সর্বশেষ

আইন-আদালত

শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামানের সম্পত্তি নিয়ন্ত্রণে নিতে চিঠি, কি কি আছে সম্পদে

স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬ ১২:৩০ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সব স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়। এসব সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার ও ভুক্তভোগীদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। তাঁর স্বাক্ষরিত চিঠিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর একান্ত সচিব ও আইনমন্ত্রীর একান্ত সচিবকেও অবহিত করা হয়েছে।

চিঠির বিষয়বস্তুতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর দেওয়া রায়ে দণ্ডিত পলাতক আসামি শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খানের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার আদেশ বাস্তবায়নের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়, ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এক মামলার রায়ে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খানকে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ড দেন। একই সঙ্গে তাঁদের সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার ও ভুক্তভোগীদের ক্ষতিপূরণ হিসেবে বিতরণের নির্দেশ দেওয়া হয়। রায়ে এসব সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার আদেশ বাস্তবায়নে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছিল।

চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ের চিঠিতে আশঙ্কা প্রকাশ করে বলা হয়েছে, দ্রুত সম্পত্তি রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া না হলে দণ্ডিত দুই ব্যক্তি যেকোনো সময় তাঁদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি ভোগ, বিক্রি কিংবা অন্য কারও কাছে হস্তান্তর করতে পারেন। এতে ট্রাইব্যুনালের দেওয়া বাজেয়াপ্তকরণের আদেশ বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খানের সব স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি করে তা দ্রুত রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। পাশাপাশি ট্রাইব্যুনালের নির্দেশনা অনুযায়ী এসব সম্পত্তি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার ও ভুক্তভোগীদের ক্ষতিপূরণ হিসেবে বিতরণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলা হয়েছে।

শেখ হাসিনার হলফনামায় ঘোষিত সম্পদ
২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গোপালগঞ্জ-৩ আসনের প্রার্থী হিসেবে শেখ হাসিনা যে হলফনামা জমা দিয়েছিলেন, তাতে নিজের নামে মোট ৪ কোটি ৩৪ লাখ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ দেখান।

হলফনামা অনুযায়ী, তাঁর হাতে নগদ অর্থ ছিল ২৮ হাজার ৫০০ টাকার মতো। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা ছিল প্রায় ২ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। এ ছাড়া ২৫ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র এবং ৫৫ লাখ টাকার স্থায়ী আমানত (এফডিআর) দেখানো হয়েছিল।

শেখ হাসিনার নামে তিনটি মোটরগাড়ি ছিল। এর মধ্যে একটি উপহার হিসেবে পাওয়া গাড়ির মূল্য উল্লেখ করা হয়নি। বাকি দুটি গাড়ির দাম দেখানো হয় সাড়ে ৪৭ লাখ টাকা। তাঁর সোনা ও অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর মূল্য ছিল ১৩ লাখ ২৫ হাজার টাকা এবং আসবাবের মূল্য দেখানো হয়েছিল ৭ লাখ ৪০ হাজার টাকা।

কৃষিজমির পরিমাণ হিসেবে ১৫ দশমিক ৩ বিঘা জমির কথা উল্লেখ করেন তিনি। এসব জমির ক্রয়মূল্য দেখানো হয়েছিল ৬ লাখ ৭৮ হাজার টাকা। জমিগুলো টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ সদর, গাজীপুর ও রংপুরে অবস্থিত।

এ ছাড়া ঢাকার পূর্বাচলে শেখ হাসিনার নামে একটি প্লট রয়েছে। হলফনামায় এর মূল্য দেখানো হয়েছিল ৩৪ লাখ ৭৬ হাজার টাকা। নিজের নামে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় তিনতলা ভবনসহ ৬ দশমিক ১০ শতক জমির কথাও উল্লেখ করেন তিনি। এর অর্জনকালীন মূল্য দেখানো হয়েছিল ৫ লাখ টাকা।

গাজীপুর শহর থেকে প্রায় ১৩ কিলোমিটার দূরে মৌচাকের তেলিরচালা এলাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের পাশে শেখ হাসিনা ও তাঁর পরিবারের একটি বাগানবাড়ি রয়েছে। এটি বাংলাদেশ স্কাউট প্রশিক্ষণকেন্দ্রের পূর্ব পাশে অবস্থিত।

স্থানীয় ভূমি কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৭০ সালের দিকে স্থানীয় এক ব্যক্তি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে জমিটি লিখে দিয়েছিলেন। পরে উত্তরাধিকারসূত্রে জমির মালিক হন শেখ হাসিনা ও তাঁর বোন শেখ রেহানা। তাঁদের কাছ থেকে জমির কিছু অংশ সন্তানদের নামে হস্তান্তর করা হয়।

