সর্বশেষ

সাহিত্য

গুলশানে এইমাত্র কার্যালয়ে কবিদের প্রাণবন্ত আড্ডা, কবিতায় মিলল হৃদয়ের সেতুবন্ধ

স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬ ৬:৫৬ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
রাজধানীর নাগরিক ব্যস্ততা, যানজট আর কোলাহলের বাইরে কবিতার নির্মল আবহে একদিনের জন্য যেন গড়ে উঠেছিল ভিন্ন এক জগৎ। শব্দের সঙ্গে শব্দের মিতালি, ছন্দের দোলায় অনুভূতির প্রকাশ আর কবিতাকে ঘিরে হৃদয়ের নিবিড় সংযোগ—এমনই এক সাহিত্যিক আবহে রাজধানীর গুলশানের নিকেতনে সংবাদভিত্তিক অনলাইন পোর্টাল এইমাত্র কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে কবি আড্ডা।
এইমাত্র পত্রিকা কার্যালয়ে আয়োজিত দ্বিতীয় কবি আড্ডায় কবিতার বন্ধনে এক ফ্রেমে কবিবৃন্দ।

রোববার দিনব্যাপী এ আয়োজনে স্বরচিত কবিতা আবৃত্তি, সাহিত্য-আলাপ ও পারস্পরিক ভাববিনিময়ে মেতে ওঠেন কবিরা। এটি ছিল তাঁদের দ্বিতীয় কবিতা আড্ডা।

কবিতার প্রতি ভালোবাসা, সৃজনশীলতার চর্চা এবং সাহিত্যের মধ্য দিয়ে মানুষের সঙ্গে মানুষের আত্মিক সংযোগ স্থাপনের প্রত্যয়ে আয়োজিত এ আড্ডায় অংশ নেন বিশিষ্ট কবি শাহানারা ঝরনা, নাহিদ নাহিদা, গুলশান চৌধুরী, উম্মুল খায়ের, হোসনে আরা বেগম, শিরিন আক্তার শীলা, ইভ ফারহানা নার্গিস ও লাকি জাদু। কবিদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরো আয়োজন হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত।

এইমাত্র পত্রিকার দ্বিতীয় কবি আড্ডার উদ্দেশ্য, তাৎপর্য ও প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরছেন কবি গুলশান চৌধুরী।

আয়োজনের শুরুতেই কবি গুলশান চৌধুরী কবি আড্ডার উদ্দেশ্য, তাৎপর্য ও প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে আধুনিক নগরজীবনের ব্যস্ততার মধ্যে সৃজনশীল মানুষের নিজস্ব জগৎ নির্মাণ, মানসিক প্রশান্তি লাভ এবং শিল্প-সাহিত্যের মাধ্যমে জীবনের সৌন্দর্য আবিষ্কারের কথা।

গুলশান চৌধুরী বলেন, কর্মব্যস্ত জীবনের নানা সমস্যা ও সংকট মোকাবিলা করে একটু সুখ কিংবা শান্তি পেতে কে না চায়! প্রত্যেক মানুষই নিজের মতো করে একটি নিজস্ব ভাবনার জগৎ তৈরি করেন। তবে সৃজনশীল মানুষের চিন্তা ও অনুভবের জগৎ বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। তাঁদের সৃষ্টিশীলতা কেবল ব্যক্তিগত অনুভূতির প্রকাশ নয়, বরং সমাজ, দেশ ও মানুষের জীবনকে নানাভাবে প্রভাবিত করার শক্তিও ধারণ করে।

তিনি আরও বলেন, কবিতা আড্ডা মূলত সৃজনশীল মানুষের মিলনমেলা। যাঁরা নিজেদের বুদ্ধিমত্তা, মনন ও অনুভূতির আলোকে সমাজ, দেশ এবং মানুষের জীবনকে নতুনভাবে দেখতে শেখান, তাঁদের সৃষ্টিশীল ভাবনার আদান-প্রদানের জন্য এমন আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ।

রাজধানীর ব্যস্ততা, যানজট, শব্দদূষণ ও প্রতিদিনের কর্মচাপের মধ্যে কবিতার জন্য আলাদা করে সময় বের করা নিঃসন্দেহে কঠিন। তারপরও মানসিক প্রশান্তি ও আত্মিক পরিতৃপ্তির প্রত্যাশায় কবিদের একত্র হওয়া এক বিশেষ প্রাপ্তি বলে মনে করেন তিনি।

