্পর্কের মধ্যে লুকিয়ে আছে। আজকের এই পরিবেশ বিপর্যয়ের যুগে দাঁড়িয়ে বিভূতিভূষণের সেই নিসর্গপ্রেমকে কি আমরা সবচেয়ে বড় আধুনিকতা বলব না? ইকো-ক্রিটিসিজমের যে কথা আজ পশ্চিমের সমালোচকরা বলছেন, বিভূতিভূষণ তো অনেক আগেই অপুর চোখের মধ্য দিয়ে সেই বিশ্বপ্রকৃতির রহস্যের কথা লিখে গেছেন। 

তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় আবার ঐতিহ্যের ক্ষয়িষ্ণু রূপকে তুলে ধরলেন। ‘হাঁসুলীবাঁকের উপকথা’য় তিনি দেখালেন কীভাবে আদিম সংস্কার আর নতুন যন্ত্রসভ্যতা মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছে। ঐতিহ্যের সেই কালস্রোত যখন আধুনিকতার ধাক্কায় পাড় ভাঙে, সেই ভাঙনের শব্দই ছিল তারাশঙ্করের সাহিত্যের প্রাণ। আবার মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় আমাদের শেখালেন অন্য এক আধুনিকতা। মানুষের অবচেতন মনের গহীন গহ্বরে যে কামনা, লালসা আর অস্তিত্বের লড়াই চলে—তা তিনি ব্যবচ্ছেদ করলেন এক নির্দয় ডাক্তারের মতো। ‘পুতুলনাচের ইতিকথা’র শশী ডাক্তার আধুনিক শিক্ষিত বাঙালির সেই দোলাচলের প্রতীক—যে গ্রামের মাটিকেও ছাড়তে পারে না, আবার শহরের আলোকেও অস্বীকার করতে পারে না। এই যে শেকড় আর ডানার টানাটানি, এটাই তো আমাদের চিরকালীন দ্বন্দ্ব।

অন্যদিকে, গদ্যের জগতে এক অদ্ভুত 'পলিফোনি' বা বহুমাত্রিক স্বরের সূচনা করেছিলেন সৈয়দ মুজতবা আলী। তিনি আমাদের শিখিয়েছেন যে, শেকড়ের প্রতি অবিচল থেকেও কীভাবে বিশ্বনাগরিক হওয়া যায়। তাঁর রচনায় সংস্কৃত শ্লোক, ফার্সি কবিতা আর ফরাসি দর্শনের যে আড্ডা বসে, তা আধুনিক বুদ্ধিবৃত্তিক আভিজাত্যের এক অনন্য নিদর্শন। মুজতবা আলীর রম্য কেবল হাসানোর জন্য নয়, বরং তা ছিল তথাকথিত আধুনিকতার ভণ্ডামির মুখে এক শাণিত চড়।

১৯৪৭ সাল বাঙালি জীবনের এবং সাহিত্যের এক বিরাট মোড়। ওপার বাংলা আর এপার বাংলার সাহিত্য তখন থেকেই দুটি ভিন্ন স্রোতে বইতে শুরু করল, কিন্তু মাঝখানে বয়ে রইল সেই অভিন্ন ঐতিহ্যের নদী। 

 বাংলাদেশে আধুনিকতা পেল এক নতুন ভাষা। এখানে সাহিত্য হয়ে উঠল আত্মপরিচয় খোঁজার হাতিয়ার। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন আমাদের ঐতিহ্যের এক নতুন ভিত্তি স্থাপন করল। এই অঞ্চলের লেখকরা চাইলেন একদিকে তাঁদের গ্রামীণ জীবন আর লোকজ সংস্কৃতিকে রক্ষা করতে, আবার অন্যদিক দিয়ে আধুনিক রাজনৈতিক প্রজ্ঞাকে ধারণ করতে। 

