কুমিল্লা বোর্ডের ১৫ কলেজে পাস করেননি কেউ
শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬ ১১:৫৮ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষার ফলাফলে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের ১৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেননি। বিপরীতে, বোর্ডের অধীনে মাত্র চারটি কলেজে শতভাগ শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছেন। শূন্য পাসের এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে শিগগিরই ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে শিক্ষা বোর্ড।
কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে এবার এইচএসসি পরীক্ষায় পাসের হার ৪৮ দশমিক ০৪ শতাংশ। এ বছর বোর্ডের অধীনে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৯২ হাজার ১৬২ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৪৪ হাজার ৭২৭ জন। অন্যদিকে, অকৃতকার্য হয়েছেন ৪৭ হাজার ৪৩৫ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১ হাজার ৩১৩ জন।
গত পাঁচ বছরের মধ্যে এবার বোর্ডটির পাসের হার ও জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যা সর্বনিম্ন। প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, ১৫টি কলেজের কোনো শিক্ষার্থীই উত্তীর্ণ হতে পারেননি।
শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬ সালের ২ জুলাই অনুষ্ঠিত এইচএসসি পরীক্ষায় কুমিল্লা, চাঁদপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ফেনী, নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুর জেলার ৪৫৬টি কলেজের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। মোট ১৯৩টি কেন্দ্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।
যে ১৫টি কলেজে কেউ পাস করেননি
শূন্য পাসের তালিকায় রয়েছে চাঁদপুর সদরের চাঁদপুর পৌর শহীদ জাবেদ উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ, মতলব দক্ষিণের ড. এম শামসুল হক মডেল কলেজ, কুমিল্লার লালমাই সুরুজ মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ, চৌদ্দগ্রামের বগৈর গার্লস হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং ব্রাহ্মণপাড়ার প্রফেসর সিকান্দার আলী ভূঁইয়া গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ।
এ ছাড়া ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের জিনদপুর ইউনিয়ন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও বীরগাঁও স্কুল অ্যান্ড কলেজ, লক্ষ্মীপুরের ক্যামব্রিজ সিটি কলেজ, কমলনগরের তুরাবগঞ্জ হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ফজু মিয়ার হাট হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ, সদরের বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. মমতাজ উদ্দীন আলোকিত কলেজ ও লক্ষ্মীপুর পুলিশ লাইনস স্কুল অ্যান্ড কলেজ রয়েছে এ তালিকায়।
অন্যদিকে, ফেনী সদরের বেগম শামসুন্নাহার গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও বিকন মডেল কলেজ এবং নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের আপার মডেল কলেজ থেকেও কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেননি।
কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে এবার শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছেন মাত্র চারটি কলেজের। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো কুমিল্লা সদরের ময়নামতি ইংলিশ স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মেঘনা উপজেলার মুজাফফ আলী হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ, কুমিল্লা ক্যাডেট কলেজ এবং ফেনী গার্লস ক্যাডেট কলেজ।
কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, এবার ইংরেজি ও উচ্চতর গণিতে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় সামগ্রিক ফলাফলে প্রভাব পড়েছে। এর উল্লেখযোগ্য কারণ হিসেবে শিক্ষার্থীদের মুঠোফোনে আসক্তি, কয়েকটি আন্দোলন এবং পরীক্ষা পদ্ধতির পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করেন তিনি। পাশাপাশি নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা নেওয়াকেও ফলাফলের অন্যতম প্রভাবক হিসেবে বিবেচনা করছেন তিনি।
পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক আরও বলেন, শূন্য পাসের ১৫টি কলেজকে শিগগিরই কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে এইচএসসি পরীক্ষায় পাসের হার ছিল ৪৮ দশমিক ৮৬ শতাংশ। ওই বছর জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন ২ হাজার ৭০৭ জন শিক্ষার্থী। সেই হিসাবে গত বছরের তুলনায় এবার পাসের হার কমেছে এবং জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা অর্ধেকেরও বেশি কমেছে।
১২১ বার পড়া হয়েছে