অভিশংসনের পরই গৃহবন্দী প্যারাগুয়ের সাবেক প্রেসিডেন্ট পেনিয়া
শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৬ ৫:১৪ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
ব্যাপক আর্থিক কেলেঙ্কারি ও রাজনৈতিক সংকটের জেরে অভিশংসিত হয়েছেন প্যারাগুয়ের ডানপন্থী প্রেসিডেন্ট সান্তিয়াগো পেনিয়া। অভিশংসনের কয়েক মিনিটের মধ্যেই তাঁকে গৃহবন্দী করার নির্দেশ দেওয়া হয়। বিতর্কিত উয়েনো ব্যাংককে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। ব্যাংকটির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দেশটির প্রায় ২৯ লাখ গ্রাহক নিজেদের ব্যাংক হিসাব থেকে টাকা তুলতে পারছেন না।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্যারাগুয়ের সাম্প্রতিক এই আর্থিক কেলেঙ্কারিতে দেশটির অর্ধেকের বেশি মানুষ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। উয়েনো ব্যাংকের কার্যক্রম স্থগিত হওয়ায় প্রায় ২৯ লাখ গ্রাহকের ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়েছে। এই সংখ্যা দেশটির মোট প্রাপ্তবয়স্ক জনগোষ্ঠীর প্রায় ৬০ শতাংশ।
তদন্তে উঠে এসেছে, প্রেসিডেন্ট সান্তিয়াগো পেনিয়ার প্রশাসন উয়েনো ব্যাংককে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটি দ্রুত সম্প্রসারিত হয়। পরবর্তী সময়ে ব্যাংকটির বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। একপর্যায়ে এর কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হলে বিপাকে পড়েন লাখ লাখ গ্রাহক। নিজেদের জমানো টাকা তুলতে না পারায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনাসহ দৈনন্দিন খরচ মেটাতেও হিমশিম খাচ্ছেন তাঁরা।
এ ঘটনায় দেশজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার চাপে পড়ে এবং প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সমর্থন ক্রমেই কমতে থাকে।
গত সপ্তাহে পেনিয়ার বিরুদ্ধে দ্রুত অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরু হয়। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি নির্দেশ জারির মধ্য দিয়ে প্রক্রিয়াটি শেষ হয়। এরই মধ্যে ভাইস প্রেসিডেন্ট পেদ্রো আলিয়ানা নতুন নেতা হিসেবে শপথ নেন।
পেনিয়ার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন, অর্থ পাচার এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের মতো গুরুতর অভিযোগে তদন্ত শুরু করেছে সরকারি কৌঁসুলির কার্যালয়।
বিশ্লেষকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, উয়েনো ব্যাংকে রাষ্ট্রীয় তহবিল ও পেনশন তহবিল থেকে প্রায় ৮০ থেকে ৮৬ কোটি ডলার বিনিয়োগ করা হয়েছিল। অন্যদিকে, ব্যাংকটির মূল প্রতিষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট পেনিয়ার প্রায় ১০ লাখ ডলারের শেয়ার ছিল। ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে তিনি ওই শেয়ার বিক্রি করে দেন।
ব্যাংকটির আর্থিক অনিয়মের ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর পেনিয়ার বিরুদ্ধে জনরোষ বাড়তে থাকে। একই সময়ে দেশটিতে খুচরা বিক্রি ৮০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়। এমন পরিস্থিতিতে নিজ দলের সমর্থনও হারান তিনি। বিরোধী দলের সিনেটররা এ ঘটনাকে প্যারাগুয়ের গণতান্ত্রিক ইতিহাসের অন্যতম বড় দুর্নীতি ও জালিয়াতির ঘটনা বলে অভিহিত করেছেন।
এদিকে পেনিয়া আর্জেন্টিনায় পালিয়ে যেতে পারেন—এমন গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়লেও তিনি নিজ বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন। শেষ পর্যন্ত আইনি সুরক্ষার সুযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাঁকে সাধারণ আদালতে বিচারের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
১১০ বার পড়া হয়েছে