ঢাকার পিচঢালা রাজপথ আর মিছিলের স্লোগানে শামসুর রাহমান হয়ে উঠলেন এক নাগরিক পুরোহিত। গ্রিক মিথলজি বা হিন্দু পুরাণকে তিনি যেভাবে টিয়ারশেল আর কারফিউর সাথে মিলিয়ে দিলেন, তা ছিল প্রকৃত অর্থেই আধুনিক। শার্ল বোদলেয়ার যেমন প্যারিসকে আবিষ্কার করেছিলেন, শামসুর রাহমান তেমনি ঢাকাকে বানিয়েছিলেন তাঁর কবিতার এক জীবন্ত সত্তা। তাঁর "উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ" পঙক্তিটি যেমন ঐতিহ্যের এক নির্মম বিদ্রূপ, তেমনি তা ৮০ এর দশকের রাজনীতির এক নগ্ন প্রকাশ। ঐতিহ্যের খোলস পাল্টে তাকে প্রতিবাদের অস্ত্র করার শিল্পটি তিনি জানতেন।

 আবার, জসীমউদ্দীন যে মাটির স্পর্শ দিয়েছিলেন, তাকে এক তীব্র জৈবিক ও মনস্তাত্ত্বিক মাত্রায় নিয়ে গেলেন আল মাহমুদ। তাঁর 'সোনালী কাবিন' বাংলা কবিতার ইতিহাসে এমন এক মোড়, যেখানে ঐতিহ্যের সাথে আধুনিক ফ্রয়েডীয় লিবিডো আর মার্ক্সীয় দর্শনের এক আশ্চর্য রসায়ন ঘটেছে। আল মাহমুদ আমাদের মনে করিয়ে দিলেন যে, আমাদের আধুনিক হওয়ার জন্য অন্য দেশের ধার করা অলঙ্কার প্রয়োজন নেই। আমাদের লোকজ শব্দ, সহজিয়া বাউল ঐতিহ্য আর ফসলের সুষম বণ্টনই হতে পারে আধুনিকতার শ্রেষ্ঠ ইশতেহার। তিনি যখন বলেন, "আমাদের ধর্ম হোক ফসলের সুষম বণ্টন", তখন সেখানে হাজার বছরের কৃষক বিদ্রোহের ঐতিহ্য আর আধুনিক সাম্যবাদী চিন্তা এক বিন্দুতে এসে মিলে যায়। আল মাহমুদের আধুনিকতা ছিল মাটির গভীর থেকে উঠে আসা এক আদিম কিন্তু সচেতন শিল্পবোধ।

আবার যখন রফিক আজাদের ‘চুনিয়া আমার আর্কেডিয়া’র দিকে তাকানো যায়, তখন দেখা যায় এক আদিম, নিষ্পাপ জগতের প্রতি কবির গভীর তৃষ্ণা। ‘চুনিয়া’ কোনো কাল্পনিক স্বর্গ নয়, বরং এক প্রান্তিক গ্রাম যা আধুনিক সভ্যতার সমস্ত কৃত্রিমতাকে অস্বীকার করে। সভ্যতার এই যে দম্ভ, মানুষের তৈরি এই যে জটিল মিথ্যেজাল—তা থেকে মুক্তির জন্য কবি ফিরে যেতে চান সেই আদিম সারল্যে। সেখানে রুটি ওলটানোর মতো সভ্যতাকেও উল্টে দেওয়ার সাহস থাকে।

পক্ষান্তরে, রফিক আজাদের আধুনিকতা হলো নগ্ন সত্যের মুখোমুখি হওয়ার এক দুর্মর স্পৃহা। তিনি সেই কবি, যিনি দুর্ভিক্ষের প্রহরে দাঁড়িয়ে রাষ্ট্র আর মানচিত্রের মুখে চপেটাঘাত করতে পারেন। "ভাত দে হারামজাদা, / তা না হলে মানচিত্র খাবো"—এই পঙ্‌ক্তিটি যখন লেখা হয়েছিল, তা কেবল কিছু শব্দ ছিল না, ছিল এক আগ্নেয়গিরির উদগিরণ। মানুষের যখন জঠর জ্বলে, তখন তার কাছে কোনো বিমূর্ত সৌন্দর্য থাকে না। তখন ভাতই একমাত্র ধ্রুপদী সত্য। রফিক আজাদ এখানে অস্তিত্ববাদের সেই চরম সীমায় পৌঁছে যান, যেখানে মানুষের জৈবিক অস্তিত্বই সমস্ত দর্শনের ঊর্ধ্বে।

