সর্বশেষ

ধর্ম

ধূমপান করলে কি অজু ভেঙে যায়?

ডেস্ক রিপোর্ট
ডেস্ক রিপোর্ট

সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬ ১০:২০ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
অজু করার পর অনেকেরই বিড়ি বা সিগারেট খাওয়ার অভ্যাস রয়েছে। এ নিয়ে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের মনে প্রশ্ন জাগে, ধূমপান করলে কি অজু নষ্ট হয়ে যায়? ধূমপানের পর সেই অজু দিয়ে নামাজ আদায় করা যাবে কি? ইসলামি ফিকহশাস্ত্র অনুযায়ী, ধূমপান করলে অজু ভাঙে না। তবে ধূমপানের কারণে সৃষ্ট দুর্গন্ধ নিয়ে নামাজ পড়া ও মসজিদে যাওয়ার ক্ষেত্রে কিছু বিধিনিষেধ রয়েছে।

ইসলামি শরিয়তে অজু ভঙ্গের নির্দিষ্ট কিছু কারণ রয়েছে। সাধারণভাবে শরীর থেকে নির্দিষ্ট পথ দিয়ে কোনো কিছু বের হওয়া কিংবা জ্ঞান ও চেতনার অবস্থা পরিবর্তিত হওয়ার কারণে অজু নষ্ট হয়। ফিকহশাস্ত্রের নির্ভরযোগ্য গ্রন্থ অনুসারে অজু ভঙ্গের প্রধান কারণগুলো হলো—

১. মল-মূত্রের রাস্তা দিয়ে কোনো কিছু বের হওয়া।

২. মুখের লালার সঙ্গে সমপরিমাণ বা তার চেয়ে বেশি রক্ত বের হওয়া।

৩. চিত হয়ে, কাত হয়ে বা কোনো কিছুর সঙ্গে হেলান দিয়ে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হওয়া।

৪. পাগল হয়ে যাওয়া।

৫. মাতাল বা নেশাগ্রস্ত হওয়া।

৬. জ্ঞান হারিয়ে ফেলা।

৭. নামাজের মধ্যে উচ্চস্বরে হাসা (জানাজার নামাজ ছাড়া)।

বিড়ি বা সিগারেট খাওয়ার কারণে শরীর থেকে অজু ভঙ্গকারী কোনো বস্তু নির্গত হয় না। তাই শুধু ধূমপানের কারণে অজু নষ্ট হয় না। এ বিষয়ে ‘রদ্দুল মুহতার’ (১/১৪৪) ও ‘ফাতাওয়ায়ে আলমগিরি’ (১/১২)-তে অজু ভঙ্গের কারণগুলো উল্লেখ করা হয়েছে।

অজু না ভাঙলেও ধূমপান কেন অনুচিত?

ধূমপানের কারণে অজু নষ্ট না হলেও এটি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর এবং আর্থিক অপচয়ের কারণ। ইসলাম মানুষের জীবন, স্বাস্থ্য ও সম্পদের সুরক্ষাকে গুরুত্ব দিয়েছে। জেনেশুনে নিজের ক্ষতি করা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ রয়েছে পবিত্র কোরআনে।

আল্লাহ বলেন—

وَلَا تُلْقُوا بِأَيْدِيكُمْ إِلَى التَّهْلُكَةِ

অর্থ: ‘তোমরা নিজেদের হাতে নিজেদের ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিও না।’ (সুরা বাকারা, আয়াত ১৯৫)

ধূমপানের দুর্গন্ধ নিয়ে নামাজ পড়া যাবে?

ধূমপানের পর মুখ ও শরীরে যে দুর্গন্ধ তৈরি হয়, তা অন্যদের জন্য অস্বস্তি ও কষ্টের কারণ হতে পারে। ইসলাম অন্যকে কষ্ট দেওয়া থেকে বিরত থাকার শিক্ষা দেয়।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালের ওপর ইমান রাখে, সে যেন তার প্রতিবেশীকে কষ্ট না দেয়।’ (সহিহ বুখারি)

ধূমপানের কারণে অজু ভাঙে না বলে সেই অজু দিয়ে নামাজ আদায় করা যায়। তবে মুখে ও শরীরে দুর্গন্ধ থাকা অবস্থায় নামাজে দাঁড়ানো অনুচিত। নামাজের আগে ভালোভাবে কুলি করা, মেসওয়াক বা দাঁত ব্রাশ করা এবং দুর্গন্ধ দূর করা উচিত।

দুর্গন্ধ নিয়ে মসজিদে প্রবেশের বিধান

পেঁয়াজ ও রসুন খাওয়ার পর মুখে দুর্গন্ধ থাকলে মসজিদে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। কারণ, এতে মুসল্লি ও ফেরেশতাদের কষ্ট হতে পারে। ধূমপানের দুর্গন্ধও অন্যদের জন্য বিরক্তির কারণ হওয়ায় তা দূর না করে মসজিদে প্রবেশ করা উচিত নয়।

তাই ধূমপানের পর জামাতে নামাজ আদায় করতে চাইলে আগে মুখ ও শরীরের দুর্গন্ধ দূর করা জরুরি।

ধূমপায়ীদের জন্য পরামর্শ

ধূমপানের অভ্যাস একবারে ত্যাগ করা কঠিন হলেও এ কারণে নামাজ বা জামাত থেকে দূরে থাকা উচিত নয়। বরং ধূমপান ছাড়ার জন্য আন্তরিকভাবে চেষ্টা করতে হবে।

নামাজ ও মসজিদে যাওয়ার আগে দাঁত ব্রাশ করা, মেসওয়াক ব্যবহার করা এবং ভালোভাবে কুলি করে মুখের দুর্গন্ধ দূর করা উচিত। একই সঙ্গে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা ও অন্যের অসুবিধার বিষয়টি বিবেচনায় রাখা জরুরি।

ইসলামে পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা ইবাদতের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই ধূমপানের ক্ষতিকর অভ্যাস পরিহার করে সুস্থ জীবনযাপন এবং পরিচ্ছন্নতার প্রতি যত্নশীল হওয়া প্রত্যেকের জন্য কল্যাণকর।

১২৯ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০















সর্বশেষ সব খবর
ধর্ম নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০


বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০