সর্বশেষ

আন্তর্জাতিক

ইসরায়েলে সরকার গঠনের দায়িত্ব পেলেন গাদি আইজেনকট

ডেস্ক রিপোর্ট
ডেস্ক রিপোর্ট

রবিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৬ ৩:২০ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ইসরায়েলের পরবর্তী সরকার গঠনের দায়িত্ব পেয়েছেন বিরোধী দল ইয়াশারের নেতা ও দেশটির সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকট। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে পাশ কাটিয়ে প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ তাঁকে এ দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সংসদ সদস্যদের মধ্যে আইজেনকটের প্রতি বেশি সমর্থন থাকায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার (৭ নভেম্বর) সন্ধ্যায় প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ টেলিফোনে আইজেনকটকে তাঁর সিদ্ধান্তের কথা জানান। রোববার এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর হাতে সরকার গঠনের দায়িত্ব তুলে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র।

গত ২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক জোট একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। এ কারণে পরবর্তী সরকার গঠনের দায়িত্ব কাকে দেওয়া হবে, তা নির্ধারণে চলতি সপ্তাহে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করেন প্রেসিডেন্ট হারজগ।

এ আলোচনায় আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলোর সংসদ সদস্যসহ মোট ৬৭ জন আইনপ্রণেতা আইজেনকটের প্রতি সমর্থন জানান। অন্যদিকে নেতানিয়াহুর পক্ষে সমর্থন দেন ৪৬ জন আইনপ্রণেতা। সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের সুপারিশ পাওয়ায় আইজেনকটকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন প্রেসিডেন্ট।

সরকার গঠনের জন্য আইজেনকট ২৮ দিন সময় পাবেন। প্রয়োজন হলে এ সময় আরও ১৪ দিন বাড়ানো যাবে। ইসরায়েলের ১২০ আসনের পার্লামেন্ট নেসেটে সরকার গঠনের জন্য সাধারণত অন্তত ৬১ জন সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন।

নির্বাচনে চার দলের জোট নিয়ে আইজেনকটের পক্ষ ৪৮টি আসন পেয়েছিল। অন্যদিকে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ডানপন্থী ও ধর্মীয় দলগুলোর জোট পেয়েছিল ৫৩টি আসন। ফলে কোনো জোটই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। নির্বাচনে ইসরায়েলের ফিলিস্তিনি নাগরিকদের প্রতিনিধিত্বকারী আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলো রেকর্ড ১৯টি আসন পেয়েছে।

তবে আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলোর সঙ্গে জোট সরকার গঠনের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন আইজেনকট। এসব দলের সমর্থন পেলে তাঁর জোটের পক্ষে মোট আসনসংখ্যা দাঁড়াবে ৬৭। এ ছাড়া কট্টর ইহুদিদের দল ইউনাইটেড তোরাহ জুদাইজম ও শাস দলের সমর্থন পেলে তিনি ৬১টি আসনের সমর্থন পেতে পারেন।

অবশ্য পার্লামেন্টে আস্থা ভোটে জয়ী হতে পারলে ৬১ জন সদস্যের সরাসরি সমর্থন ছাড়াও সংখ্যালঘু সরকার গঠনের সুযোগ রয়েছে তাঁর।

আল-জাজিরার প্রতিবেদক নূর ওদেহ অধিকৃত পশ্চিম তীরের রামাল্লাহ থেকে জানান, প্রেসিডেন্ট হারজগের এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাশিত ছিল। কারণ, সরকার গঠনের জন্য সবচেয়ে বেশি আইনপ্রণেতার সুপারিশ পেয়েছিলেন আইজেনকট।

নূর ওদেহর ভাষ্য অনুযায়ী, এখন আইজেনকটের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো এমন একটি সরকার গঠন করা, যা নির্বাচনী প্রচারে দেওয়া তাঁর প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ থাকবে। একই সঙ্গে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ডানপন্থী জোটের বিরোধিতাও মোকাবিলা করতে হবে তাঁকে।

আইজেনকট নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সরকার গঠনে ব্যর্থ হলে প্রেসিডেন্ট অন্য একজনকে এ দায়িত্ব দিতে পারবেন। দ্বিতীয় মনোনীত প্রার্থীও ব্যর্থ হলে পার্লামেন্টের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যরা তৃতীয় কাউকে সমর্থন করতে পারবেন। ওই প্রার্থী সরকার গঠনের জন্য শেষবারের মতো ১৪ দিন সময় পাবেন।

এরপরও সরকার গঠন সম্ভব না হলে ৯০ দিনের মধ্যে নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সে ক্ষেত্রে তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন নেতানিয়াহু।

গাদি আইজেনকট ২০১৫ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ইসরায়েলের সেনাপ্রধান ছিলেন। ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরুর পর প্রথম আট মাস তিনি নেতানিয়াহুর যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভায় পর্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

এদিকে শনিবার আল-জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলোর জোট জয়েন্ট লিস্টের জ্যেষ্ঠ সদস্য আহমদ তিবি বলেন, প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্ত প্রত্যাশিত ছিল। তবে আইজেনকট ও নেতানিয়াহুর মধ্যে ক্ষমতা ভাগাভাগির মাধ্যমে জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠনের সম্ভাবনা নিয়ে তাঁরা উদ্বিগ্ন ছিলেন।

আহমদ তিবির মতে, আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলো আইজেনকটের প্রতি সমর্থন জানানোয় সরকার গঠনের ক্ষেত্রে তিনি উল্লেখযোগ্য সুবিধা পেয়েছেন। আরব দলগুলোর বাইরের সমর্থন নিয়েও আইজেনকট একটি সংখ্যালঘু সরকার গঠন করতে পারেন বলে ধারণা করছেন তিনি।

১১৯ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০















সর্বশেষ সব খবর
আন্তর্জাতিক নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০


বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০