বিংশ শতাব্দীর শেষভাগে এসে আমরা পেলাম এমন এক সাহিত্যিককে, যাঁর নাম না নিলে ঐতিহ্য আর আধুনিকতার এই আলোচনা অপূর্ণ থেকে যাবে—আখতারুজ্জামান ইলিয়াস। তাঁর ‘খোয়াবনামা’ উপন্যাসে তিনি দেখালেন কীভাবে ইতিহাস, পুরাণ আর বর্তমান একাকার হয়ে যায়। সেখানে ফকির বিদ্রোহের সেই পুরনো স্মৃতি আর আধুনিক মানুষের রাজনৈতিক স্বপ্ন মিলেমিশে এক জাদুবাস্তবতা তৈরি করে। ইলিয়াস তো আসলে আমাদের শিখিয়েছেন যে ইতিহাস মৃত কোনো বিষয় নয়, বরং তা প্রতিটি মানুষের অবচেতনে এক জীবন্ত খোয়াব বা স্বপ্নের মতো বয়ে চলে। এই যে নিম্নবর্গীয় বা প্রান্তিক মানুষের চোখ দিয়ে জগতকে দেখা, এটিই তো উত্তর-আধুনিকতার মূল সুর। 

অন্যদিকে পশ্চিম বঙ্গে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় তাঁর 'সেই সময়' বা 'প্রথম আলো' উপন্যাসে যেভাবে উনিশ শতকের ঐতিহ্যকে বিনির্মাণ করেছেন, তা ঐতিহাসিকভাবে বিস্ময়কর। তাঁর কাছে ঐতিহ্য কোনো মৃত দলিল ছিল না, বরং ছিল বর্তমানকে বোঝার এক আয়না। আর তাঁর কবিতার 'নীরা'? নীরা তো কেবল এক মানবী নয়, সে হলো আধুনিক নাগরিক মানুষের এক অধরা কল্পনা, অনেকটা বৈষ্ণব পদাবলীর রাধার মতোই চিরন্তন অথচ আধুনিক। 

আধুনিক মধ্যবিত্ত মানুষের এই দ্বান্দ্বিক জীবনের এক সার্থক রূপকার শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়। তাঁর লেখায় ফ্রয়েডীয় অবদমন আর প্রাচ্য আধ্যাত্মিকতা একাকার হয়ে যায়। শীর্ষেন্দুর চরিত্রগুলো বড় অদ্ভুত; তারা আধুনিক নাগরিক জীবনের চাপে পিষ্ট, হতাশায় ডুবে আছে, কিন্তু হঠাৎ করেই তারা এক অলৌকিক আলোর দেখা পায়। এই আলোটিই হলো আমাদের আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য। তাঁর উপন্যাসে পরাবাস্তবতা কোনো বাইরের বিষয় নয়, তা মানুষের অন্তরাত্মার এক গভীর সত্য। আধুনিকতার গোলকধাঁধায় হারিয়ে যাওয়া মানুষ যখন শেষে শান্তির খোঁজে কোনো এক মরমী সাধুর কাছে বা নিজের অন্তরে ফিরে যায়, তখনই বোঝা যায় যে শিকড় ছাড়া ডানা মেলে ওড়া আসলে অসম্ভব।

আবার, রাঢ় বাংলার শুষ্ক লাল মাটির গন্ধে আধুনিক বিজ্ঞানের যুক্তি মেলালেন সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ। তাঁর 'কর্নেল' চরিত্রটি এক অদ্ভুত সমন্বয়। তিনি একদিকে আধুনিক পাখিপ্রেমী ও যুক্তিবাদী, অন্যদিকে লৌকিক মিথ আর প্রেততত্ত্বের রহস্যভেদে পারদর্শী। সিরাজের উপন্যাসে আমরা দেখি কীভাবে মানুষের আদিম প্রবৃত্তি আর আধুনিক সভ্যতার মুখোশ একে অপরের মুখোমুখি দাঁড়ায়। এটিই তো ম্যাজিক্যাল রিয়েলিজম বা পরাবাস্তববাদ, যা আমাদের নিজস্ব ঐতিহ্যের ভেতরেই লুকানো ছিল।

