শেকৃবির গবেষণার মাঠে স্থাপনা গুঁড়িয়ে চাষ করলেন শিক্ষার্থীরা
সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬ ৯:২৪ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
গবেষণার মাঠ ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে আন্দোলনের অংশ হিসেবে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) পুরাতন বাণিজ্য মেলার মাঠে থাকা অবশিষ্ট স্থাপনা ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খামারের ট্রাক্টর দিয়ে মাঠটি চাষ করেন তাঁরা। সরকারি সিদ্ধান্তে ওই মাঠে সচিবালয় স্থাপনের উদ্যোগের প্রতিবাদে এ কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা।
সোমবার (২ নভেম্বর) সকাল ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা চত্বরে জড়ো হন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খামার থেকে দুটি ট্রাক্টর নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন তাঁরা। মিছিলটি পুরাতন বাণিজ্য মেলার মাঠে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে মেলার অবশিষ্ট স্থাপনাগুলো ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়ার পর ট্রাক্টর দিয়ে মাঠ চাষ করেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।
এর আগে পুরাতন বাণিজ্য মেলার মাঠে সচিবালয় স্থাপনের সরকারি সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে আসছিলেন শেকৃবির শিক্ষার্থীরা। তাঁদের দাবি, মাঠটি শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পদ নয়, রাজধানীর এই অঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সবুজ এলাকা। সেখানে সচিবালয় নির্মাণ করা হলে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী রাফিউর রহমান রুহান বলেন, ‘ঐতিহাসিক এই গবেষণার মাঠে সচিবালয় স্থাপন করা হলে এই এলাকার জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হয়ে যাবে। মাঠটি আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়কে ফিরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি এখানে সবুজায়ন বজায় রাখাই এই অঞ্চলকে বাঁচানোর একমাত্র উপায়।’
মাঠে মেলার অবশিষ্ট স্থাপনা থাকার জন্য আয়োজক কমিটির দীর্ঘসূত্রিতা ও গাফিলতিকে দায়ী করছেন শিক্ষার্থীরা। তাঁদের অভিযোগ, সরকারি সিদ্ধান্তে মেলা স্থগিত হওয়ার পর আয়োজক কমিটি এক দিনের মধ্যে স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিল। তবে সেই আশ্বাস বাস্তবায়ন করা হয়নি। বরং বিভিন্ন মহলে যোগাযোগ করে সময়ক্ষেপণ ও সমঝোতার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
মেলার একটি স্টলের কর্মচারী রিফাত রহমান বলেন, ‘মেলা বন্ধের ঘোষণা আসার পর আমরা আমাদের জিনিসপত্র নিয়ে চলে যেতে চেয়েছিলাম। কিন্তু মেলা কমিটি আমাদের বাধা দেওয়ায় আমরা চলে যেতে পারিনি।’
এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. আরফান আলী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে শিক্ষার্থীদের শান্ত করার চেষ্টা করেন।
তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা তাদের ন্যায্য দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। আমরা বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গেই ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে শিক্ষার্থীদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করছি।’
গবেষণার মাঠ পুনরুদ্ধার এবং সবুজ পরিবেশ সংরক্ষণের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে।
১১৯ বার পড়া হয়েছে