ধস্তাধস্তির পরেও বাঁচতে পারলো না তাজমিন, শ্বাসরোধে হত্যার ধারণা
শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬ ৬:৪৫ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
কুমিল্লার লালমাইয়ে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিনের (১৪) মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় রহস্য ঘনীভূত হচ্ছে। উপজেলার জগতপুর গ্রামের একটি ধানক্ষেত থেকে বৃহস্পতিবার সকালে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনাস্থলের কাছ থেকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও ভ্যানিটি ব্যাগ পাওয়া গেছে। ধানক্ষেতের কয়েকটি স্থানে ধানগাছ এলোমেলো হয়ে পড়ে থাকতে দেখা গেছে। প্রাথমিকভাবে শ্বাসরোধ করে হত্যার ধারণা করছে পুলিশ। এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেছেন নিহতের বাবা।
কুমিল্লার লালমাইয়ে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিনের (১৪) মৃত্যুর ঘটনায় এখনো অনেক প্রশ্নের উত্তর মেলেনি। কক্সবাজার থেকে ফেরার পর কীভাবে সে উপজেলার জগতপুর গ্রামের নির্জন ধানক্ষেতে পৌঁছাল, তার সঙ্গে কারা ছিল এবং কী কারণে তার মৃত্যু হলো—এসব বিষয় সামনে রেখে তদন্ত করছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে জগতপুর গ্রামের একটি ধানক্ষেত থেকে তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থলের কাছেই একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও একটি ভ্যানিটি ব্যাগ পাওয়া যায়। অটোরিকশাটি জব্দ করে এর সূত্র ধরে তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ।
ঘটনাস্থল ঘুরে দেখা যায়, জগতপুর গ্রামের ভেতর দিয়ে যাওয়া নির্জন পাকা সড়কের দুই পাশে বিস্তৃত ফসলি জমি। সড়কের কাছাকাছি চার থেকে পাঁচটি ধানক্ষেতে ধানগাছ এলোমেলো হয়ে পড়ে রয়েছে। এসব চিহ্ন দেখে সেখানে দৌড়াদৌড়ি বা ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তবে এসব চিহ্নের সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা তদন্তসাপেক্ষ।
স্থানীয় বাসিন্দা রুহুল আমিন জানান, সকালে ধানক্ষেতে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা পড়ে থাকার খবর পেয়ে তিনি সেখানে যান। গাড়িটি থেকে প্রায় ২০ থেকে ৩০ গজ দূরে একটি ভ্যানিটি ব্যাগ দেখতে পান। পরে আশপাশের ধানক্ষেতে এলোমেলো ধানগাছ দেখে সামনে এগিয়ে একটি ধানক্ষেতে নারীর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। মরদেহটির মাথা কাদায় ছিল এবং গলায় গামছা প্যাঁচানো ছিল। এরপর জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশকে খবর দেন তিনি।
আরেক স্থানীয় বাসিন্দা মো. মুহিন বলেন, ধানক্ষেতের অবস্থা দেখে তাঁর মনে হয়েছে, মেয়েটি হয়তো বাঁচার চেষ্টা করেছিল। তবে কারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তা তদন্তের মাধ্যমে বেরিয়ে আসবে বলে আশা করেন তিনি। ধানক্ষেতে অটোরিকশাটি কীভাবে গেল এবং গাড়িটি হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের ব্যবহৃত কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।
নিহত জান্নাতুল তাজমিন যশোর সদর উপজেলার ছাতিয়ানতলা গ্রামের আবদুল আলীমের মেয়ে। সে কুমিল্লা নগরীর ফরিদা বিদ্যায়তনের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তার বাবা আবদুল আলীম রেনেটা ওষুধ কোম্পানির কুমিল্লা অঞ্চলে চাকরি করেন। পরিবারের সদস্যরা নগরীর রেসকোর্স এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, চার দিন আগে বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল তাজমিন। পরে সে কক্সবাজারে গিয়েছিল বলে জানা যায়। ফেরার পথে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার এলাকায় নেমেছিল সে।
ঘটনার আগের রাতে বাবার কাছে নিজের অবস্থানের লাইভ লোকেশন পাঠিয়ে তাঁকে নিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করেছিল তাজমিন। এরপর তার সঙ্গে কী ঘটেছিল, তা এখনো স্পষ্ট নয়। কক্সবাজার থেকে ফেরার পর কীভাবে সে লালমাইয়ের জগতপুর এলাকায় পৌঁছাল এবং সেখানে কার সঙ্গে ছিল, তা জানার চেষ্টা করছেন তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
বৃহস্পতিবার সকালে মরদেহ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। ময়নাতদন্ত শেষে সন্ধ্যা সাতটার দিকে স্বজনেরা মরদেহ নিয়ে যশোরের উদ্দেশে রওনা হন। যশোর সদর উপজেলার ছাতিয়ানতলা এলাকায় পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করার কথা জানিয়েছে পরিবার।
এ ঘটনায় তাজমিনের বাবা আবদুল আলীম বাদী হয়ে লালমাই থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেছেন।
কুমিল্লার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (সদর দক্ষিণ সার্কেল) মোস্তাইন বিল্লাহ বলেন, স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। সেখান থেকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাও জব্দ করা হয়েছে। নিহতের শরীরে দৃশ্যমান আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে গলায় গামছা প্যাঁচানো ছিল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।
তিনি আরও বলেন, জব্দ করা অটোরিকশাটির নিবন্ধন রয়েছে। গাড়িটির সূত্র ধরে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশের একাধিক ইউনিট কাজ করছে।
১১৪ বার পড়া হয়েছে