আগামী বছরেই শুরু হচ্ছে ৩৫ হাজার কোটি টাকার পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণ প্রকল্প
রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১১:১২ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
আগামী বছরের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে বহুল প্রতীক্ষিত পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণ প্রকল্পের প্রথম পর্বের কাজ শুরু হতে যাচ্ছে। প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা প্রাথমিক ব্যয়ে নির্মিত এই মেগা প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রায় সাত কোটি মানুষের আর্থসামাজিক পরিবর্তন আসবে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি।
রোববার দুপুরে পাবনার সুজানগর উপজেলার সাতবাড়িয়া কাঞ্চন পার্ক সংলগ্ন পদ্মাপাড়ে প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন শেষে এক আলোচনায় পানিসম্পদ মন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি জানান, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই এই ঐতিহাসিক ও মাস্টারমাইন্ড প্রকল্পটি গ্রহণের সাহসী উদ্যোগ নিয়েছে। পুরো প্রকল্পটি দুটি ধাপে সম্পন্ন করতে মোট খরচ হতে পারে ৫০ থেকে ৫৫ হাজার কোটি টাকা।
প্রকল্পের কারিগরি দিক তুলে ধরে প্রকল্প পরিচালক হাসান মাহমুদ জানান, আগামী দেড় বছরের মধ্যে সব ধরনের সম্ভাব্যতা যাচাই সম্পন্ন করা হবে। এই ব্যারাজ নির্মাণের ফলে উজানে প্রায় ১৬৫ কিলোমিটার নদীর অংশে পানি সংরক্ষণ সম্ভব হবে। এতে পানির উচ্চতা ও চাপ বাড়বে, যা বিবেচনায় রেখে পাবনাসহ সংশ্লিষ্ট এলাকার শহররক্ষা বাঁধের উচ্চতা ও সক্ষমতা বাড়ানো হবে। তবে বর্ষাকালে ব্যারাজের ৭৮টি গেট খোলা রাখা হবে, ফলে বন্যার ঝুঁকি থাকবে না।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম, মধ্য-পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের খুলনা, ঢাকা, রাজশাহী ও বরিশাল বিভাগের ১৯টি জেলা এই প্রকল্পের সুফল পাবে। প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হলো হিসনা-মাথাভাঙ্গা, গড়াই-মধুমতি, চন্দনা-বারাশিয়া, বড়াল ও ইছামতী নদীর প্রবাহ ও নাব্যতা পুনরুদ্ধার করা। এছাড়া এটি গঙ্গা-কপোতাক্ষ (জি-কে) সেচ প্রকল্প ও প্রস্তাবিত উত্তর রাজশাহী সেচ প্রকল্পে সেচ সুবিধা প্রসারে বড় ভূমিকা রাখবে।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) অধীনে শতভাগ সরকারি অর্থায়নে ২০২৬ সালের জুলাই থেকে ২০ ৩৩ সালের জুন মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে। অনুষ্ঠানে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, স্থায়ী কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শফিকুল হক মিলন এবং স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
১১০ বার পড়া হয়েছে