সর্বশেষ

আন্তর্জাতিক

ফ্রান্সজুড়ে বিক্ষোভের আশঙ্কা, ৭০ হাজার পুলিশ মোতায়েন

ডেস্ক রিপোর্ট
ডেস্ক রিপোর্ট

শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ৭:১৭ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
গত সপ্তাহে ভয়াবহ দাঙ্গার পর আবারও বড় ধরনের বিক্ষোভের আশঙ্কায় ফ্রান্সজুড়ে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। শনিবারের বিক্ষোভ ঘিরে দেশটির বিভিন্ন এলাকায় ৭০ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হলেও প্যারিসসহ বিভিন্ন শহরে কয়েক লাখ মানুষের সমাগম হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গত সপ্তাহের সহিংসতার রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন করে বিক্ষোভের প্রস্তুতি নিচ্ছেন ফ্রান্সের শিক্ষার্থী, শ্রমিক ইউনিয়ন ও সরকারবিরোধী বিভিন্ন সংগঠনের সদস্যরা। শনিবার দ্বিতীয় দফায় এ কর্মসূচি পালনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। সম্ভাব্য সহিংসতা ও ভাঙচুর ঠেকাতে দেশজুড়ে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

গত ১৭ অক্টোবরের দাঙ্গার ব্যাপকতা আগে থেকে অনুমান করতে না পারায় সরকারের সমালোচনা হয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে এবার নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে।

ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ বলেছেন, ‘আমরা কোনো কিছুই বিনা চ্যালেঞ্জে ছেড়ে দেব না।’ তিনি জানান, ভাঙচুর, লুটপাট ও সহিংসতায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিকল্পিত বিক্ষোভের বাইরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উগ্র বামপন্থী বিভিন্ন গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে সহিংসতার আহ্বানও দেখা গেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

গত কয়েক দিনে দ্রুত বিচার কার্যক্রমের আওতায় ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনায় কয়েক শ মানুষকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

শনিবারের কর্মসূচির আগে শুক্রবার শিক্ষার্থী প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ। বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থী নেতারা। তবে তাঁরা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

চলতি সপ্তাহের শুরুতে মাখোঁ ঘোষণা দেন, শনিবার শুধু স্বীকৃত শ্রমিক ইউনিয়নগুলোর আয়োজিত বিক্ষোভের অনুমতি দেওয়া হবে। লিওঁ, নিস ও মনপেলিয়েরসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শহরে সব ধরনের সমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

তবে এসব বিধিনিষেধের মধ্যেও দেশজুড়ে ছোট-বড় শত শত বিক্ষোভের পরিকল্পনা করা হয়েছে। গত সপ্তাহের সহিংসতার পর ফ্রান্সের কয়েকটি শহরে আংশিক কারফিউ জারি করা হয়েছিল, যার আওতায় রাজধানী প্যারিসের কিছু এলাকাও ছিল।

বিক্ষোভের অনুমতি নিয়ে শহরভেদে ভিন্ন সিদ্ধান্ত দেখা যাচ্ছে। কিছু শহরের মেয়র ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখেছেন। অন্যদিকে, কিছু এলাকায় কর্তৃপক্ষের কাছে নিবন্ধিত কর্মসূচির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। মার্সেইয়ে সব ধরনের বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করার আগের নির্দেশ প্রত্যাহার করে শ্রমিক ইউনিয়নের আয়োজিত মিছিলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

প্যারিসে শিক্ষার্থী ইউনিয়ন ও শ্রমিক সংগঠনগুলোর সমর্থনে আয়োজিত মিছিলকে শহরের কেন্দ্রীয় এলাকা এড়িয়ে নির্ধারিত পথে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এরপরও গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে নতুন করে সহিংসতা ও লুটপাটের আশঙ্কায় সতর্ক রয়েছে কর্তৃপক্ষ।

সম্ভাব্য সহিংসতা ও লুটপাটের আশঙ্কায় শনিবার প্যারিসের ল্যুভর, ওরসে ও পিকাসো জাদুঘর বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ফুটবল ক্লাব প্যারিস সাঁ জারমাঁর (পিএসজি) নির্ধারিত ঘরের মাঠের ম্যাচও সোমবারে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া সম্ভাব্য লুটপাট থেকে সম্পদ রক্ষায় বেশ কিছু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান তাদের দোকানের জানালায় কাঠের পাটাতন লাগিয়েছে। গত সপ্তাহের অস্থিরতার অভিজ্ঞতা থেকে এবার আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে ব্যবসায়ীরা।

শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে শুরু হওয়া বিক্ষোভ ক্রমেই বৃহত্তর সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নিচ্ছে। শনিবারের কর্মসূচিতে পুনরুজ্জীবিত ‘ইয়েলো ভেস্ট’ আন্দোলনের সমর্থকদেরও উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁর প্রথম মেয়াদে এই আন্দোলন ফ্রান্সজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভের সৃষ্টি করেছিল এবং জনজীবনে বিঘ্ন ঘটিয়েছিল। আন্দোলনটিতে বাম ও ডান—উভয় রাজনৈতিক ধারার সমর্থকেরাই যুক্ত হয়েছিলেন।

আন্দোলনটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি ওয়েবসাইটে শনিবারের জন্য ৫০০টির বেশি বিক্ষোভ এবং আরও প্রায় ২০০টি কর্মসূচির তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। এসব কর্মসূচি থেকে মাখোঁর পদত্যাগ দাবি করা হয়েছে।

অনলাইনে দেওয়া আহ্বানে আন্দোলনকারীরা ১৭ অক্টোবরের সহিংসতার নিন্দায় অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। একই সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশের হামলার অভিযোগও তুলেছে তারা।

গত সপ্তাহের দাঙ্গায় ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে ব্যাপক ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। সে সময় অনেক এলাকায় বিক্ষোভকারী ও দাঙ্গাকারীদের তুলনায় পুলিশ সদস্যের সংখ্যা কম ছিল। লিমোজ শহরের ঊনবিংশ শতাব্দীর একটি ঐতিহাসিক টাউন হল পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

শুক্রবার ফ্রান্সের বিচারমন্ত্রী জেরাল্ড দারমানিন জানান, ১৭ অক্টোবরের দাঙ্গায় জড়িত থাকার অভিযোগে ২৩২ জনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া এক হাজার ১০০ জনের বেশি মানুষকে আদালতে হাজির করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে প্রায় ২৬০ জনের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের কার্যক্রমে যুক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে।

লুটপাট কিংবা পুলিশের ওপর হামলার দায়ে দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি চেয়ে আবেদন করতে কৌঁসুলিদের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারমন্ত্রী। সম্ভাব্য শাস্তির মধ্যে বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা, ভোটাধিকার প্রত্যাহার এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে বিধিনিষেধ আরোপের মতো ব্যবস্থাও থাকতে পারে।

গত সপ্তাহের সহিংসতার পর নতুন করে বিক্ষোভের প্রস্তুতি ফ্রান্স সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শনিবারের কর্মসূচিতে পরিস্থিতি কতটা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়, সেদিকে নজর রয়েছে দেশটির প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের।

১০৯ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০















সর্বশেষ সব খবর
আন্তর্জাতিক নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০


বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০