পটুয়াখালীতে বন বিভাগের ২৫ একর জমি দখল করে তরমুজ চাষ, মামলা
রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১০:০৪ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার চরবিশ্বাস এলাকায় বন বিভাগের ২৫ একর বনভূমি এক বছরের জন্য কটকবলা দিয়ে তরমুজ চাষের প্রস্তুতি নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বিএনপি নেত্রী রেনু আক্তারের ছোট ভাই শাহিন হাওলাদারের বিরুদ্ধে বনভূমি অন্যদের কাছে কটকবলা দেওয়ার অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বন বিভাগের অভিযোগ, ওই জমিতে খননযন্ত্র দিয়ে প্রায় ৫০০ কেওড়া ও ছৈলা গাছ উপড়ে ফেলা হয়েছে। এ ঘটনায় শাহিন হাওলাদারসহ চারজনের বিরুদ্ধে গলাচিপা থানায় মামলা করেছে বন বিভাগ। এর আগে একই অভিযোগে আদালতে মামলা ও থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছিল।
পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার চরবিশ্বাস এলাকায় বন বিভাগের বনায়ন ধ্বংস করে তরমুজ চাষের প্রস্তুতি নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বন বিভাগের খতিয়ানভুক্ত ২৫ একর জমি স্থানীয় কয়েকজনের কাছে এক বছরের জন্য কটকবলা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে শাহিন হাওলাদারের বিরুদ্ধে। তিনি উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক রেনু আক্তারের ছোট ভাই।
বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, দক্ষিণ চরবিশ্বাস এলাকায় বনভূমি দখলে নিয়ে মাটি কেটে বেড়িবাঁধ নির্মাণের পাশাপাশি গাছপালা ধ্বংস করা হচ্ছে। এ ঘটনায় শাহিন হাওলাদারসহ চারজনের বিরুদ্ধে গত বৃহস্পতিবার গলাচিপা থানায় মামলা করেন উপজেলা বন বিভাগের ডেপুটি রেঞ্জার ও চরআগস্তি বনায়নের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আঃ বারীক।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেল তিনটার দিকে শাহিন হাওলাদার (৪২), মো. ফারুক (৫৫), মো. আজাদ তালুকদার (৫০), মো. রহিম (৪৫) এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৮ থেকে ১০ জন চরবিশ্বাস ইউনিয়নের চরআগস্তি এলাকার ম্যানগ্রোভ বাগানে প্রবেশ করেন। এ সময় তাঁরা খননযন্ত্র দিয়ে প্রায় ৫০০ কেওড়া ও ছৈলা গাছ উপড়ে ফেলেন। পরে তরমুজ চাষের জন্য জমিতে মাটি কেটে বেড়িবাঁধ নির্মাণ করেন।
এজাহারে আরও বলা হয়েছে, খবর পেয়ে বিকেল পাঁচটার দিকে বন বিভাগের লোকজন ঘটনাস্থলে গেলে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা তাঁদের অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে সেখান থেকে চলে যেতে বাধ্য করেন। নিরাপত্তার কারণে বন বিভাগের কর্মীরা পরে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
বন বিভাগের দাবি, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ওই এলাকায় ৭৫ হেক্টর জমিতে বনায়ন করা হয়েছিল। এসব গাছের বয়স প্রায় ১২ বছর। এর মধ্যে প্রায় ২৫ একর বনভূমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
বন বিভাগের কর্মকর্তা মো. আঃ বারীক বলেন, একই ব্যক্তিরা গত ২ অক্টোবর ওই বনভূমিতে প্রবেশ করে খননযন্ত্র দিয়ে প্রায় ১০ লাখ টাকা মূল্যের গাছ উপড়ে ফেলেছিলেন। এ ঘটনায় তাঁদের বিরুদ্ধে বন আইনে মামলা ও গলাচিপা থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়। কিন্তু এরপরও বনভূমিতে প্রবেশ করে গাছ কাটা ও মাটি সরানোর কাজ বন্ধ হয়নি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, আগের ঘটনায় বাধা দিতে গেলে শাহিন হাওলাদার ও তাঁর লোকজন বন বিভাগের কর্মীদের বাধা দেন এবং লাঞ্ছিত করে ভয়ভীতি দেখান।
গলাচিপা উপজেলা বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা নয়ন মিস্ত্রী বলেন, দক্ষিণ চরবিশ্বাস এলাকায় বন বিভাগের বনায়ন ধ্বংস করে তরমুজ চাষের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় আগে মামলা ও সাধারণ ডায়েরি করা হলেও মাটি কাটার কাজ অব্যাহত ছিল। পরে একই ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নতুন করে মামলা করা হয়েছে।
বনভূমিতে তরমুজ চাষের অভিযোগ স্বীকার করেছেন মামলার এজাহারভুক্ত আসামি মো. আজাদ তালুকদার। তাঁর দাবি, শাহিন হাওলাদার উপজেলা প্রশাসন থেকে ওই জমি বন্দোবস্ত নেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। পরে তিনি শাহিনের কাছ থেকে এক বছরের জন্য বনভূমি কটকবলা নেন।
আজাদ তালুকদার বলেন, তরমুজ চাষের জন্য তিনি এক বছরের মেয়াদে ৩০ একর বনভূমি নিয়েছেন। এ জন্য প্রতি একর ২০ হাজার টাকা হিসাবে শাহিন হাওলাদারকে অগ্রিম ৬৫ হাজার টাকা দিয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন। তাঁর ভাষ্য, আরও কয়েকজন শাহিন হাওলাদারের কাছ থেকে একইভাবে জমি নিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে শাহিন হাওলাদারের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।
তবে তাঁর বোন ও গলাচিপা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক রেনু আক্তার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বন বিভাগের গাছ কেটে তরমুজখেত তৈরির বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। এ বিষয়ে তাঁর ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন তিনি।
গলাচিপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, চরবিশ্বাস এলাকায় বনায়ন ধ্বংস করে মাটি কাটার ঘটনায় বন বিভাগ মামলা করেছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ সক্রিয় রয়েছে।
১১০ বার পড়া হয়েছে