সর্বশেষ

আন্তর্জাতিক

‘ভয়াবহ ধসের’ মুখে ইসরায়েল, সতর্ক করলেন সাবেক সেনা কর্মকর্তা

ডেস্ক রিপোর্ট
ডেস্ক রিপোর্ট

সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬ ৫:৫৩ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী, অর্থনীতি ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো অপূরণীয় সংকটের মুখে পড়েছে বলে সতর্ক করেছেন দেশটির অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল ইতজাক ব্রিক। আন্তর্জাতিক বৈধতা ও মিত্রদের সমর্থন হারানোর কথা উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, দীর্ঘস্থায়ী আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতা ইসরায়েলের পক্ষে সামাল দেওয়া কঠিন হবে।

রোববার (১ নভেম্বর) ইসরায়েলের সংবাদমাধ্যম মারিভে প্রকাশিত এক মতামত নিবন্ধে দেশটির বর্তমান পরিস্থিতিকে রাজনৈতিক সংকটের চেয়েও গুরুতর বলে উল্লেখ করেন ইতজাক ব্রিক। তাঁর মতে, ইসরায়েল এখন সামগ্রিক রাষ্ট্রীয় ধসের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

গত মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত সংসদীয় নির্বাচনের ফলাফলকে ‘আমরা যেভাবে জানতাম, সেই ইসরায়েল রাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক মৃত্যু সনদ’ বলে অভিহিত করেন তিনি। ব্রিকের অভিযোগ, টেলিভিশন বিশ্লেষকেরা আসনসংখ্যা ও জোট গঠনের হিসাব নিয়ে ব্যস্ত থাকলেও দেশের গভীর সংকটগুলো উপেক্ষা করছেন। তাঁদের এই আলোচনা ‘টাইটানিকের শেষ মুহূর্তে অর্কেস্ট্রা বাজানোর মতো’ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মিলিটারি কলেজের সাবেক কমান্ডার এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সেনা অভিযোগবিষয়ক সাবেক ন্যায়পাল ব্রিক বলেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরায়েল ক্রমেই একঘরে হয়ে পড়ছে। তাঁর ভাষায়, ‘আমরা বৈধতা ও মিত্রদের হারিয়েছি।’ দীর্ঘ সময় এভাবে বিচ্ছিন্ন থাকা দেশটির জন্য বড় বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

ইসরায়েলের পদাতিক বাহিনীর কাঠামোগত দুর্বলতা ও মনোবল ভেঙে পড়ার বিষয়টিও তুলে ধরেন ব্রিক। তাঁর দাবি, অভ্যন্তরীণ ও সীমান্তের বাইরের একাধিক হুমকি মোকাবিলা করে দেশকে সুরক্ষিত রাখার সক্ষমতা সামরিক বাহিনীর কমে গেছে। ক্লান্ত ও দুর্বল সেনাবাহিনী বড় ধরনের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে কিংবা আঞ্চলিক সংঘাতের সময় বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের প্রভাবে ইসরায়েলের জাতীয় ঋণ বেড়ে ১ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন শেকেল বা ৪৪ হাজার ৫০০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে বলে উল্লেখ করেন ব্রিক। তাঁর মতে, সম্ভাব্য অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, অস্ত্র সরবরাহ সীমিত হওয়া এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক বিচ্ছিন্নতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

ইউরোপের সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞা মোকাবিলায় ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহারের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রস্তাবেরও সমালোচনা করেন তিনি। এই উদ্যোগকে অনভিজ্ঞ ও অদ্ভুত আখ্যা দিয়ে ব্রিক সতর্ক করেন, পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে ইসরায়েলি নাগরিকদের ব্যক্তিগত সঞ্চয় ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

দেশটির অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন এই সাবেক সেনা কর্মকর্তা। তাঁর ভাষায়, ইসরায়েলি সমাজে রাজনৈতিক মেরুকরণ এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে সেখানে ‘নীরব গৃহযুদ্ধ’ চলছে। তিনি দাবি করেন, চিকিৎসক, বিজ্ঞানী, প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ও অন্যান্য দক্ষ পেশাজীবীরা দেশ ছেড়ে চলে যাচ্ছেন। এর ফলে কয়েক দশকে গড়ে ওঠা দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা হারানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ব্রিকের অভিযোগ, রাজনৈতিক নিয়োগ ও অন্ধ আনুগত্যকে দক্ষতা এবং সততার চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়ায় দেশটির নেতৃত্ব আইনের শাসন ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্বল করে তুলছে।

গত ২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ১২০ আসনের নেসেটে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর জোট ৫৩টি আসন পেয়েছে। অন্যদিকে, গাডি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট পেয়েছে ৪৮টি আসন এবং আরব দলগুলো পেয়েছে ১৯টি আসন। ফলে কোনো পক্ষই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসন নিশ্চিত করতে পারেনি।

১০৯ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০















সর্বশেষ সব খবর
আন্তর্জাতিক নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০


বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০