অন্যদিকে  শঙ্খ ঘোষের কাছে ঐতিহ্য মানে কেবল অতীতের জীর্ণ কঙ্কাল নয়, বরং তা এক প্রগাঢ় অভিজ্ঞতার সঞ্চয়। শঙ্খ ঘোষের ‘বাবরের প্রার্থনা’ কবিতাটির কথা ভাবা যাক।  কবিতাটি হয়ে উঠেছে আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থার ক্ষমতার লড়াই আর মানবিকতার এক মর্মান্তিক আর্তি। "ধ্বংস করে দাও আমাকে যদি চাও / আমার সন্ততি স্বপ্নে থাক"—এই উচ্চারণের মধ্যে কি কেবল একজন পিতার ব্যাকুলতা ফুটে ওঠে? না, এর গভীরে লুকিয়ে আছে আগামী প্রজন্মের জন্য এক বাসযোগ্য পৃথিবীর স্বপ্ন। ক্ষমতার দম্ভ আর হিংস্রতার বিপরীতে শঙ্খ ঘোষ এক নৈতিক অবস্থান বেছে নেন। ইতিহাসে ক্ষমতার বদল ঘটে, সাম্রাজ্য ধূলিসাৎ হয়, কিন্তু মানুষের ভালোবাসা আর আত্মত্যাগ চিরকাল ধ্রুবতারার মতো জ্বলে থাকে। 

কিন্তু একই সাথে শঙ্খ ঘোষের কবিতায় নাগরিক জীবনের এক গভীর হাহাকার লক্ষ করা যায়। তাঁর ‘মুখ ঢেকে যায় বিজ্ঞাপনে’ কাব্যগ্রন্থে আধুনিক ভোগবাদী সমাজের এক নিদারুণ চিত্র ফুটে উঠেছে। গলির কোণে দাঁড়িয়ে থাকা সেই একলা মানুষটির মুখ যখন বিজ্ঞাপনে ঢেকে যায়, তখন আসলে আমাদের আত্মপরিচয়ই বিলুপ্ত হতে থাকে।

আজকের এই ২০২৬ সালের প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে যখন আমরা সাহিত্যের দিকে তাকাই, তখন দেখি আধুনিকতা আর কোনো নির্দিষ্ট ফ্রেমের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। সমকালীন সাহিত্যে জেন্ডার রাজনীতি, পরিবেশবাদ, কিংবা গ্লোবালাইজেশনের অভিঘাত—সবই উঠে আসছে। কিন্তু তার অন্তরালে কোথাও কি সেই আদিম বাউল সুরটা শোনা যায় না? 

বর্তমানে আমরা এক অদ্ভুত সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি।  মানুষের মনোযোগের পরিধি ছোট হয়ে আসছে, রিলেশনশিপ এখন এক ক্লিকেই বদলে যায়। এই অস্থির সময়ে সাহিত্যের দায়বদ্ধতা কি আরও বেড়ে যায়নি? 

হয়তো প্রযুক্তির এই জোয়ারে কাগজের বইয়ের গন্ধ একদিন স্মৃতি হয়ে যাবে। কিন্তু মানুষের হৃৎপিণ্ডের যে স্পন্দন, তার যে না-বলা দীর্ঘশ্বাস—তাকে কি কোনো কোডিং দিয়ে ধরা সম্ভব? সাহিত্য তো আসলে সেই অশ্রুবিন্দুর নাম, যা হাজার বছর ধরে মানুষের চোখের কোণে জমে আছে। আধুনিকতা আমাদের জীবনকে গতি দিয়েছে সত্য, কিন্তু ঐতিহ্য আমাদের দিয়েছে স্থিতি। এই গতির নেশায় আমরা যেন আমাদের স্থিতিটুকু হারিয়ে না ফেলি, সেটাই বড় চ্যালেঞ্জ। 

