সেনাবাহিনীর ভুয়া পরিচয়ে তরুণীদের সঙ্গে প্রতারণা, কুয়াকাটায় যুবকের কারাদণ্ড
শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬ ৬:৫০ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় নিজেকে সেনাবাহিনীর সদস্য পরিচয় দিয়ে তরুণীদের প্রেমের ফাঁদে ফেলার অভিযোগে আব্দুল জলিল (২২) নামে এক যুবককে এক বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। বুধবার রাতে কুয়াকাটার একটি আবাসিক হোটেল থেকে পুলিশ তাকে আটক করার পর এই সাজা দেওয়া হয়। মূলত পেশায় জেলে হলেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সেনাবাহিনীর ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণা চালিয়ে আসছিলেন এই যুবক।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দণ্ডপ্রাপ্ত আব্দুল জলিল কুয়াকাটা পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইনসান উদ্দিনের ছেলে। পেশায় জেলে হলেও তিনি টিকটকে সেনাবাহিনীর ভুয়া আইডি খুলে নিজেকে সেনা সদস্য হিসেবে প্রচার করতেন। সেখানে সেনা পোশাক পরিহিত বিভিন্ন ছবি ব্যবহার করে দেশের বিভিন্ন এলাকার সরল স্বভাবের তরুণীদের প্রেমের ফাঁদে ফেলতেন তিনি।
সম্প্রতি বাগেরহাট এলাকার এক তরুণীকে প্রেমের জালে জড়িয়ে গত বুধবার কুয়াকাটার 'হোটেল মারওয়া' নামক একটি আবাসিক হোটেলে নিয়ে আসেন জলিল। এদিকে যুবকের সেনাবাহিনীর পরিচয় নিয়ে সন্দেহ তৈরি হওয়ায় তরুণীর পরিবারের সদস্যরা তাদের অবস্থান শনাক্ত করেন। পরে তারা সরাসরি কুয়াকাটায় এসে স্থানীয় পুলিশকে খবর দিলে মহিপুর থানা পুলিশ তাকে আটক করে।
অভিযান শেষে কলাপাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইয়াসীন সাদিক ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। তিনি দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ১৭০ ধারায় সরকারি কর্মকর্তার পরিচয় ধারণ করে প্রতারণা করার অপরাধে জলিলকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন।
গ্রেপ্তারকৃত জলিলের স্ত্রী তামান্না বেগম সাংবাদিকদের জানান, তার স্বামী এর আগেও একাধিক তরুণীকে একইভাবে প্রেমের ফাঁদে ফেলে কুয়াকাটায় নিয়ে এসেছিলেন। পাঁচ বছরের দাম্পত্য জীবনে তাদের ঘরে একটি সন্তান রয়েছে এবং স্বামীর এহেন প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড ও পারিবারিক নির্যাতনের কারণে তিনি দীর্ঘদিন ধরে চরম মানসিক যন্ত্রণায় ভুগছেন।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জানান, সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করা একটি মারাত্মক ও দণ্ডনীয় অপরাধ। এমন প্রতারণার বিষয়ে সাধারণ মানুষকে সচেতন থাকার এবং যেকোনো সন্দেহজনক ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে প্রশাসনকে অবহিত করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
১১০ বার পড়া হয়েছে