মোংলা কাস্টমসের কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ, অপসারণের দাবি
রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬ ৭:৩১ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
মোংলা কাস্টমস হাউসের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ, দুর্নীতি, অনিয়ম ও ব্যবসায়ীদের হয়রানির অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছেন ব্যবসায়ীরা। রোববার দুপুরে মোংলা কাস্টমস হাউসের সামনে এ কর্মসূচি পালন করেন তাঁরা। পরে ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া এবং তাঁকে বর্তমান কর্মস্থল থেকে অপসারণের দাবিতে কাস্টমস কমিশনারের কাছে স্মারকলিপি দেন ব্যবসায়ীরা।
মোংলা কাস্টমস হাউসের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ, দুর্নীতি, অনিয়ম ও ব্যবসায়ীদের হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের প্রতিবাদ এবং তাঁর অপসারণের দাবিতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছেন ব্যবসায়ীরা।
রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে মোংলা কাস্টমস হাউসের সামনে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। পরে অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে কাস্টমস কমিশনার মো. গিয়াস কামালের কাছে স্মারকলিপি দেন ব্যবসায়ীরা।
বিক্ষোভ ও মানববন্ধনে অংশ নেওয়া ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, আব্দুল্লাহ আল মামুন দীর্ঘদিন ধরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নাম ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তার করছেন। বিভিন্ন অজুহাতে ব্যবসায়ীদের হয়রানি করার পাশাপাশি তাঁদের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করেন তিনি।
ব্যবসায়ীদের আরও অভিযোগ, মোংলা বন্দরে আসা বিদেশি জাহাজের ক্যাপ্টেনদের কাছ থেকে জোরপূর্বক ডলার, হুইস্কি ও সিগারেট আদায় করেন ওই কর্মকর্তা। পরে এসব সামগ্রী অবৈধভাবে বিক্রি করার অভিযোগও তুলেছেন তাঁরা। এ ছাড়া জাহাজের আগমনসংক্রান্ত তথ্য ও ছাড়পত্র কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত আইজিএম শাখায় অনিয়ম, ব্যবসায়ীদের সঙ্গে অসদাচরণ এবং অনৈতিক সুবিধা দাবি করার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
অভিযোগকারীরা বলেন, বৈধ পণ্য খালাসের জন্য আসা ব্যবসায়ী, কস্ট অ্যান্ড ফ্রেইট (সিঅ্যান্ডএফ) এজেন্ট এবং শিপ চ্যান্ডলারদের বিভিন্ন অজুহাতে হয়রানি করা হয়। নতুন ভেন্ডার লাইসেন্স দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। অনৈতিক সুবিধা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের হুমকি দেওয়া হয় বলেও দাবি করেন তাঁরা।
বিক্ষোভকারীদের ভাষ্য, এ ধরনের কর্মকাণ্ডের কারণে মোংলা বন্দরের ব্যবসায়িক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। নতুন ব্যবসায়ীরা বন্দর ব্যবহারে আগ্রহ হারালে বাণিজ্যিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব আয়ও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই বন্দরের সুনাম ও ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষায় অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন শিপিং ব্যবসায়ী আবুল কালাম আজাদ, নুরউদ্দিন টুটুল, কামাল হোসেন, মো. শামিম, মো. ইউসুফ, মো. সেলিম, মো. মামুন ভুইয়া, মো. সুমন মল্লিক, মো. আল-আমিন, মো. বেল্লাল হোসেন, মো. মহসিন পাটোয়ারী, মো. সোহাগ ও মো. রাজ বাপ্পা।
বক্তারা অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে অবিলম্বে বর্তমান কর্মস্থল থেকে অপসারণের দাবি জানান। পরে ব্যবসায়ীরা কাস্টমস কমিশনার মো. গিয়াস কামালের সঙ্গে দেখা করে তাঁর কাছে স্মারকলিপি দেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ আল মামুনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
মোংলা কাস্টমস হাউসের কমিশনার মো. গিয়াস কামাল ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, অভিযোগগুলো তদন্ত করে এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
১৭৭ বার পড়া হয়েছে