সর্বশেষ

খেলা

আফগানিস্তানের বিপক্ষে নতুন চ্যালেঞ্জে বাংলাদেশ

স্পোর্টস রিপোর্টার
স্পোর্টস রিপোর্টার

শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬ ৫:৩৮ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঐতিহাসিক টেস্ট জয়ের পর ছন্দ হারিয়েছে বাংলাদেশ। এবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে মাঠে নামছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। নিরপেক্ষ ভেন্যুতে প্রথমবারের মতো টেস্ট খেলতে নামা বাংলাদেশের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রচণ্ড গরম ও নতুন কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া। পাশাপাশি ব্যাটিংয়ে লিটন দাস ও মুশফিকুর রহিমের ফর্ম নিয়েও রয়েছে দুশ্চিন্তা।

আবুধাবিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট দিয়ে জয়ের ধারায় ফেরার লক্ষ্য বাংলাদেশের। এর আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতের মাটিতে এশিয়া কাপে পাকিস্তানকে হারানোর স্মৃতি রয়েছে বাংলাদেশের। শারজাহ ও দুবাইয়ে ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টি খেলার অভিজ্ঞতাও আছে দলের। তবে এবারই প্রথম দেশটির মাটিতে টেস্ট খেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ।

ডারউইনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঐতিহাসিক টেস্ট জয়ের পর সময়টা ভালো কাটেনি শান্ত-লিটনদের। ম্যাকাইয়ে পরের টেস্টে দেড় দিনের মধ্যেই হারতে হয় বাংলাদেশকে। এরপর জাপানে এশিয়ান গেমসে অংশ নিয়ে টানা দুটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচেও হেরেছে দল। ফলে আফগানিস্তানের বিপক্ষে এই টেস্টে জয় দিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্য বাংলাদেশের।

অভিজ্ঞতা ও টেস্ট র‍্যাঙ্কিংয়ের বিবেচনায় বাংলাদেশের অবস্থান আফগানিস্তানের চেয়ে এগিয়ে। তবে মাঠের লড়াইয়ে বড় প্রভাব ফেলতে পারে আবুধাবির আবহাওয়া। সেখানে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি থাকায় খেলোয়াড়দের জন্য কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া কঠিন হতে পারে।

বাংলাদেশের প্রধান কোচ ফিল সিমন্সের দুশ্চিন্তার জায়গাও এই আবহাওয়া। জাপান থেকে দলের ছয় ক্রিকেটার মাত্র দুই দিন আগে সতীর্থদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন। ফলে নতুন পরিবেশে নিজেদের মানিয়ে নেওয়ার জন্য খুব বেশি সময় পাননি তাঁরা।

সিমন্সের মতে, জাপান থেকে আসা ক্রিকেটারদের জন্য অল্প সময়ে আবুধাবির গরমের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়াই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। তবে অনুশীলনে খেলোয়াড়দের প্রস্তুতি সন্তোষজনক বলে মনে করছেন তিনি। তাঁর বিশ্বাস, মানসিক প্রস্তুতি ও পরিস্থিতির সঙ্গে দ্রুত খাপ খাইয়ে নেওয়ার ক্ষমতা এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আসন্ন টেস্টটি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ নয়। তবে আগামী দেড় মাসে বাংলাদেশের চারটি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ম্যাচ রয়েছে। সে কারণে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচটিকে গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতির সুযোগ হিসেবে দেখছে দল।

অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত মনে করেন, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ভালো সিরিজের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে নতুন কন্ডিশনে মানিয়ে নিতে পারবেন তাঁর সতীর্থরা। এরই মধ্যে দলের কয়েকজন ক্রিকেটার আগে গিয়ে একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছেন। সেটি আবুধাবির পরিবেশ সম্পর্কে ধারণা পেতে সহায়তা করবে বলে আশা তাঁর।

আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্টে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা মিশ্র। ২০১৯ সালে চট্টগ্রামে প্রথম দেখায় ২২৪ রানে হেরেছিল বাংলাদেশ। তবে ২০২৩ সালে মিরপুরে ৫৪৬ রানের বিশাল ব্যবধানে জিতে সেই হারের জবাব দেয় দল। দুই দলের টেস্ট লড়াইয়ে এখন জয় একটি করে।

আফগানিস্তান দলে এবার নেই অভিজ্ঞ লেগস্পিনার রশিদ খান। নতুন অধিনায়ক রহমত শাহ ও প্রধান কোচ রিচার্ড পাইবাসের অধীনে নতুনভাবে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে দলটি। বাংলাদেশের ব্যাটারদের লেগস্পিনে দুর্বলতার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে বোলিং আক্রমণ সাজানোর ইঙ্গিতও রয়েছে আফগানদের।

দল থেকে বাদ পড়েছেন দুই বাঁহাতি স্পিনার শরাফউদ্দিন আশরাফ ও নাঙ্গিয়ালিয়া খারোটি। তবে লেগস্পিনার কায়েস আহমেদ ও খলিল গুরবাজকে রাখা হয়েছে দলে। পাশাপাশি এক বছরের বেশি সময় পর অভিজ্ঞ বাঁহাতি স্পিনার জিয়া-উর-রহমানকে ফিরিয়েছে আফগানিস্তান। বোলিংয়ে বৈচিত্র্যের পাশাপাশি ব্যাটিংয়েও শক্তিশালী অবস্থান গড়তে চায় তারা।

আফগানিস্তানের ব্যাটিংয়ের শুরুতে থাকবেন সেদিকুল্লাহ অতল ও আবদুল মালিক। তিন নম্বরে ব্যাটিংয়ে নামতে পারেন আক্রমণাত্মক ব্যাটার রহমানুল্লাহ গুরবাজ। দলটির ব্যাটিংয়ের অন্যতম ভরসা অধিনায়ক রহমত শাহ ও অভিজ্ঞ হাশমতুল্লাহ শাহিদি। অলরাউন্ডার শহিদউল্লাহ কামালও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।

অন্যদিকে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপে লিটন দাস ও মুশফিকুর রহিমের সাম্প্রতিক ফর্ম চিন্তার কারণ হয়ে উঠেছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে লিটনের শেষ পাঁচ ইনিংসে রান মাত্র ২। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে পরপর তিন টেস্ট ইনিংসে শূন্য রানে আউট হওয়ার পর এশিয়ান গেমসেও প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি তিনি।

মুশফিকুর রহিমও অস্ট্রেলিয়া সিরিজের দুই টেস্টে মোট ৭০ রান করেছেন। দলের মিডল অর্ডারের অন্যতম দুই ভরসা এই ব্যাটার। তাই আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে তাঁদের ব্যাট থেকে বড় ইনিংস প্রত্যাশা করছেন অধিনায়ক শান্ত।

শান্ত নিজেও অসুস্থতা কাটিয়ে সম্প্রতি দলের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন। ফলে তাঁর প্রস্তুতিতেও কিছুটা ঘাটতি রয়েছে। সব মিলিয়ে আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া, ব্যাটিংয়ের দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠা এবং প্রতিপক্ষের বোলিং সামলানো—এই তিন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই আবুধাবিতে ভালো ফলের আশা বাংলাদেশের।

১২৫ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০















সর্বশেষ সব খবর
খেলা নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০


বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০