বন্ধুকে হত্যার দায়ে কুয়েতে বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড
বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬ ৯:১৮ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
কুয়েতে স্ত্রীর ছবি ফেসবুকে প্রকাশের পর তা মুছে ফেলতে অস্বীকৃতি জানানোর জেরে বন্ধুকে হত্যার দায়ে এক বাংলাদেশি প্রবাসীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি ফৌজদারি আদালত। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) এ রায় ঘোষণা করা হয়।
কুয়েতে স্ত্রীর ব্যক্তিগত ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশ করাকে কেন্দ্র করে বন্ধুকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার দায়ে এক বাংলাদেশি প্রবাসীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি ফৌজদারি আদালত। কুয়েতের পাবলিক প্রসিকিউশনের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানা গেছে।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের তথ্য অনুযায়ী, নিহত ব্যক্তির সঙ্গে অভিযুক্তের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল। তবে অভিযুক্তের স্ত্রীর ব্যক্তিগত ছবি ফেসবুকে প্রকাশের পর তাঁদের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। একাধিকবার ছবি সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ জানানো হলেও তাতে সাড়া দেননি নিহত ব্যক্তি। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বন্ধুকে হত্যার পরিকল্পনা করেন অভিযুক্ত।
প্রসিকিউশনের তথ্যমতে, হত্যার উদ্দেশ্যে অভিযুক্ত একটি ছুরি সংগ্রহ করেন। পরে বন্ধুর কর্মস্থলের নির্দিষ্ট স্থানে তাঁর উপস্থিতি নিশ্চিত হয়ে বাইরে অপেক্ষা করতে থাকেন। একপর্যায়ে বন্ধু বাইরে বেরিয়ে এলে তাঁর ওপর অতর্কিত হামলা চালান অভিযুক্ত। এ সময় মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করা হয়। গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান ওই ব্যক্তি।
আদালতে শুনানির সময় হত্যার দায় স্বীকার করেন অভিযুক্ত। তিনি জানান, ঘটনার আগে নিহত ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব ছিল।
আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে অভিযুক্ত বলেন, একবার তাঁর বাসায় বেড়াতে এসে বন্ধু অনুমতি ছাড়াই তাঁর স্ত্রীর ছবি তোলেন। পরে সেই ছবিগুলো ফেসবুকে প্রকাশ করেন। ছবি প্রকাশের পর তাঁর স্ত্রীকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপত্তিকর মন্তব্য করা শুরু হয়।
এ পরিস্থিতিতে বন্ধুকে ছবিগুলো মুছে ফেলার অনুরোধ জানান তিনি। কিন্তু সেই অনুরোধ উপেক্ষা করে পরবর্তী সময়ে তাঁর স্ত্রীর আরও ছবি ফেসবুকে প্রকাশ করেন ওই বন্ধু। এতে তাঁদের দাম্পত্য জীবনে উত্তেজনা ও পারিবারিক অশান্তি সৃষ্টি হয় বলে আদালতকে জানান অভিযুক্ত।
অভিযুক্তের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব ঘটনার পর তাঁর মধ্যে প্রতিশোধ নেওয়ার মনোভাব তৈরি হয়। একপর্যায়ে বন্ধুকে হত্যার পরিকল্পনা করেন তিনি। পরে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে বন্ধুকে হত্যা করেন।
মামলার শুনানি শেষে সব তথ্য-প্রমাণ ও অভিযুক্তের স্বীকারোক্তি পর্যালোচনা করে আদালত হত্যাকাণ্ডটিকে ইচ্ছাকৃত ও পূর্বপরিকল্পিত বলে বিবেচনা করেন। এরপর অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন।
১৩৩ বার পড়া হয়েছে