সর্বশেষ

প্রযুক্তি

চ্যাটজিপিটির অতিরিক্ত ব্যবহার কি কমাচ্ছে মানুষের স্মৃতিশক্তি?

ডেস্ক রিপোর্ট
ডেস্ক রিপোর্ট

সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬ ১০:০৫ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
তথ্য মনে রাখা, জটিল প্রশ্নের উত্তর খোঁজা কিংবা কঠিন বিষয় বুঝতে এখন অনেকেই নির্ভর করছেন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ওপর। চ্যাটজিপিটির মতো প্রযুক্তি মানুষের কাজ ও শেখার প্রক্রিয়া সহজ করলেও অতিরিক্ত নির্ভরতা স্মৃতিশক্তি ও চিন্তাশক্তিতে প্রভাব ফেলতে পারে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এআইয়ের ব্যবহার নয়, বরং নিজের চিন্তা ও শেখার দায়িত্ব পুরোপুরি প্রযুক্তির হাতে তুলে দেওয়াই মূল চিন্তার বিষয়।

এআইয়ের সাহায্যে কয়েক মুহূর্তেই পাওয়া যাচ্ছে প্রয়োজনীয় তথ্য, লেখার সারসংক্ষেপ কিংবা জটিল বিষয়ের ব্যাখ্যা। এতে সময় ও শ্রম বাঁচছে। তবে এআই যখন মানুষের হয়ে তথ্য মনে রাখা, চিন্তা করা ও সমস্যা সমাধানের কাজ করে দেয়, তখন শেখার স্বাভাবিক প্রক্রিয়া কতটা ব্যাহত হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

ভারতের চেন্নাইয়ের গ্লেনিগলস হাসপাতালের জ্যেষ্ঠ পরামর্শক নিউরোসার্জন ও বিভাগীয় প্রধান ডা. নাইজেল পিটার সিমসের মতে, শেখা ও স্মৃতিশক্তি অনেকাংশে নির্ভর করে তথ্যের সঙ্গে মস্তিষ্কের সক্রিয় সম্পৃক্ততার ওপর।

মানুষের মস্তিষ্ক শেখা ও অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে নিজেকে পরিবর্তন এবং নতুন পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারে। এ ক্ষমতাকে বলা হয় নিউরোপ্লাস্টিসিটি। এর মাধ্যমে মস্তিষ্কের স্নায়ুকোষগুলোর মধ্যে নতুন সংযোগ তৈরি হয় এবং বিদ্যমান সংযোগ আরও শক্তিশালী হতে পারে।

কীভাবে তৈরি হয় স্মৃতি?

স্মৃতি তৈরি ও সংরক্ষণের প্রক্রিয়া কেবল তথ্য জমা রাখার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। প্রথমে মস্তিষ্ক তথ্য গ্রহণ করে, পরে তা সংরক্ষণ করে এবং প্রয়োজনের সময় স্মৃতি থেকে ফিরিয়ে আনে। এ প্রক্রিয়ায় মনোযোগ, পুনরাবৃত্তি, পূর্বজ্ঞান ও সক্রিয় অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

মস্তিষ্কের গভীরে থাকা হিপোক্যাম্পাস নতুন স্মৃতি তৈরির ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা রাখে। নতুন কিছু শেখার সময় মস্তিষ্ক তথ্য প্রক্রিয়াজাত করে এবং স্নায়বিক সংযোগ তৈরি করে। এসব সংযোগ পরবর্তী সময়ে তথ্য মনে করতে সাহায্য করে।

নিজের স্মৃতি থেকে কোনো তথ্য মনে করার চেষ্টাকে বলা হয় ‘অ্যাকটিভ রিকল’। শেখার ক্ষেত্রে এটি একটি কার্যকর পদ্ধতি হিসেবে পরিচিত। কোনো তথ্য সামনে রেখে শুধু তা চিনে নেওয়ার চেয়ে নিজে চেষ্টা করে মনে করার অভ্যাস স্মৃতিশক্তি চর্চায় বেশি সহায়ক হতে পারে।

এআইয়ের ওপর নির্ভরতা কতটা উদ্বেগের?

