আইজেনকোটের সঙ্গে ঐক্য সরকার গঠনে আগ্রহী নেতানিয়াহু, মধ্যস্থতায় ট্রাম্প
সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬ ৬:৫২ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
ইসরায়েলের রাজনৈতিক অচলাবস্থা কাটাতে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী গাডি আইজেনকোটের সঙ্গে জাতীয় ঐক্য সরকার গঠনের কথা বিবেচনা করছেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। প্রস্তাবিত এই সরকার গঠনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলি প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজোগ জামিনদার হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারেন। গত নির্বাচনে কোনো পক্ষ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ার পর নতুন সরকার গঠন নিয়ে আলোচনা জোরালো হয়েছে।
রোববার (১ নভেম্বর) ইসরায়েলের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম ক্যানের বরাতে এ খবর জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম দ্য নিউ আরব।
নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও ডিমোনার মেয়র বেনি বিটন রোববার সকালে বলেন, জাতীয় ঐক্য সরকার গঠনের উদ্যোগ কোনো রাজনৈতিক কৌশল বা নির্বাচনী প্রচারণার অংশ নয়। তাঁর দাবি, নেতানিয়াহু আন্তরিকভাবেই ঐক্য চান।
লিকুদ দলের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘গতকাল আমি ইসরায়েল রাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কথা বলেছি। এই চুক্তির জন্য দুজন জামিনদার থাকবেন—হারজোগ এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট। তাঁরা জনাব গাডি আইজেনকোটের পক্ষে জামিনদার হিসেবে কাজ করবেন।’
গত মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক জোটই সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। এ পরিস্থিতিতে ইতমার বেন-গভির ও বেজালেল স্মোটরিচের মতো কট্টর ডানপন্থী দুই মন্ত্রীকে বাদ দিয়ে জাতীয় ঐক্য সরকার গঠনের পরিকল্পনা সামনে এসেছে। এর আগে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ডোনাল্ড ট্রাম্পও এমন উদ্যোগকে সমর্থন করছেন।
ইসরায়েলি প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজোগ রাজনৈতিক দলগুলোকে নমনীয় হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে আরেকটি নির্বাচন এড়াতে সমঝোতায় পৌঁছানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
বেনি বিটন বিরোধী দলের নেতাদেরও আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, গাডি আইজেনকোট, অবিগডোর লিবারম্যান ও নাফতালি বেনেটসহ সব পক্ষের উচিত নিজেদের অহংকার সরিয়ে রেখে আলোচনার টেবিলে বসা। তাঁর মতে, নির্বাচনী প্রচারণা শেষ হয়েছে, এখন সমঝোতার মাধ্যমে সরকার গঠনের সময়।
নেসেটের স্পিকার পরিবর্তনের বিষয়ে একতরফা উদ্যোগের বিরুদ্ধেও সতর্ক করেছেন বিটন। তিনি বলেন, সব দলের সম্মতিতে স্পিকার নিয়োগে আপত্তি নেই। তবে একতরফাভাবে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তা যুদ্ধ ঘোষণার শামিল হবে। এ ধরনের পদক্ষেপকে তিনি রাজনৈতিক ‘লাল রেখা’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
বিটন আরও সতর্ক করেন, জাতীয় ঐক্য সরকার গঠন করা সম্ভব না হলে ইসরায়েলকে আবারও নির্বাচনের মুখোমুখি হতে হবে। তাঁর মতে, লিকুদ পার্টিকে বাদ দিয়ে গঠিত কোনো সরকার দীর্ঘস্থায়ী হবে না এবং ছয় মাসের বেশি টিকে থাকার সম্ভাবনা কম।
অন্যদিকে, আরব দলগুলোর সমর্থন নিয়ে সরকার গঠনের বিকল্প প্রস্তাব বিরোধী দলগুলো প্রত্যাখ্যান করেছে। তবে জয়েন্ট লিস্ট ও ইউনাইটেড আরব লিস্ট বা রা’আম পার্টি গাডি আইজেনকোটকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেওয়ার জন্য প্রেসিডেন্টের কাছে সুপারিশ করতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন জয়েন্ট লিস্টের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা।
ইসরায়েলের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এখন সরকার গঠন, সম্ভাব্য সমঝোতা ও নতুন নির্বাচন এড়ানোর বিষয়গুলোই আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে।
১১০ বার পড়া হয়েছে