বিভূতিভূষণের সেই মেঠো পথ এখন পিচঢালা হাইওয়ে হয়ে গেছে, কিন্তু সেই পথের বাঁকে আজও কি কোনো অপুর চোখে আকাশ দেখার স্বপ্ন নেই? আছে। হয়তো সেই স্বপ্নের ভাষা বদলেছে, কিন্তু স্বপ্নটা বদলায়নি। আজকের একজন আধুনিক কবি যখন ফেসবুকের দেয়ালে চার লাইনের কবিতা লেখেন, সেখানেও তো সেই চর্যাপদের শূন্যতারই প্রতিধ্বনি বাজে। মানুষের সেই আদিম আর্তি—ভালোবাসা পাওয়ার আর চিনে নেওয়ার আকুতি—তা চিরকাল একই থাকবে।

শেষ পর্যন্ত ঐতিহ্যের সেই প্রকাণ্ড নদীটি কোন সাগরে গিয়ে মিশবে, তা আমরা কেউ জানি না। সাহিত্য কেবল শব্দের খেলা নয়, এ হলো এক জাতির বেঁচে থাকার লড়াই। ঐতিহ্যের শেকড় যত গভীর হবে, আধুনিকতার পাখা তত উঁচুতে উড়তে পারবে—এটিই ইতিহাসের ধ্রুব সত্য। আমরা যারা ২০২৬ সালের এই বিকেলে দাঁড়িয়ে পেছনের দিকে তাকাই, আমরা আসলে সামনের দিনের আলোটাই দেখতে পাই। 

রবীন্দ্রনাথের আধ্যাত্মিকতা, নজরুলের সাম্যবাদ, মধুসূদনের বিদ্রোহ, জীবনানন্দের পরাবাস্তবতা কিংবা ইলিয়াসের ইতিহাসচেতনা—এসবই আজ আমাদের এক বিশাল ঐতিহ্যের অংশ। আধুনিকতা আজ যা সৃষ্টি করছে, কাল তা-ই ঐতিহ্যের ভাণ্ডারে জমা হবে। এই যে দেওয়া-নেওয়ার খেলা, একেই তো বলা যায় সভ্যতার প্রবহমানতা। 

হয়তো কোনো একদিন মানুষ মঙ্গল গ্রহে বসতি গড়বে, কিন্তু সেখানেও কি কোনো প্রবাসী বাঙালি তাঁর ল্যাপটপের কি-বোর্ডে বসে লিখবেন না— “মেঘের পরে মেঘ জমেছে, আঁধার করে আসে”? নিশ্চয়ই লিখবেন। কারণ সাহিত্য হলো এমন এক ধ্রুবতারা, যা আমাদের পথ চিনিয়ে দেয়। ঐতিহ্য আর আধুনিকতার এই দ্বান্দ্বিক সংশ্লেষেই গড়ে ওঠে মানুষের প্রকৃত পরিচয়। মহাকালের বিশাল ক্যানভাসে আমাদের এই সময়টা হয়তো একবিন্দু ধূলিকণা মাত্র, কিন্তু সেই ধূলিকণার মধ্যেও যদি সত্যের স্ফুলিঙ্গ থাকে, তবেই তা সার্থক। 

শেকড় থাকবে মাটির গভীরে, যেখানে মিশে আছে আমাদের পূর্বপুরুষদের ঘাম আর রক্ত; আর ডানা থাকবে প্রসারিত আকাশের পানে, যেখানে অপেক্ষা করছে অনাগত দিনের নতুন কোনো সম্ভাবনা। এই শেকড় আর ডানার নিবিড় বুননেই রচিত হবে আগামী দিনের বাংলা সাহিত্য—যা হবে চিরযৌবনা, বৈশ্বিক অথচ একান্তই আপন। মহাকালের পললভূমিতে ঐতিহ্যের প্রদীপ জ্বেলে আধুনিকতার গহীনে প্রবেশ করার এই যে দুঃসাহস, তা-ই আমাদের ভাষাকে, আমাদের সংস্কৃতিকে বিশ্বের দরবারে চিরস্থায়ী আসন করে দিয়েছে। আর সেই পথ ধরেই প্রবহমান থাকবে মানুষের চিরন্তন সব গল্প।


লেখক: কবি ও প্রাবন্ধিক।

১২০ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
সাহিত্য নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন