সাংবাদিকতা নিয়ে ছাত্রদল নেতার স্ট্যাটাসে নরসিংদীতে তীব্র ক্ষোভ
শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬ ৩:২২ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
সাংবাদিকদের নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে নরসিংদী জেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মাজহারুল ইসলামের বিরুদ্ধে। তাঁর ওই পোস্ট ছড়িয়ে পড়ার পর জেলার সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সাংবাদিক নেতারা মন্তব্যটির নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
নরসিংদী জেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মাজহারুল ইসলাম ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘কিছু কিছু সাংবাদিক দেখলে মনে হয় বাবা-মায়ের সব থেকে অকর্মা সন্তানগুলোই সাংবাদিক হয়।’ তাঁর এই মন্তব্যকে সাংবাদিকদের প্রতি অবমাননাকর হিসেবে দেখছেন জেলার সাংবাদিকেরা।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাতে নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে স্ট্যাটাসটি দেন মাজহারুল ইসলাম। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পোস্টটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এ নিয়ে সাংবাদিকদের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
মাজহারুল ইসলামের ছাত্রদলের পদ-পদবি সম্পর্কে নরসিংদী জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রিফাত জানান, তিনি জেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও নরসিংদী কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
জানা গেছে, নরসিংদীর মনোহরদীতে একটি পুকুরে ‘জলপরী’ দেখা গেছে—এমন গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ভিডিও ও পোস্ট প্রচারিত হয়। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় মানুষের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়। এ ঘটনা নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমেও প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসের বিষয়ে জানতে চাইলে মাজহারুল ইসলাম বলেন, সব সাংবাদিক সৎ কিংবা ভালো নন। তিনি সব সাংবাদিককে উদ্দেশ করে মন্তব্যটি করেননি, বরং কিছু সাংবাদিককে উদ্দেশ করে বলেছেন।
‘জলপরী পাওয়া গেছে’—এমন কোনো সংবাদ মূলধারার সাংবাদিকেরা প্রকাশ করেছেন কি না, জানতে চাইলে মাজহারুল ইসলাম বলেন, তিনি পুরো সংবাদ বা ভিডিও দেখেননি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্ক্রল করার সময় যতটুকু সামনে এসেছে, ততটুকুই দেখেছেন।
এদিকে মাজহারুল ইসলামের ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড ও রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন অভিযোগের কথাও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, নরসিংদীর আলোকবালী এলাকায় তাঁর ইট, বালু ও সিমেন্টের ব্যবসা রয়েছে। স্থানীয় কেউ বাড়িঘর নির্মাণ করতে গেলে তাঁর কাছ থেকে এসব নির্মাণসামগ্রী নিতে বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তাঁর নির্ধারিত দামে বা তাঁর কাছ থেকে নির্মাণসামগ্রী না নিলে বাড়িঘর বা স্থাপনা নির্মাণে বাধার পাশাপাশি চাঁদা দাবির অভিযোগও রয়েছে। এ ছাড়া মাদক সেবন ও মাদক ব্যবসায় পরোক্ষভাবে মদদ দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়ার মতো তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই।
নরসিংদী প্রেস ক্লাবের সভাপতি মাখন দাস এ মন্তব্যের নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, সাংবাদিক সমাজকে অবমাননা করে এ ধরনের মন্তব্য প্রত্যাশিত নয়। যাঁরা কনটেন্ট নির্মাতা ও সাংবাদিকদের এক করে দেখেন, তাঁরাই এ ধরনের শব্দচয়ন করে স্ট্যাটাস দিতে পারেন। সাংবাদিকেরা সমাজের দর্পণ।
তিনি আরও বলেন, এ মন্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছেন তাঁরা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাংবাদিকদের নিয়ে এমন মন্তব্যের ঘটনায় নরসিংদীর সাংবাদিক মহলে ক্ষোভ ও সমালোচনা অব্যাহত রয়েছে।
১২২ বার পড়া হয়েছে