কতো রক্তে হলে শান্ত হয় এই পৃথিবী
শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬ ৭:৫১ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
কতো রক্ত লাগবে? বলো—লোহিতসাগর, নীলনদ, ফোরাত, ভূমধ্যসাগর, আরবসাগর দিয়ে যত স্রোত প্রবাহিত হয়—সবটাই দিয়ে জলের পরিবর্তে রক্ত নাও; তবু পিতা, পিতামহীর পূর্বপুরুষের ভিটেমাটি কেড়ে নিও না।
লাখে লাখে ঘরহারা মানুষের চোখের ভেতর পিতাহারা, মাতাহারা, সন্তানহারা দিন-রাত খেলা করে; মাসের পর মাস, বছরের পর বছর চোখের সামনে অপেক্ষা করা, আশার আলো নিয়ে চোখে শুধু রক্তজল দেখে!
—পৃথিবীতে পরাজিত, রক্তাক্ত, ক্ষুধার্ত, ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্রদের জানমালের ওপর দিয়েই নতুন নতুন সভ্যতার আবাদ হয়।
মাটিহারা মানুষের মাটিতে শুধুই রক্তফসল ফলে, সেখানে লাগে রক্তবীজ; তার থেকে জন্ম নেয় রক্তচারা।
দিনে দিনে বুলেট-বারুদ খেয়ে খেয়ে ক্ষুধা, ক্ষমতার রসায়নে নিজভূমেই তারা শরণার্থী হয়।
ওরা বলে, ওইদিকে যেও না—নিরাপদে শিবিরে, ছাউনিতে, হাসপাতালে আহত হয়ে থাকো।
কিন্তু সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয় আজ ভীষণ অনিরাপদ: ভয়ংকর দানব, দাজ্জাল!
ঘুমোতে গিয়ে ওঠা হয় না আর এদের ঘুম থেকে।
পেছনে বসে আছে নিষ্ঠুর, গণহত্যাকারী, দখলদার আগ্রাসনের উষ্ণ সিংহাসনী থাবা।
দানবাগ্রাসীয় থাবা নিপীড়িত মানুষের শ্বাসপ্রশ্বাসে ওঠানামা করে দিনরাত।
এদের দমিয়ে দিতে ঐক্যবদ্ধ হয় না কেউই;
শুধু রুটি-মাংস, মানচিত্রের অধিকার নিয়ে,
যে যার মতো লড়ে যাচ্ছে।
মনুষ্যত্ব, মানবতা, ধর্ম—কোনো কিছু এদের মন গলাতে পারে না।
এতটাই বিবর্তিত প্রজাতি, জাতিগতভাবে জাতিনিধনকারী এরা, অন্য কোনো পৃথিবী থেকে আসা কোনো অসভ্য জানোয়ার।
শিশুদের ইশকুল, পিতামাতা, ভাইবোন, পাড়াপ্রতিবেশী, খেলার মাঠ, সঙ্গী—সব কিছু নস্যাৎ করে দিচ্ছে নিষ্ঠুর, নৃশংস, জঘন্য উম্মতেরা!
একটুকরো রুটি হাওয়ায় ভাসতে ভাসতে আসমানে উঠে যায়—তাকিয়ে থাকে অসংখ্য চোখ; চিলও যে রুটি ধরতে ব্যর্থ।
মহান বিশ্বপ্রতিপালক, একদিন এসবের হিসাব কিন্তু এই পৃথিবীতেই নেবেন।
যুদ্ধবিধ্বস্ত ফিলিস্তিনসহ সকল নিপীড়িত দেশ অপেক্ষায় আছে—কবে তারা রক্তের স্রোত ছাড়াই স্বাধীনতা পাবে!
আর কতো রক্ত নেবে? সময় কিন্তু ফুরিয়ে আসছে তোমাদেরও—
ধরা ধূলিসাৎ হওয়ার আগে ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া বেঁচে থাকা শেষ মানুষটির আর্তনাদ শোনো।
তার অভিশাপ থেকে, নিষ্পাপ শিশুর সর্বহারা চাহনি থেকে কীভাবে তোমরা রক্ষা পাবে?
আর কতো রক্ত হলে শান্ত হয় এই পৃথিবী?!
১৪১ বার পড়া হয়েছে