অটোরিকশাচালকই তাজমিনকে ধর্ষণের পর হত্যা করেছে: পুলিশ
শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬ ৫:২৫ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
কুমিল্লায় সপ্তম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় অটোরিকশাচালক সুমন একাই জড়িত বলে জানিয়েছে পুলিশ। হত্যার পর শিক্ষার্থীর মুঠোফোন নিয়ে পালিয়ে যান তিনি। শুক্রবার চট্টগ্রাম থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীর মুঠোফোন উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
কুমিল্লায় সপ্তম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় অটোরিকশাচালক সুমন একাই জড়িত বলে দাবি করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার সকালে জেলার লালমাই উপজেলার একটি ফসলি জমি থেকে ওই শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর তদন্তে নেমে শুক্রবার চট্টগ্রাম থেকে সুমনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
শনিবার সকাল সোয়া ১০টার দিকে কুমিল্লার পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) পংকজ বড়ুয়া।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন রাতে কুমিল্লা নগরের পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকা থেকে ৩০০ টাকা ভাড়ায় অটোরিকশায় ওঠেন ওই শিক্ষার্থী। তাঁকে নগরের রেসকোর্স এলাকার বাসায় পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে অন্য স্থানে নিয়ে যান চালক। সেখানে তাঁকে ধর্ষণের পর গলায় গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করা হয়। পরে ধানখেতে মাথা চেপে ধরে মৃত্যু নিশ্চিত করে পালিয়ে যান সুমন।
পুলিশ জানায়, সুমনের বাড়ি চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলায়। কয়েক বছর আগে বিয়ে করে তিনি কুমিল্লার লালমাই উপজেলার জয়নগর গ্রামে ঘরজামাই হিসেবে বসবাস শুরু করেন।
পুলিশ জানায়, অটোরিকশার নিবন্ধনের সূত্র ধরে গাড়ির মালিক হিসেবে লালমাই উপজেলার আবুল হাসেমকে শনাক্ত করা হয়। বৃহস্পতিবার রাতে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অটোরিকশাচালক সুমনের পরিচয় জানতে পারে পুলিশ।
পরে শুক্রবার চট্টগ্রাম থেকে সুমনকে গ্রেপ্তার করে কুমিল্লায় আনা হয়। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁর দেখানো মতে নগরের উপকণ্ঠের বাখরাবাদ এলাকা থেকে শিক্ষার্থীর মুঠোফোন উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার পেরুল উত্তর ইউনিয়নের জগৎপুর গ্রামের একটি ফসলি জমি থেকে ওই শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে শিক্ষার্থীর মুঠোফোনের কললিস্টসহ বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। এতে তাঁর চলাচল সম্পর্কে বেশ কিছু তথ্য পাওয়া যায়।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ৪ অক্টোবর বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয় ওই শিক্ষার্থী। তবে মুঠোফোনের কললিস্ট বিশ্লেষণ করে পুলিশ জানতে পারে, সেদিন তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গিয়েছিলেন। পরদিন ৫ অক্টোবর কুমিল্লায় ফিরে ভোররাতে কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা হন।
৭ অক্টোবর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কক্সবাজার থেকে রওনা হয়ে রাত সাড়ে ১০টার দিকে কুমিল্লার পদুয়ার বাজারে নূরজাহান হোটেলের সামনে নামেন তিনি। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, সিসিটিভি ফুটেজে তাঁকে একটি গাড়ি থেকে একা নামতে দেখা যায়। আশপাশের কয়েকটি ক্যামেরার ফুটেজে মুঠোফোন হাতে ও কাঁধে ব্যাগ নিয়ে তাঁকে ঘোরাফেরা করতেও দেখা গেছে। পরে তিনি সড়কের দিকে চলে গেলে আর ক্যামেরায় তাঁর চলাচল ধরা পড়েনি।
মরদেহ উদ্ধারের পর ওই শিক্ষার্থীর বাবা সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, বুধবার গভীর রাতে তাঁর মেয়ে মুঠোফোনে বার্তা ও সরাসরি অবস্থানের তথ্য পাঠিয়ে আটকে রাখার কথা জানায়। একই সঙ্গে তাঁকে উদ্ধারের অনুরোধ করে। তবে ওই সময় তিনি ঘুমিয়ে ছিলেন।
ভোরে ঘুম থেকে উঠে মেয়ের পাঠানো বার্তা দেখতে পান তিনি। পরে সরাসরি অবস্থানের তথ্য অনুসরণ করে সেখানে গিয়ে মেয়ের মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি জানতে পারেন।
১২৭ বার পড়া হয়েছে