সর্বশেষ

সারাদেশ

কুষ্টিয়ায় রেখা হত্যা মামলায় দুলাভাই আওলাদের খালাসে স্বামীর ক্ষোভ

নুর আলম দুলাল, কুষ্টিয়া
নুর আলম দুলাল, কুষ্টিয়া

সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬ ১০:০৫ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
কুষ্টিয়ায় কলেজছাত্রী রেখা পারভিনকে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় তাঁর দুলাভাই আওলাদ হোসেন জোয়ার্দ্দারকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত। তবে এ রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন নিহতের স্বামী হাফিজুর রহমান। তাঁর অভিযোগ, মামলার গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণ না করেই দ্রুত বিচারিক কার্যক্রম শেষ করে আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

কুষ্টিয়ায় কলেজছাত্রী রেখা পারভিনকে অপহরণ, ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় একমাত্র আসামি তাঁর বড় বোনের স্বামী আওলাদ হোসেন জোয়ার্দ্দারকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত। অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় এ রায় দেওয়া হয়েছে। তবে রায় নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন নিহতের স্বামী ও মামলার সাক্ষী হাফিজুর রহমান। তাঁর দাবি, মামলার গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণ না করেই দ্রুত বিচারিক কার্যক্রম শেষ করা হয়েছে।

আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের ৬ ডিসেম্বর সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কুমারখালী মহিলা ডিগ্রি কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রেখা পারভিনকে কলেজের ফটক থেকে মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে যান তাঁর বড় দুলাভাই আওলাদ হোসেন জোয়ার্দ্দার। ওই দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে কুষ্টিয়া শহরের হাউজিং এলাকার সি-ব্লকে ওয়াবদার পুরোনো গেটের সামনের গলি থেকে লাল কম্বলে মোড়ানো ও দড়ি দিয়ে বাঁধা অবস্থায় তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহতের বয়স ছিল ১৯ বছর।

এ ঘটনায় রেখার বাবা আব্দুর রহিম প্রামাণিক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে কুষ্টিয়া মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার তদন্তে নেমে পুলিশ সন্দেহভাজন হিসেবে আওলাদ হোসেনকে আটক করে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করেন বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়।

পুলিশের দাবি, আওলাদ হোসেন আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তাঁর দেওয়া তথ্য ও দেখানো স্থান থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আলামত উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া ময়নাতদন্ত, ভিসেরা প্রতিবেদন এবং চিকিৎসকদের সাক্ষ্যেও ধর্ষণ ও হত্যার আলামত পাওয়া যায় বলে মামলার নথিতে উল্লেখ রয়েছে।

পুলিশের তদন্ত শেষে ২০২৪ সালের ৫ এপ্রিল আওলাদ হোসেনকে একমাত্র আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন কুষ্টিয়া মডেল থানার উপপরিদর্শক আলমগীর হোসেন। পরবর্তী সময়ে আদালতে অভিযোগ গঠন ও সাক্ষ্য গ্রহণের কার্যক্রম চলে। ২০২৬ সালের ১৫ জুলাই যুক্তিতর্ক শেষে ৩ আগস্ট মামলার রায় ঘোষণা করেন কুষ্টিয়া নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক জয়নাল আবেদীন। রায়ে আসামিকে খালাস দেওয়া হয়।

নিহত রেখা পারভিনের স্বামী হাফিজুর রহমান জানান, ২০২৩ সালের ১৪ নভেম্বর পারিবারিকভাবে একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রেখার সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। বিয়ের পরদিনই তাঁর বড় ভায়রা আওলাদ হোসেন রেখাকে নিয়ে নানা আপত্তিকর মন্তব্য করেন এবং স্ত্রীকে তালাক দিয়ে চলে যাওয়ার পরামর্শ দেন। প্রয়োজনে এ কাজে সহযোগিতা করার কথাও বলেন তিনি।

হাফিজুরের অভিযোগ, বিয়ের মাত্র ২০ দিনের মাথায় রেখাকে কলেজ থেকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা ঘটে। মামলায় সাক্ষী হিসেবে তাঁর বক্তব্য দেওয়ার কথা থাকলেও তা নেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, মাত্র এক দিন সাক্ষ্য গ্রহণ ও এক দিন যুক্তিতর্কের মধ্য দিয়ে মামলাটি শেষ করে আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় তিনি ন্যায়বিচার পাননি বলে দাবি করেন।

নিহত রেখার মা মাজেদা বেগম বলেন, তাঁর এক মেয়ে হত্যার শিকার হয়েছেন। অন্য মেয়ে আসামির স্ত্রী এবং তাঁদের তিনটি সন্তান রয়েছে। পরিবারের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে তাঁরা আসামির বিরুদ্ধে জোরালো সাক্ষ্য দেননি। তবে আদালতের রায় নিয়ে তাঁদের কিছু করার ছিল না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মামলার ষষ্ঠ সাক্ষী ও নিহতের মামা আব্দুল আজিজ অভিযোগ করেন, আদালতে তাঁকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি। তাঁর ভাষ্য, ঘটনার পর আওলাদ তাঁর বাড়িতে এসেছিলেন। পরে তিনি নিজেই আওলাদকে থানায় নিয়ে যান। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আওলাদের সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে তাঁর দাবি। রায়ে অসন্তোষ জানিয়ে তিনি বলেন, এ রায় তিনি মেনে নিতে পারেননি।

হাফিজুর রহমানের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আব্দুর রহমান জানান, গত ৮ মে আদালতের বারান্দায় হাফিজুরকে কান্নাকাটি করতে দেখেন তিনি। হাফিজ তাঁকে জানিয়েছিলেন, মামলার সাক্ষী হয়েও তাঁকে সাক্ষ্য দিতে দেওয়া হচ্ছে না। পরে হাফিজ আদালতে উপস্থিত হয়ে সাক্ষ্য দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করলে তিনি বিচারকের কাছে তাঁর সাক্ষ্য গ্রহণের অনুরোধ জানান।

মামলার রায় প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি অ্যাডভোকেট আব্দুল মজিদ বলেন, নিহতের মা মাজেদা খাতুন এবং আসামির ছেলের নামে টাকা ও জমি লিখে নিয়ে আপস-মীমাংসা হয়েছে জানিয়ে বাদীপক্ষ মামলাটি নিষ্পত্তির অনুরোধ করেছিল।

তিনি আরও বলেন, আদালতের রায় বা আদেশে কোনো বিচারপ্রার্থী অসন্তুষ্ট কিংবা সংক্ষুব্ধ হলে উচ্চ আদালতে আপিল করার সুযোগ রয়েছে। আর্থিকভাবে অসচ্ছল ব্যক্তিদের জন্য সরকারি খরচে আপিল করার ব্যবস্থাও রয়েছে।

১২০ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০















সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০


বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০