চ্যাটজিপিটির মতো এআই প্রযুক্তি দীর্ঘ লেখা সংক্ষেপ করা, প্রবন্ধ তৈরি, নতুন বিষয় ব্যাখ্যা এবং জটিল সমস্যার সম্ভাব্য সমাধান দিতে পারে। তবে মানুষ যখন নিজের চিন্তা ও শেখার পরিবর্তে সব কাজের জন্য এআইয়ের ওপর নির্ভর করতে শুরু করে, তখন সমস্যা তৈরি হতে পারে।

ডা. সিমস বলেন, প্রাপ্তবয়স্করা অতিরিক্ত এআইনির্ভর হয়ে পড়লে নিজের স্মৃতি থেকে তথ্য মনে করা এবং স্বাধীনভাবে বিশ্লেষণের অনুশীলন কমে যেতে পারে। নিজে চেষ্টা করে কোনো তথ্য মনে করার সময় স্মৃতির সঙ্গে সম্পর্কিত স্নায়বিক সংযোগ আরও শক্তিশালী হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।

শিশুদের ক্ষেত্রেও একই ধরনের আশঙ্কা রয়েছে। নিজেরা চেষ্টা না করে এআইয়ের মাধ্যমে সব কাজ সম্পন্ন করলে তাদের যুক্তি প্রয়োগ, মনোযোগ ধরে রাখা এবং সমস্যা সমাধানের দক্ষতা বিকাশের সুযোগ সীমিত হতে পারে।

গবেষণায় কী পাওয়া গেছে?

এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের এমআইটি মিডিয়া ল্যাবের ‘ইয়োর ব্রেইন অন চ্যাটজিপিটি’ শীর্ষক একটি গবেষণা আলোচনায় এসেছে। গবেষকেরা ইলেকট্রোএনসেফালোগ্রাফি (ইইজি) পদ্ধতির সাহায্যে অংশগ্রহণকারীদের মস্তিষ্কের বৈদ্যুতিক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় একদল চ্যাটজিপিটির সাহায্যে এবং অন্য দল এআই ব্যবহার না করে প্রবন্ধ লেখেন।

গবেষণায় দেখা যায়, এআইয়ের সহায়তা নেওয়া অংশগ্রহণকারীদের মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশের মধ্যে সামগ্রিক সংযোগ তুলনামূলকভাবে কম ছিল।

তবে গবেষণাটি প্রাথমিক পর্যায়ের। এর ফলাফল থেকে এআই ব্যবহারের কারণে স্থায়ীভাবে স্মৃতিশক্তি কমে যায় কিংবা মস্তিষ্কের শারীরিক ক্ষতি হয়—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না।

ডা. সিমসও সতর্ক করে বলেছেন, এআই ব্যবহারের ফলে স্থায়ী স্মৃতিশক্তি হ্রাস বা মস্তিষ্কের শারীরিক ক্ষতি হয়, এমন দাবির পক্ষে এখনো পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।

প্রযুক্তি হোক শেখার সহায়ক

বিশেষজ্ঞদের মতে, শেখার ক্ষেত্রে এআইকে সহায়ক হিসেবে ব্যবহার করা এবং পুরো শেখার প্রক্রিয়াটি এআইয়ের হাতে ছেড়ে দেওয়া এক বিষয় নয়।

এআইয়ের দেওয়া তথ্য যাচাই করা, পাল্টা প্রশ্ন করা, উত্তর বিশ্লেষণ করা এবং নিজে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করার অভ্যাস গুরুত্বপূর্ণ। এতে প্রযুক্তির সুবিধা নেওয়ার পাশাপাশি নিজের চিন্তা ও স্মৃতিশক্তি ব্যবহারের সুযোগও বজায় থাকে।

প্রযুক্তিকে মানুষের চিন্তাশক্তির বিকল্প না বানিয়ে সহায়ক হিসেবে ব্যবহার করাই হতে পারে কার্যকর পথ।

১২৯ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০















সর্বশেষ সব খবর
প্রযুক্তি নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০


বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০