মাদকের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান আইজিপির
রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১১:০৯ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
বিগত ১৭ বছরে সরকারিভাবে পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে দেশের পাড়ায় পাড়ায় মাদকের আখড়া তৈরি করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। তিনি বলেন, মাদক নির্মূলে পুলিশসহ সমাজের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে সরকারকে সহযোগিতা করারও আহ্বান জানান তিনি।
বিগত ১৭ বছরে সরকারিভাবে পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় মাদকের আখড়া গড়ে তোলা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। তিনি বলেন, দেশে পুলিশের সদস্যসংখ্যা মাত্র ২ লাখ ১৫ হাজার। চলতি বছরে ২০ হাজার পুলিশ সদস্য নিয়োগের পরিকল্পনা থাকলেও একসঙ্গে এত সদস্যকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত অবকাঠামো নেই। এ জন্য নতুন প্রশিক্ষণকেন্দ্র তৈরি করতে হবে।
রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে বাগেরহাট পুলিশ লাইনস মিলনায়তনে মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, কিশোর গ্যাং ও উগ্রবাদবিরোধী কমিউনিটি পুলিশিং সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আইজিপি বলেন, দেশের উন্নয়নে কোনো সংক্ষিপ্ত পথ নেই। সবাই মিলে সরকারকে সহযোগিতা না করলে দেশের অগ্রগতি সম্ভব নয়। শান্তি, সমৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের (ওসি) নিয়ে বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানান মো. আলী হোসেন ফকির। তিনি বলেন, জেলা থেকে ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত এ কমিটির কার্যক্রম থাকবে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানেন, কার সন্তান কী করছে। তাঁদের দেওয়া তথ্যের মাধ্যমে কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য কমানো সম্ভব হবে।
সাইবার অপরাধ প্রতিরোধেও দক্ষ সাইবার ইউনিট গঠন করা হয়েছে বলে জানান আইজিপি। এই ইউনিট গুজব ও সংঘবদ্ধ জনতার সহিংসতা বা মব ঠেকাতে কাজ করবে।
দেশে তরুণদের অপরাধে জড়িয়ে পড়ার পেছনে বেকারত্বকে অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন পুলিশপ্রধান। তিনি বলেন, প্রতিবছর দেশে ২৭ লাখ বেকার যুক্ত হচ্ছেন। তাঁদের মধ্যে হতাশা তৈরি হচ্ছে। তরুণদের মধ্যে থাকা কর্মশক্তি কাজে লাগানো যাচ্ছে না। অন্যদিকে ব্যবসায়ীরা বিনিয়োগ না করে ব্যাংকে টাকা জমা রাখছেন। বিনিয়োগ না এলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে না।
মাদকের সঙ্গে জড়িত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান আইজিপি। তিনি বলেন, “গত দুই মাসে আমি ২৭ জন পুলিশ সদস্যকে জেলে পাঠিয়েছি মাদকের কারণে।” মাদকবিরোধী কার্যক্রমের আগে পুলিশ বাহিনীর ভেতরের অপরাধ দূর করার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি এ বিষয়ে তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহযোগিতা করার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার বিষয়ে আইজিপি বলেন, “গুজব, আপা আসবে, কে আসবে আর না আসবে, তা নিয়ে আমাদের প্রশাসনের, কমিউনিটি পুলিশের কোনো ভাবনা নেই।”
বাগেরহাটের পুলিশ সুপার মো. জামিলুর ইসলামের সভাপতিত্বে সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মো. রেজাউল করিম, বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন, সরকারি পিসি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক পারভীন আক্তার, বাগেরহাট প্রেসক্লাবের সভাপতি আবু সাইদ শুনু এবং হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের নেতা প্রদীপ বসু শন্তুসহ জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।
সমাবেশে উপস্থিত সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, কিশোর গ্যাং ও উগ্রবাদ প্রতিরোধে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
১১৪ বার পড়া হয়েছে