কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শয্যা ১ হাজারে উন্নীতের উদ্যোগ
রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:২৩ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা ১ হাজারে উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। একই সঙ্গে হাসপাতালের বিদ্যমান সমস্যার সমাধান এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিভিন্ন সমস্যা সমাধান এবং চিকিৎসাসেবার মান উন্নয়নে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। হাসপাতালটির শয্যাসংখ্যা ১ হাজারে উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়ার আশাবাদও ব্যক্ত করেছেন তিনি।
শনিবার (১০ অক্টোবর) কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নতুন অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ইন্টার্ন সমাপনী অনুষ্ঠান (কুম-২৯) ও ডাক্তার পুনর্মিলনী-২০২৬ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি হিসেবেও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
মন্ত্রী বলেন, মেডিকেল কলেজের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সরবরাহে সরকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করছে। কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম বরাদ্দের বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করা হবে।
সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসা সরঞ্জামের যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, যন্ত্রপাতি দীর্ঘদিন সচল রাখতে সংশ্লিষ্টদের যত্নবান হতে হবে। বেসরকারি হাসপাতাল ও চিকিৎসকদের চেম্বারে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতির মতো সরকারি প্রতিষ্ঠানের যন্ত্রপাতিও নির্ধারিত কার্যকাল পর্যন্ত সচল রাখার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
চিকিৎসকদের রোগীদের প্রতি আরও আন্তরিক ও মানবিক হওয়ার আহ্বান জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, রোগীরা চিকিৎসকের কাছে গিয়ে তাঁদের শারীরিক সমস্যার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ পাওয়ার প্রত্যাশা করেন। রোগীদের পর্যাপ্ত সময় দেওয়া ও তাঁদের সমস্যাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে শোনার মাধ্যমে চিকিৎসকেরা রোগীদের মনে আস্থা ও মানসিক স্বস্তি তৈরি করতে পারেন। চিকিৎসার পাশাপাশি মানবিক আচরণও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
পরিবেশদূষণ ও খাদ্যের গুণগত মান মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলে উল্লেখ করে মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা এবং ক্ষতিকর কীটনাশকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে সরকার কাজ করছে। মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ক্ষতিকর কীটনাশক নিয়ন্ত্রণে পর্যায়ক্রমে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
নবীন চিকিৎসকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, রোগীদের শুধু ওষুধ দিলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। কীভাবে সুস্থ থাকা যায়, সে বিষয়েও তাঁদের সচেতন করতে হবে। বিশেষ করে নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাবার গ্রহণের গুরুত্ব সম্পর্কে মানুষকে পরামর্শ দিতে হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, ওষুধের প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার না করেও খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপনে ইতিবাচক পরিবর্তনের মাধ্যমে অনেক রোগের ঝুঁকি কমানো সম্ভব। নিরাপদ খাদ্য গ্রহণের গুরুত্ব সম্পর্কে চিকিৎসকেরা মানুষকে সচেতন করতে পারলে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
চিকিৎসা পেশায় নবীনদের দায়িত্বশীলতা ও মানবিকতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, রোগীদের প্রতি আন্তরিক আচরণের মাধ্যমে চিকিৎসকদের মানুষের আস্থা অর্জন করতে হবে। আগামী প্রজন্মের জন্য সুন্দর পৃথিবী গড়ে তুলতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. মাছুম হাছানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. ইউসুফ মোল্লা টিপু। এ সময় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
১১০ বার পড়া হয়েছে