গুলশান চৌধুরীর ভাষায়, কবি আড্ডা নিছক সময় কাটানোর আয়োজন নয়; এটি এক কবির সঙ্গে আরেক কবির মনের ভাব বিনিময়ের পরিসর। এখানে অনুভূতি ভাগাভাগি হয়, চিন্তার নতুন দুয়ার খুলে যায়, তৈরি হয় পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সৃষ্টির নতুন সম্ভাবনা। এমন আয়োজন মানুষের মনে প্রশান্তি এনে দেওয়ার পাশাপাশি সাহিত্যচর্চাকে আরও গতিশীল করতে পারে।

এইমাত্র পত্রিকা কার্যালয়ে আয়োজিত কবি আড্ডায় স্বরচিত কবিতা আবৃত্তি করছেন কবি শাহানারা ঝরনা।

কবি আড্ডার মূল আকর্ষণ ছিল কবিদের স্বরচিত কবিতা পাঠ। প্রত্যেক কবির নিজস্ব অনুভব, জীবনদর্শন, অভিজ্ঞতা ও কল্পনার জগৎ তাঁদের কবিতায় ভিন্ন ভিন্ন মাত্রায় প্রকাশ পায়। কারও কবিতায় ব্যক্তিগত অনুভূতির কোমল অনুরণন, কারও লেখায় জীবনের নানা উপলব্ধি, আবার কারও সৃষ্টিতে ধরা পড়ে চারপাশের মানুষ ও সমাজকে দেখার স্বতন্ত্র দৃষ্টিভঙ্গি।

কবিতার ভাষা ও ছন্দের মধ্য দিয়ে কবিরা নিজেদের ভাবনা তুলে ধরেন। কবিতা পাঠের পাশাপাশি চলে সাহিত্য নিয়ে আলোচনা, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং সৃষ্টিশীলতার নানা দিক নিয়ে কথোপকথন। এভাবেই আড্ডাটি কেবল কবিতা শোনানো কিংবা শোনার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং কবিদের পারস্পরিক পরিচয়, ভাবনার বিনিময় ও সাহিত্যিক সম্পর্ককে আরও গভীর করার সুযোগ তৈরি করেছে।

কবিতার ছন্দে ও শব্দের মায়ায় নিজের অনুভূতি প্রকাশ করছেন কবি নাহিদ নাহিদা। ছবিটি এইমাত্র পত্রিকার কবি আড্ডার।

সাহিত্যের অন্যতম শক্তি মানুষের অনুভূতিকে অন্য মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া। কবিতা সেই কাজটি করে শব্দের নান্দনিক বিন্যাসে, কখনো রূপকের আশ্রয়ে, কখনো সরল উচ্চারণে। কবি আড্ডার এমন পরিবেশে প্রত্যেকের নিজস্ব কণ্ঠস্বর যেমন প্রকাশের সুযোগ পায়, তেমনি অন্যের অনুভব ও অভিজ্ঞতার সঙ্গে পরিচিত হওয়ার পথও উন্মুক্ত হয়।

যান্ত্রিক নগরজীবনে মানুষ প্রতিনিয়ত সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলেছে। পেশাগত দায়িত্ব, ব্যক্তিগত ব্যস্ততা ও নানামুখী চাপের মধ্যে নিজের মনোজগৎকে সময় দেওয়ার সুযোগ ক্রমেই সীমিত হয়ে আসছে। অথচ মানুষের সৃজনশীল সত্তার বিকাশ এবং মানসিক প্রশান্তির জন্য প্রয়োজন এমন একটি পরিসর, যেখানে দৈনন্দিন জীবনের হিসাব-নিকাশের বাইরে গিয়ে অনুভূতি ও চিন্তাকে প্রকাশ করা যায়।

এইমাত্র পত্রিকার কবি আড্ডায় নিজের লেখা কবিতা আবৃত্তি করছেন কবি হোসনে আরা বেগম।

কবিতা আড্ডা সেই পরিসর তৈরির একটি প্রয়াস। এখানে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিযোগিতার চাপ নেই; বরং আছে নিজস্ব সৃষ্টিকে অন্যের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার আনন্দ, মনোযোগ দিয়ে অন্যের কবিতা শোনার আন্তরিকতা এবং সাহিত্যকে কেন্দ্র করে একাত্ম হওয়ার সুযোগ।