এভাবে শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ ও মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ এবং শেখ রেহানার ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ও মেয়ে আজমিনা সিদ্দিক জমির মালিক হন। নথিপত্র অনুযায়ী, সেখানে মোট জমির পরিমাণ ২৯৭ শতক বা প্রায় ৯ বিঘা।

এ ছাড়া শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে তাঁর নিজের নামে, ছেলে-মেয়ে এবং ছোট বোন ও তাঁর সন্তানদের নামে পূর্বাচলে ১০ কাঠা করে প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়। পরিবারের ছয় সদস্যের নামে মোট ৬০ কাঠা জমি বরাদ্দের তথ্য রয়েছে।

ক্ষমতার অপব্যবহার ও অনিয়মের মাধ্যমে এসব প্লট বরাদ্দের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলা চলমান রয়েছে।

দুর্নীতি দমন কমিশন ২০২৫ সালের ২২ মে এক ব্রিফিংয়ে জানায়, ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শেখ হাসিনা তাঁর নির্বাচনী হলফনামায় অসত্য তথ্য দিয়েছিলেন। সে সময় তিনি নিজের নামে ৬ দশমিক ৫০ একর জমি থাকার কথা উল্লেখ করেন। জমি কেনার সময় এর মূল্য দেখানো হয়েছিল ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা।

দুদকের যাচাইয়ে শেখ হাসিনার নামে ২৮ একর ৪১ শতকের বেশি স্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া যায় বলে সংস্থাটি জানায়। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে নির্বাচন কমিশনকে চিঠিও দিয়েছিল দুদক।

অন্যদিকে, ঢাকার ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাড়িটির মালিকানা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্টের নামে রয়েছে। শেখ হাসিনার বাসভবন সুধা সদনের মালিকানা তাঁর ছেলে সজীব ওয়াজেদ ও মেয়ে সায়মা ওয়াজেদের নামে।

আসাদুজ্জামান খানের ঘোষিত সম্পদ
সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১২ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ওই নির্বাচনে তাঁর জমা দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী, হাতে নগদ অর্থ ছিল ৮৪ লাখ টাকার কিছু বেশি। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা ছিল প্রায় ৮২ লাখ টাকা।

এ ছাড়া বন্ড ও শেয়ারে প্রায় ২৪ লাখ টাকা এবং ডাকঘর, সঞ্চয়পত্র ও স্থায়ী আমানতে ২ কোটি ১ লাখ টাকা থাকার তথ্য দেন তিনি।

হলফনামায় দুটি মোটরগাড়ির মূল্য দেখানো হয় ১ কোটি ৬১ লাখ টাকা। ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম ও আসবাবের মূল্য ছিল ২ লাখ টাকা। ব্যবসার মূলধন হিসেবে ঋণ বাবদ ২ কোটি ২০ লাখ টাকার তথ্য উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর কাছে ১০ ভরি সোনা থাকার কথা বলা হলেও এর মূল্য উল্লেখ করা হয়নি।

কৃষিজমির পরিমাণ দেখানো হয় ১৭১ শতাংশ বা ৫ বিঘার বেশি। এসব জমির অর্জনকালীন মূল্য ১ কোটি ৬ লাখ টাকা। অকৃষিজমির পরিমাণ সাড়ে ১৮ শতাংশ, যার অর্জনকালীন মূল্য সাড়ে ৫৮ লাখ টাকা।

এ ছাড়া গ্রামের বাড়ির মূল্য ৮০ লাখ টাকা এবং অন্য একটি বাড়ি বা অ্যাপার্টমেন্টের মূল্য প্রায় ১৩ লাখ টাকা উল্লেখ করা হয়। সব মিলিয়ে হলফনামায় তাঁর সম্পদের অর্থমূল্য দেখানো হয়েছিল প্রায় ১০ কোটি ২৫ লাখ টাকা। তবে ১০ ভরি সোনার মূল্য এই হিসাবের বাইরে।

সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সম্পদের অনুসন্ধান করছে দুর্নীতি দমন কমিশন। দুদক কর্মকর্তাদের ভাষ্য, তাঁর জ্ঞাত আয়ের বাইরে সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে।

এ ঘটনায় দুদক মামলা করেছে। আদালতে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অসাধু উপায়ে জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ ১৬ কোটি ৪২ লাখ টাকার সম্পদ অর্জন ও দখলে রাখার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

১১৮ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০















সর্বশেষ সব খবর
আইন-আদালত নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০


বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০