সর্বশেষ

লাইফস্টাইল

প্রতিদিনের রান্নায় কোন লবণ সবচেয়ে ভালো?

ডেস্ক রিপোর্ট
ডেস্ক রিপোর্ট

বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬ ১২:১৭ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
খাবারের স্বাদ বাড়াতে লবণের ব্যবহার অপরিহার্য। তবে শুধু স্বাদের জন্য নয়, শরীরে আয়োডিনের চাহিদা পূরণেও লবণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বাজারে সাদা লবণের পাশাপাশি গোলাপি, বিট ও সামুদ্রিক লবণসহ নানা ধরনের লবণ পাওয়া যায়। কিন্তু প্রতিদিনের রান্নায় কোন লবণ ব্যবহার করা বেশি স্বাস্থ্যকর?

ভারতের হায়দরাবাদের ক্যানসার সার্জন চিকিৎসক অর্জুন শঙ্করণ সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে এক পোস্টে বিভিন্ন ধরনের লবণের পুষ্টিগুণ ও ব্যবহার নিয়ে আলোচনা করেছেন। তাঁর মতে, লবণের রঙ বা ধরন নয়, বরং তাতে আয়োডিন রয়েছে কি না, সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

সাদা লবণ

অনেকের ধারণা, সাদা লবণ রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় সাদা করা হয়। তবে চিকিৎসক অর্জুন শঙ্করণ জানিয়েছেন, বিশুদ্ধ লবণ প্রাকৃতিকভাবেই সাদা। ভারতে উৎপাদিত অধিকাংশ লবণ সমুদ্রের পানি থেকে সংগ্রহ করা হয়। পরে তা শুকানো, পরিশোধন ও আয়োডিনযুক্ত করা হয়।

তাঁর পরামর্শ, প্রতিদিনের রান্নায় আয়োডিনযুক্ত সাদা লবণ ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে শরীরের প্রয়োজনীয় আয়োডিনের চাহিদা পূরণে সহায়তা পাওয়া যায়।

গোলাপি, সেন্ধা ও বিট লবণ

গোলাপি লবণ, সেন্ধা লবণ ও বিট লবণ মূলত খনিজ শিলা থেকে পাওয়া যায়। গোলাপি লবণে কিছু অতিরিক্ত খনিজ উপাদান থাকলেও সেগুলোর পরিমাণ শরীরে উল্লেখযোগ্য উপকার করার মতো নয়।

অন্যদিকে, বিট লবণ ও সেন্ধা লবণে আয়োডিনের পরিমাণও তুলনামূলকভাবে কম। স্বাদে ভিন্নতা আনতে এসব লবণ মাঝেমধ্যে ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে প্রতিদিনের রান্নায় এগুলোকে আয়োডিনযুক্ত লবণের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা ঠিক নয়।

সামুদ্রিক লবণ

সমুদ্রের পানি থেকে তৈরি হয় সামুদ্রিক লবণ। তবে সব সামুদ্রিক লবণে পর্যাপ্ত আয়োডিন থাকে না। প্যাকেটের গায়ে ‘আয়োডিনযুক্ত’ বা ‘আয়োডাইজড’ লেখা থাকলে সেটি প্রতিদিনের রান্নায় ব্যবহার করা যেতে পারে।

কম সোডিয়ামযুক্ত লবণ

উচ্চ রক্তচাপের সমস্যায় থাকা ব্যক্তিদের অনেক সময় চিকিৎসকেরা কম সোডিয়ামযুক্ত লবণ ব্যবহারের পরামর্শ দেন। এ ধরনের লবণে সাধারণ সোডিয়াম ক্লোরাইডের কিছু অংশের পরিবর্তে পটাশিয়াম ক্লোরাইড ব্যবহার করা হয়। এতে খাবারের স্বাদ বজায় রেখে সোডিয়াম গ্রহণের পরিমাণ কমানো সম্ভব।

তবে এ ধরনের লবণ সবার জন্য উপযুক্ত নয়। বিশেষ করে কিডনির সমস্যা থাকলে বা নির্দিষ্ট ওষুধ সেবন করলে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এটি ব্যবহার করা উচিত নয়।

প্রতিদিন কতটুকু লবণ খাওয়া উচিত?

চিকিৎসক অর্জুন শঙ্করণের মতে, লবণের রঙের চেয়ে এতে আয়োডিনের উপস্থিতি বেশি গুরুত্বপূর্ণ। থাইরয়েড গ্রন্থির স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে আয়োডিন প্রয়োজন। শিশুদের মস্তিষ্কের স্বাভাবিক বিকাশেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

তাই প্রতিদিনের রান্নায় আয়োডিনযুক্ত লবণ ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি আচার, পাপড়, চাটনি ও অন্যান্য খাবার থেকে পাওয়া লবণসহ দৈনিক মোট লবণের পরিমাণ এক টেবিল চামচের বেশি না রাখার পরামর্শ দিয়েছেন।

স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের জন্য প্রয়োজনের অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ এড়িয়ে চলা জরুরি।

১৩৭ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০















সর্বশেষ সব খবর
লাইফস্টাইল নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০


বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০