কুষ্টিয়ায় দুই কলেজে এইচএসসিতে পাস করেননি কেউ
সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬ ৯:৫১ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
কুষ্টিয়ায় দুটি কলেজে ২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেননি। এর মধ্যে কুমারখালী উপজেলার জগন্নাথপুর আইডিয়াল কলেজে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন মাত্র একজন শিক্ষার্থী। অন্যদিকে, মিরপুর উপজেলার হাজী নুরুল ইসলাম কলেজ থেকে আটজন পরীক্ষায় অংশ নিলেও পাস করতে পারেননি কেউ। শিক্ষক ও অবকাঠামো থাকা সত্ত্বেও শিক্ষার্থী সংকট এবং ফলাফল নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার জগন্নাথপুর আইডিয়াল কলেজটি প্রতিষ্ঠিত হয় ২০০৪ সালে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এখন পর্যন্ত কলেজটি মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অধিভুক্ত হলেও এমপিওভুক্ত হয়নি। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে ১৪ জন শিক্ষক রয়েছেন।
কলেজ সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর এইচএসসি পরীক্ষায় প্রতিষ্ঠানটি থেকে মোট তিনজন শিক্ষার্থী অংশ নেওয়ার কথা ছিল। তবে তাদের মধ্যে দুজন পরীক্ষায় অনুপস্থিত ছিলেন। বাকি একজন পরীক্ষায় অংশ নিলেও ইংরেজি বিষয়ে অকৃতকার্য হন। ফলে কলেজটির পাসের হার দাঁড়িয়েছে শূন্য।
জগন্নাথপুর আইডিয়াল কলেজের অধ্যক্ষ মজিবর রহমান বলেন, গ্রাম থেকে শিক্ষার্থী সংগ্রহ করে ভর্তি করাতে হয়। এলাকাটি চরসংলগ্ন হওয়ায় শিক্ষার্থীদের নিয়মিত কলেজে আনা কঠিন। কাউকে ভর্তি করাতে গেলে দেখা যায়, কেউ ধান কাটতে ব্যস্ত, আবার কেউ পরে আসার কথা বলে। ২০১৫ সাল থেকে কলেজে শিক্ষার্থী সংকট শুরু হয়েছে। এ বছর তিনজন পরীক্ষার্থীর মধ্যে দুজন অনুপস্থিত ছিলেন। একজন পরীক্ষা দিয়েও উত্তীর্ণ হতে পারেননি।
একই চিত্র দেখা গেছে কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার আমলা সদরপুর বামুনপাড়ার হাজী নুরুল ইসলাম কলেজে। ২০০০ সালে প্রতিষ্ঠিত এই কলেজটিও এখন পর্যন্ত এমপিওভুক্ত হয়নি। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে ১৩ জন শিক্ষক রয়েছেন।
কলেজ সূত্রে জানা যায়, এ বছর এইচএসসি পরীক্ষায় প্রতিষ্ঠানটি থেকে মোট ১৫ জন শিক্ষার্থী অংশ নেওয়ার কথা ছিল। তাদের মধ্যে সাতজন অনুপস্থিত ছিলেন। বাকি আটজন পরীক্ষায় অংশ নিলেও কেউ পাস করতে পারেননি।
কলেজটির অধ্যক্ষ শরিফুল ইসলাম বলেন, ২৬ বছর ধরে তাঁরা বিনা বেতনে কলেজের পেছনে শ্রম দিয়ে যাচ্ছেন। এখন পর্যন্ত কোনো বেতন পাননি। এবার পরীক্ষার ফলাফল তাঁদের জন্য বড় বিপর্যয় হয়ে এসেছে। ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের অর্থসহায়তা দিয়ে কলেজে ভর্তি করানো হয়। তারপরও এবার দুর্ভাগ্যজনকভাবে কেউ উত্তীর্ণ হতে পারেননি।
শিক্ষা অনুরাগী আব্দুর রাজ্জাক বাচ্চু বলেন, কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া সব শিক্ষার্থীর অকৃতকার্য হওয়া উদ্বেগজনক। শিক্ষার্থী সংকট ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা থাকলেও শিক্ষার মানের সঙ্গে আপস করা উচিত নয়। এসব প্রতিষ্ঠানে পাঠদানের মান, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও পরীক্ষার প্রস্তুতি নিশ্চিত করতে শিক্ষা প্রশাসনের কার্যকর নজরদারি প্রয়োজন। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানগুলোর সমস্যা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে হবে, যাতে গ্রামীণ এলাকার শিক্ষার্থীরা মানসম্মত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত না হয়।
এদিকে যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৪৪ দশমিক ৯২ শতাংশ। এ বছর বোর্ডের অধীনে মোট ১ লাখ ১২ হাজার ৭৯১ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৫০ হাজার ৬৬৮ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৩ হাজার ২২৮ জন।
গত বছর যশোর বোর্ডে পাসের হার ছিল ৫০ দশমিক ২০ শতাংশ। সে বছর জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন ৫ হাজার ৯৯৫ জন শিক্ষার্থী। অর্থাৎ, গত বছরের তুলনায় এবার পাসের হার ও সর্বোচ্চ জিপিএ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা—দুটিই কমেছে।
১২২ বার পড়া হয়েছে