কুষ্টিয়ায় মসজিদের মাইকে গ্রামবাসী ডেকে দোকানঘর-গোডাউন ভাঙচুরের অভিযোগ
বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬ ১২:১৪ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে গ্রামবাসীকে জড়ো করে ১২টি দোকানঘর ও গোডাউন ভাঙচুর এবং মালামাল লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দিতে গেলে ভুক্তভোগীদের বাড়িঘর অবরুদ্ধ করে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। তবে অভিযুক্ত নেতা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার মরিচা ইউনিয়নের হাটখোলা পাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গত সোমবার (২ নভেম্বর) স্থানীয় হাটখোলা পাড়া কবরস্থানের জমি নিয়ে বিরোধের জেরে এ ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। অভিযুক্ত সোনা মহলদার মরিচা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হাটখোলা পাড়া এলাকার মৃত খলিল দফাদারের ছয় ছেলে দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবে বসবাস করছেন। সম্প্রতি তাঁদের দুই ছেলে সুনারুল দফাদার ও শওকত দফাদার দেশে ফেরেন। এরপর স্থানীয় বিএনপি নেতা সোনা মহলদার, সিদ্দিক মহলদার ও নুরু মহলদারসহ কয়েকজন হাটখোলা পাড়া কবরস্থানের সভাপতি লিটন মালিথাকে সঙ্গে নিয়ে তাঁদের পৈতৃক সম্পত্তিতে নির্মিত দোকানঘর ও গোডাউন মার্কেটের জমি কবরস্থানের বলে দাবি করেন। এ নিয়ে জমি দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।
ভুক্তভোগীদের দাবি, প্রায় ৫০ থেকে ৬০ বছর আগে তাঁদের দাদা ১৯৬২ সালের এসএ রেকর্ডভুক্ত জমি হাটখোলা পাড়া কবরস্থানের জন্য বিক্রি করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে ১৯৭৪ সালে আরএস রেকর্ড তৈরির সময় মূল দাগটি তিনটি পৃথক দাগে বিভক্ত হয়। তাঁদের দাবি, কবরস্থানের জমি ও মার্কেটের জমির দাগ আলাদা এবং দুই সম্পত্তির মধ্যে কোনো সম্পর্ক নেই।
তাঁদের অভিযোগ, রাস্তা সংলগ্ন ও মূল্যবান হওয়ায় পৈতৃক সম্পত্তি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা চলছে। এ নিয়ে একাধিকবার বিরোধ সৃষ্টি হলেও প্রতিপক্ষ জমির মালিকানা-সংক্রান্ত কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেনি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সোমবার হাটখোলা জামে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে কবরস্থানের সদস্য ও গ্রামবাসীকে একত্র করা হয়। পরে তাঁদের উপস্থিতিতে ১২টি দোকানঘর ও গোডাউন ভাঙচুর এবং মালামাল লুটপাট করা হয়। এ সময় বিএনপি নেতা সোনা মহলদার ঘোষণা দেন, যেসব পরিবারের সদস্যরা ভাঙচুরে অংশ নেবেন না, তাঁদের মরদেহ কবরস্থানে দাফন করতে দেওয়া হবে না। এমন ঘোষণায় সামাজিক চাপ ও আতঙ্ক তৈরি করে স্থানীয়দের ভাঙচুরে অংশ নিতে বাধ্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী সুনারুল দফাদার বলেন, তাঁদের দাদা কবরস্থানের জন্য জমি বিক্রি করেছিলেন। কিন্তু বর্তমানে যে জমিতে মার্কেট ও দোকানপাট রয়েছে, তার সঙ্গে কবরস্থানের জমির কোনো সম্পর্ক নেই। জোরপূর্বক তাঁদের দোকানপাট ভাঙচুর ও জমি দখল করা হয়েছে। পুলিশের উপস্থিতিতেই এ ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেন তিনি।
সুনারুল দফাদার আরও বলেন, সোনা মহলদার ও কবরস্থানের সভাপতি লিটন মালিথা মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে কবরস্থানের সদস্যদের ডেকে এনে ভাঙচুরে বাধ্য করেছেন। থানায় অভিযোগ দিতে গেলে তাঁদের বাড়িঘর অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। বাইরে বের হলে বাড়িঘর ভাঙচুর ও হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় জীবনের নিরাপত্তা এবং পৈতৃক সম্পত্তি দখলের বিষয়ে সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন তিনি।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিএনপি নেতা সোনা মহলদার। তাঁর দাবি, ওই সম্পত্তি কবরস্থানের। ভুক্তভোগীরা দীর্ঘদিন ধরে জোরপূর্বক জমিটি ভোগদখল করে আসছেন। এ কারণে কবরস্থানের সদস্যসহ প্রায় তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে দোকানপাট ভাঙচুর ও লুটপাট করেছেন। ঘটনার সময় তিনি সংসদ সদস্যের বাসায় ছিলেন বলেও দাবি করেন সোনা মহলদার।
কবরস্থানের সভাপতি লিটন মালিথা বলেন, মার্কেটের জমিটি কবরস্থানের সম্পত্তি। বারবার বলা সত্ত্বেও তাঁরা জমিটি কবরস্থানের দখলে দিচ্ছিলেন না। এ কারণে এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে দোকানঘর ও গোডাউন ভাঙচুর এবং লুটপাট করেছেন। তবে জমির মালিকানা-সংক্রান্ত কাগজপত্র দেখতে চাইলে তিনি তা দেখাতে পারেননি।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, ঘটনাটি তিনি শুনেছেন এবং ভাঙচুরের বিষয়েও অবগত হয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত লিখিত কোনো অভিযোগ পাননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ভুক্তভোগীরা দীর্ঘদিন সৌদি আরবে থাকায় তাঁদের অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে পৈতৃক সম্পত্তি দখলের চেষ্টা চলছে। তাঁরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, লুট হওয়া মালামাল উদ্ধার এবং জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
১৫৪ বার পড়া হয়েছে