কবিরা যখন নিজেদের লেখা পাঠ করেন, তখন তাঁদের ব্যক্তিগত অনুভূতিও একপর্যায়ে বৃহত্তর মানবিক অভিজ্ঞতার অংশ হয়ে ওঠে। একজনের কবিতায় অন্যজন খুঁজে পেতে পারেন নিজের জীবনের কোনো স্মৃতি, কোনো অপূর্ণতা কিংবা কোনো অনুচ্চারিত আকাঙ্ক্ষার প্রতিধ্বনি। এভাবেই কবিতা ব্যক্তিমানুষের সীমানা অতিক্রম করে সম্মিলিত অনুভবের ভাষা হয়ে ওঠে।

কবিতার পঙ্‌ক্তিতে অনুভূতি ও কল্পনার প্রকাশ ঘটাচ্ছেন কবি উম্মুল খায়ের। ছবিটি রাজধানীর গুলশানের নিকেতনে আয়োজিত কবি আড্ডার।

এইমাত্র কার্যালয়ের কবি আড্ডায় এমন সাহিত্যিক ও মানবিক সংযোগের পরিবেশই ছিল আয়োজনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। কবিতাকে কেন্দ্র করে একত্র হওয়া কবিরা তাঁদের সৃজনশীল চর্চার পাশাপাশি পরস্পরের সঙ্গে সময় ভাগ করে নেওয়ার সুযোগ পান।

আয়োজনের একপর্যায়ে এইমাত্র পত্রিকার সম্পাদক রনজক রিজভী কবি আড্ডাকে নিয়মিত আয়োজন হিসেবে এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তাঁর মতে, সাহিত্য ও সংস্কৃতির বিকাশে সৃজনশীল মানুষের পারস্পরিক যোগাযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত এমন আয়োজনের মধ্য দিয়ে কবিরা নিজেদের নতুন সৃষ্টি তুলে ধরার সুযোগ পাবেন; একই সঙ্গে গড়ে উঠবে সাহিত্যচর্চার একটি আন্তরিক ও সক্রিয় পরিসর।

নিজের কবিতায় অনুভূতি ও সৃজনশীলতার প্রকাশ ঘটাচ্ছেন কবি ইভ ফারহানা নার্গিস। ছবিটি এইমাত্র পত্রিকার দ্বিতীয় কবি আড্ডার।

তিনি অংশগ্রহণকারী সব কবির সৃষ্টিকর্ম নিয়ে একটি সম্মিলিত প্রকাশনা প্রকাশের আহ্বান জানান। তাঁর এ প্রস্তাব কবিদের কবিতাকে বৃহত্তর পাঠকসমাজের কাছে পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি তাঁদের সৃষ্টিকে সংরক্ষণ ও প্রকাশের একটি সম্ভাবনাও সামনে নিয়ে আসে।

একটি সম্মিলিত কাব্যগ্রন্থে বিভিন্ন কবির স্বতন্ত্র কণ্ঠস্বর, জীবনবোধ ও কাব্যভাষা এক মলাটের ভেতর স্থান পেতে পারে। এতে যেমন কবিদের মধ্যে পারস্পরিক পরিচিতি বাড়বে, তেমনি পাঠকেরাও একসঙ্গে একাধিক কবির সৃষ্টির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাবেন। সাহিত্যচর্চার ধারাবাহিকতা রক্ষায় এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

কবি গুলশান চৌধুরীসহ সকল কবিদের বই উপহার দেন এইমাত্র সম্পাদক রনজক রিজভী।

আড্ডার এ পর্যায়ে রনজক রিজভী উপস্থিত কবিদের হাতে নন্দিত কবি ও প্রাবন্ধিক গাউসুর রহমানের বই উপহার দেন। বই উপহারের মধ্য দিয়ে সাহিত্যপাঠ, জ্ঞানচর্চা ও সৃষ্টিশীলতার প্রতি অনুরাগের একটি আন্তরিক প্রকাশ ঘটে। কবিতাকে ঘিরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বইয়ের এমন সংযোজন পুরো আয়োজনের সাহিত্যিক আবহকে আরও অর্থবহ করে তোলে।

কবিতা পাঠ ও সাহিত্য-আলোচনার পাশাপাশি ছিল নানা রকম খাবারের বৈচিত্র্যময় আয়োজন। বাহারি খাবারের পরিবেশনা আড্ডায় যোগ করে বাড়তি আনন্দ ও উৎসবের আবহ। কবিতার গাম্ভীর্য, সাহিত্য নিয়ে মননশীল আলোচনা এবং পরিচিত-অপরিচিত মানুষের সঙ্গে আন্তরিক কথোপকথনের মধ্যে খাবারের আয়োজন হয়ে ওঠে মিলনমেলার আরেকটি অনুষঙ্গ।

