বিএনপির কড়া সমালোচনা আমিরের, তীব্র নিন্দা জানালেন মির্জা ফখরুল
শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬ ১০:১০ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
বিএনপিকে উদ্দেশ করে জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, “আমরা একসঙ্গে মজলুম ছিলাম। বিনয়ের সঙ্গে বলতে চাই, হাজার চেষ্টা করলেও আপনারা আওয়ামী লীগ হতে পারবেন না। আপনারা সর্বোচ্চ দুর্বল আওয়ামী লীগ হতে পারবেন। আওয়ামী লীগ জাতিকে নিয়ে এবং বিরোধীদলকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করত। আজ তারা কোথায়! আপনারা তাদেরই পথ অনুসরণ করা শুরু করেছেন।”
শনিবার (২৫ এপ্রিল) ঢাকার ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ‘জুলাই শহীদ পরিবার ও জুলাইযোদ্ধা জাতীয় সমাবেশ’-এ গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নের দাবিতে আয়োজিত এক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। জামায়াতে ইসলামী এ সমাবেশের আয়োজন করে।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, বিএনপি গণভোটের রায় মানছে না। সংসদের ভেতরে সরকারি দল ও বিরোধীদলের এমপিরা যখন কথা বলেন, তখন সবাই জুলাইযোদ্ধাদের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। কেউ শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদির কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, একটি ভোটে বিএনপির পক্ষে ৫১ শতাংশ রায় এসেছে, যা তারা মেনে নিয়েছে। কিন্তু গণভোটে ৭০ শতাংশ ভোট পক্ষে গেলেও তারা তা গ্রহণ করছে না।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “তারা ৫১ শতাংশ মানে, কিন্তু ৭০ শতাংশ মানে না—এটা লজ্জাজনক ও দুঃখজনক। ওই ৭০ শতাংশের রায় যেদিন বাস্তবায়িত হবে, সেদিন দেশ থেকে সত্যিকার অর্থে স্বৈরতন্ত্র বা ফ্যাসিবাদ বিদায় নেবে।”
আওয়ামী লীগের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, দলটি তাদের পোষ্য ও লাঠিয়াল বাহিনীর মাধ্যমে সমাজের বিভিন্ন জায়গায় কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেছিল। তবে দুঃসময়ে তাদের পাশে কোনো লাঠিয়াল বাহিনী এসে দাঁড়ায়নি।
বিএনপিকে জাতির সঙ্গে প্রতারণা করছে বলেও মন্তব্য করেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, “প্রত্যেকটি বিষয়ে বিএনপি বিরোধিতা করছে, যা জাতির সঙ্গে স্পষ্ট প্রতারণা। তারা নিজেদের ইশতেহারের বিরোধিতাও করছে। আমার মনে হয়, তারা বিরোধিতার জ্ঞানও হারিয়ে ফেলেছে।”
তিনি আরও বলেন, “প্রিয় বিএনপি, ভুলে যাবেন না—এই জুলাই না থাকলে, এই মায়েরা, বাবা, ভাই, বোনদের সন্তান, স্বামী, ভাই-বোন জীবন না দিলে আপনারা ক্ষমতার আসনে বসতে পারতেন না। এখন তখতে বসে সবকিছু ভুলে গেছেন।”
এদিকে, ‘বিএনপি ইঞ্জিনিয়ারিং করে ক্ষমতায় এসেছে’—জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের এমন বক্তব্যকে তীব্র নিন্দা জানিয়ে তা প্রত্যাখ্যান করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেন, দেশকে আবার ভিন্নভাবে স্বৈরাচারের দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে কি না—সেই বিষয়ে দেশবাসীকে ভাবতে হবে। জামায়াতে ইসলামীর অতীত ইতিহাস সবাই জানে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের জনগণ সচেতনভাবে তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে। ভবিষ্যতে যেন রাজনৈতিকভাবে তাদের পুরোপুরি নির্মূল করা যায়, সেভাবে কাজ করতে হবে।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের যৌথ সভা শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, জামায়াত আমিরের বক্তব্য বিভেদ ও ধোঁয়াশা তৈরির একটি প্রচেষ্টা। দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় পর দেশে একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জনমতের প্রতিফলন ঘটেছে। জনগণ ও আন্তর্জাতিক মহলের কাছে এই নির্বাচন স্বীকৃত বলেও তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ ১৮ বছরের ‘ফ্যাসিস্ট শাসনের’ বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে একটি সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষক ও আন্তর্জাতিক মহলে এই নির্বাচন প্রশংসিত হয়েছে। ওই নির্বাচনে ২১৩টি আসন পেয়ে বিএনপি সরকার গঠন করেছে।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, এই ধরনের স্বচ্ছ প্রক্রিয়া নিয়ে জামায়াত আমিরের বিতর্কিত মন্তব্য অনভিপ্রেত এবং সুস্থ চিন্তার পরিপন্থী। তিনি জানান, বিএনপি কেবল এই বক্তব্য প্রত্যাখ্যানই করেনি, বরং এর তীব্র নিন্দাও জানিয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, ৫ আগস্টের পর গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার যে সুযোগ তৈরি হয়েছে, একটি বিশেষ পক্ষ বারবার বিভ্রান্তি ছড়িয়ে তা নষ্ট করার চেষ্টা করছে। তারা দেশকে আবারও স্বৈরাচারের দিকে ঠেলে দিতে চায় কি না, তা দেশবাসীকে ভেবে দেখার আহ্বান জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের প্রধান সমন্বয়ক শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস এমপি এবং যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন এমপি প্রমুখ।
১২৪ বার পড়া হয়েছে