প্রাথমিক শিক্ষায় ৩০ কোটি ডলার দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক
রবিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৬ ৩:২৫ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
দেশের প্রাক্-প্রাথমিক ও প্রাথমিক পর্যায়ের ২ কোটি ৬০ লাখ শিশুর শিক্ষার মান উন্নয়নে ৩০ কোটি মার্কিন ডলারের অর্থায়ন অনুমোদন করেছে বিশ্বব্যাংক। এ অর্থ দিয়ে শিক্ষার্থীদের পড়া, লেখা ও গণিতের মৌলিক দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, বিদ্যালয়ের নেতৃত্ব ও ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে।
বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষার মান উন্নয়নে ৩০ কোটি মার্কিন ডলারের অর্থায়ন অনুমোদন করেছে বিশ্বব্যাংক। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) এক বিজ্ঞপ্তিতে সংস্থাটি এ তথ্য জানিয়েছে।
বিশ্বব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক পর্ষদ ‘লার্নিং এনহ্যান্সমেন্ট অ্যান্ড অ্যাক্সিলারেশন ইন প্রাইমারি এডুকেশন’ কর্মসূচির আওতায় এ অর্থায়নের অনুমোদন দিয়েছে। কর্মসূচিটির মূল লক্ষ্য হলো, শিক্ষার্থীরা যেন শ্রেণি অনুযায়ী পড়া, লেখা ও গণিতে প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করতে পারে। পাশাপাশি সরকারের পঞ্চম প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নেও এ অর্থ ব্যয় করা হবে।
বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রাথমিক শিক্ষায় প্রায় সর্বজনীন প্রবেশাধিকার নিশ্চিত হলেও শিক্ষার্থীদের শেখার মান এখনো প্রত্যাশিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। দেশের ১০ বছর বয়সী শিশুদের প্রায় অর্ধেকই বয়স উপযোগী সাধারণ লেখা পড়ে তা বুঝতে পারে না। তুলনামূলকভাবে মালয়েশিয়ায় এ হার ৪২ শতাংশ এবং ব্রাজিলে ৪৭ শতাংশ।
বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটানবিষয়ক ডিভিশন ডিরেক্টর জ্যঁ পেসম বলেন, বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় সক্ষম কর্মশক্তি গড়ে তুলতে মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। গত দুই দশকে বাংলাদেশের প্রায় সব শিশুকে বিদ্যালয়ের আওতায় আনতে সহায়তা করেছে বিশ্বব্যাংক গ্রুপ। নতুন অর্থায়নের ফলে শিক্ষার্থীদের শেখার অগ্রগতি বাড়বে এবং বিদ্যালয়ে তাদের ধরে রাখার সুযোগ তৈরি হবে। এর মধ্য দিয়ে ভবিষ্যতে কর্মসংস্থানের পথও সুগম হবে।
সংস্থাটি জানায়, বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা বিশ্বের বৃহত্তম ব্যবস্থাগুলোর একটি। সরকারি ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা পরিচালিত বিদ্যালয়, কিন্ডারগার্টেন এবং মাদ্রাসায় ২ কোটির বেশি শিশু পড়াশোনা করছে।
নতুন কর্মসূচির আওতায় শিক্ষার্থীদের সাক্ষরতা ও গণিতের ভিত্তি মজবুত করতে পাঠদানের উপকরণ, পরিকল্পিত পাঠক্রম এবং শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ নিয়ে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ ছাড়া দেশের ৯০ শতাংশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের নেতৃত্ববিষয়ক প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। বিদ্যালয়ের পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থার উন্নয়নেও কাজ করা হবে।
বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র এডুকেশন স্পেশালিস্ট ও কর্মসূচির টিম লিডার তাশমিনা রহমান বলেন, ভবিষ্যতে ভালো কর্মসংস্থানের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনে মৌলিক শিক্ষার ভিত্তি শক্তিশালী করা জরুরি। এ জন্য পিছিয়ে থাকা শিক্ষার্থীদের বিশেষ পাঠদান বা অতিরিক্ত সহায়ক শিক্ষার ব্যবস্থা রাখা হবে। বিশেষ করে পিছিয়ে পড়া জেলাগুলোতে এ কার্যক্রমকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধি, বিদ্যালয় পর্যায়ে নেতৃত্বের বিকাশ, বাজেট ব্যবহারে জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে তথ্যের কার্যকর ব্যবহারেও এ কর্মসূচি সহায়তা করবে।
কর্মসূচির আওতায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে। এর ফলে শ্রেণিকক্ষে পড়া, লেখা ও গণিতের মৌলিক বিষয়গুলো আরও কার্যকরভাবে শেখানো সম্ভব হবে। একই সঙ্গে সরকারি বিদ্যালয়ে প্রাক্-প্রাথমিক শিক্ষার মান উন্নয়নের পরিকল্পনা রয়েছে। এতে শিশুরা বিদ্যালয়ে ভর্তির আগেই প্রাথমিক শিক্ষার জন্য ভালোভাবে প্রস্তুত হওয়ার সুযোগ পাবে।
বিশ্বব্যাংকের ধারণা, কর্মসূচি বাস্তবায়নের ফলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ৮ লাখ ৪৩ হাজার নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। এসব কর্মসংস্থানে তুলনামূলক ভালো বেতন পাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
এ কর্মসূচির অর্থায়ন আসছে বিশ্বব্যাংক গ্রুপের সহযোগী সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের (আইডিএ) কাছ থেকে। ২৫ বছর মেয়াদি এ অর্থায়নের ক্ষেত্রে প্রথম পাঁচ বছর ঋণ পরিশোধে ছাড় থাকবে।
১২০ বার পড়া হয়েছে