কবিতার আবেশে মুগ্ধতা ছড়াচ্ছেন কবি শিরিন আক্তার শীলা। এইমাত্র পত্রিকা কার্যালয়ের কবি আড্ডায় স্বরচিত কবিতা পাঠ করেন তিনি।

এ ধরনের আয়োজনের বিশেষত্ব হলো, এখানে আনুষ্ঠানিক আলোচনার পাশাপাশি অনানুষ্ঠানিক আলাপেরও যথেষ্ট সুযোগ থাকে। কবিরা নিজেদের সাহিত্যিক অভিজ্ঞতা, সৃষ্টির ভাবনা ও ব্যক্তিগত উপলব্ধি ভাগ করে নিতে পারেন সহজ পরিবেশে। সেই আন্তরিকতা সাহিত্যচর্চার সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করে এবং ভবিষ্যতে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণের সম্ভাবনা তৈরি করে।

দ্বিতীয়বারের মতো আয়োজিত এই কবি আড্ডা ছিল কবিতাকে কেন্দ্র করে একদল সৃজনশীল মানুষের মিলিত হওয়ার উপলক্ষ। স্বরচিত কবিতা পাঠ, সাহিত্য নিয়ে আলোচনা, বই উপহার এবং সম্মিলিত প্রকাশনার সম্ভাবনা—সব মিলিয়ে আয়োজনটি কবিদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সাহিত্যচর্চার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার প্রত্যাশাকে সামনে এনেছে।

স্বরচিত কবিতা আবৃত্তিতে অংশ নিচ্ছেন কবি লাকি জাদু। রাজধানীর গুলশানের নিকেতনে এইমাত্র পত্রিকা কার্যালয়ে কবিতার আয়োজনে মেতে ওঠেন তিনি।

কবিতা মানুষের মনের গভীরতম অনুভূতিকে ভাষা দেয়। কখনো তা ব্যক্তিগত বেদনার প্রকাশ, কখনো ভালোবাসার উচ্চারণ, কখনো সমাজ ও সময়কে উপলব্ধি করার এক বিশেষ মাধ্যম। সেই কবিতাকে ঘিরে মানুষের একত্র হওয়া মানে কেবল সাহিত্যচর্চা নয়; বরং মনন, অনুভূতি ও মানবিক সম্পর্কের পরিচর্যা।

এইমাত্র কার্যালয়ের কবি আড্ডাও সেই ভাবনারই একটি আন্তরিক প্রকাশ। আয়োজনে অংশ নেওয়া কবিদের পারস্পরিক ভাববিনিময়, সাহিত্যপ্রীতি এবং ভবিষ্যতে নিয়মিত আড্ডা ও সম্মিলিত প্রকাশনার প্রত্যাশা এ আয়োজনকে দিয়েছে নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত।

এইমাত্র পত্রিকা কার্যালয়ে আয়োজিত দ্বিতীয় কবি আড্ডা শেষে ফটোসেশনে অংশ নেন কবি শাহানারা ঝরনা, নাহিদ নাহিদা, গুলশান চৌধুরী, উম্মুল খায়ের, হোসনে আরা বেগম, শিরিন আক্তার শীলা, ইভ ফারহানা নার্গিস ও লাকি জাদু।

দিনব্যাপী আড্ডার শেষ পর্বে অংশগ্রহণকারী কবিরা একসঙ্গে ফটোসেশনে অংশ নেন। সম্মিলিত আলোকচিত্রের মধ্য দিয়ে শেষ হয় দ্বিতীয় কবি আড্ডার আনুষ্ঠানিকতা। তবে কবিতাকে ঘিরে যে আন্তরিকতা, নতুন সৃষ্টির যে প্রত্যাশা এবং সাহিত্যিক বন্ধনের যে অনুভব এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে প্রকাশ পেয়েছে, তা ভবিষ্যতের আরও আয়োজনের পথ তৈরি করবে—এমন প্রত্যাশা রইল অংশগ্রহণকারী কবিদের মধ্যে।

১৪৬ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০















সর্বশেষ সব খবর
সাহিত্য নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০


বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০